যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র
নাসার বিজ্ঞানীরা অবশেষে বহুল প্রতিক্ষীত গ্রহাণুর নমুনা হাতে পেয়েছেন। এ মহাজাগতিক
পাথরখণ্ড থেকে সৌরজগতের উৎপত্তি সম্পর্কে জানা যাবে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ভবিষ্যতে
পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকা বিশাল এ গ্রহাণু সম্পর্কেও বিজ্ঞানীরা জানতে পারবেন।
গতকাল রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) এই খবর
প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা সিএনএন জানান, নাসা এবারই প্রথম এমন গ্রহাণুর নমুনা সংগ্রহে
সফল হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পৃথিবীর
নিকটতম গ্রহাণু বেন্নু থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে ওসিরিস-রেক্স নামের একটি মহাকাশযান পাঠায়
বিজ্ঞানীরা। উৎক্ষেপণের সাত বছর পর যেটি গতকাল নমুনা সংগ্রহ করে ফিরে এসেছে।
২০১৬ সালে যানটি মহাকাশে পাঠানো হয়,
২০১৮ সাল থেকে গ্রহাণুটিকে প্রদক্ষিণ শুরু করে। এরপর ২০২০ সালে গ্রহাণুর পিঠ থেকে নমুনা
সংগ্রহ করে এবং পরের বছরের মে মাসে পৃথিবীর উদ্দেশে যাত্রা করে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন নাসার এ মহাকাশযান
মোট ৩৮৬ কোটি মাইল পথ পরিভ্রমণ করেছে। বায়ুমণ্ডলে যানটির গতি ঘণ্টায় ২৭ হাজার ৬৫০ মাইল।
নমুনা সংগ্রহে বেন্নুতে একটি ক্যাপসুল
অবতরণ করানো হয়। আনুমানিক ৮ দশমিক ৮ আউন্স গ্রহাণু শিলা ও মাটি তুলে আনা হয় বলে জানিয়েছেন
বিজ্ঞানীরা।
এর আগে জাপানও দুইবার মহাকাশের গ্রহাণু
থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে নিয়ে আসে। কিন্তু পরিমাণ তা বেন্নুর তুলনায় অনেক কম।
নমুনাবাহী ক্যাপসুলটি গতকাল নির্ধারিত
সময়ের কয়েক মিনিট আগে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ও যুক্তরাষ্ট্রের ইউটার প্রতিরক্ষা বিভাগের
প্রশিক্ষণ এলাকায় অবতরণ করে।
সংবাদমাধ্যম জানায়, বেন্নু খুবই অন্ধকার
গ্রহাণু। পৃথিবী থেকে সূর্যের আলোর প্রতিফলনের হার ৩০ শতাংশ। বেন্নু থেকে মাত্র ৪ শতাংশ।
ফলে একে দেখা বেশ কঠিন কাজ। ১৯৯৯ সালে পৃথিবী থেকে ২৯ দশমিক ৩ কোটি কিলোমিটার দূরের
এ গ্রহাণুর সন্ধান মেলে।
বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পাঁচটি
ফুটবল মাঠের সমান বেন্নুর সঙ্গে ২১৩৫ সালে পৃথিবী সংঘর্ষ হতে পারে। কাছাকাছি এসে পড়লে
পৃথিবীর অতি জোরালো অভিকর্ষ বলের টানে অনেকটাই বেঁকেচুরে যাবে গ্রহাণুটির কক্ষপথ। তারই
জেরে সরাসরি ধাক্কা মারতে পারে পৃথিবীকে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, কোটি কোটি বছর আগে যেভাবে
ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল ডাইনোসররা, বেন্নুর ধাক্কায় তেমন দশাই হতে পারে। অবশ্য কয়েক বছর
ধরে মহাকাশে গ্রহাণু ধ্বংস বা কক্ষপথ বদলে দেয়ার মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।










