উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোট ব্রিকসে যোগদানের আমন্ত্রণ পেয়েছে তিন মহাদেশের ছয় দেশ। দেশগুলো হলো সৌদি আরব, ইরান, ইথিওপিয়া, মিশর, আর্জেন্টিনা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। খবর রয়টার্স।

ব্রিকসের বর্তমান সদস্য ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। কিছুদিন ধরে এই জোটে নতুন সদস্য নেয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। কয়েক ডজন দেশও এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে ১৫তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার শেষ দিন আয়োজক দেশের প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা নতুন সদস্যের নাম ঘোষণা করেন।

এ ছয় দেশ আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত হবে।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান রামাফোসা ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।

‘বিশ্বায়নের প্রতিশ্রুতি ব্যর্থ হয়েছে’ উল্লেখ করে এ সময় লুলা জানান, উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করার সময় এসেছে। কারণ হিসেবে ‘পরমাণু যুদ্ধের ঝুঁকি’ও উল্লেখ করেন তিনি।

রামাফোসা বলেন, জোটের সম্প্রসারণ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে সদস্যরা একমত হয়েছে ও পরবর্তী ধাপগুলো অনুসরণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, একটি ন্যায্য বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে ব্রিকস। ন্যায়পরায়ণ এ বিশ্ব অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধশালী।

বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ ও বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) এক-চতুর্থাংশের অবস্থান ব্রিকস অঞ্চলে।

শীর্ষ সম্মেলনে এ সম্প্রসারণকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তার মতে, এর মাধ্যমে বৃহত্তর উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে ব্রিকসের ঐক্য ও সহযোগিতার সংকল্প ফুটে উঠেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ব্রিকসের সম্প্রসারণ বিশ শতকে প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য পুরোনো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে উদাহরণ হওয়া উচিত।

বিশ্বের সব প্রতিষ্ঠানকে পরিবর্তনশীল সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘ব্রিকসের সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ একটি বার্তা’ বলে মনে করেন তিনি।

মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য ধনী পশ্চিমাগুলোর জেটের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেয় ব্রিকস। এ কারণে অনেক দেশ এ জোটের প্রতি আগ্রহ দেখিয়ে চলেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তারা জানান, ৪০টির বেশি দেশ ব্রিকসে যোগ দিতে চেয়েছে।