বিমান দুর্ঘটনায় ভাগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিনের মৃত্যুর পর এবার সব বেসরকারি ভাড়াটে যোদ্ধাদের আনুগত্য স্বীকারের নির্দেশ দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার রাতে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে হলফনামায় স্বাক্ষর করার ডিক্রি জারি করেছেন তিনি। খবর রয়টার্স।

নিহত প্রিগোজিনের নেতৃত্বে থাকা হাজার হাজার সশস্ত্র বিদ্রোহী যোদ্ধাকে মস্কোর নিয়ন্ত্রণে আনতে এমন আদেশ দেয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রয়টার্স জানিয়েছে, ভাগনার সেনাদের বাধ্যতামূলক আনুগত্যের শপথপত্রে সই করতে নির্দেশ দেয়ার অর্থ হচ্ছে বাহিনীটিকে পুরোপুরি পুতিনের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার চেষ্টা।

রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব স্বেচ্ছাসেবককে দেশটির জাতীয় পতাকার সামনে শপথ নিতে হবে জানিয়ে ক্রেমলিনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘‌ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানে যারা সেনাবাহিনীর সঙ্গে সহায়ক হয়ে কাজ করছে তাদের বাধ্যতামূলক রাশিয়ার প্রতি আনুগত্যের হলফনামায় সই করতে হবে। সব যোদ্ধাকে অবশ্যই রাশিয়ার প্রতি আনুগত্য এবং কমান্ডার ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের আদেশ বাধ্যতামূলক মেনে চলতে হবে।’

পুতিন এমন এক সময় অনুগত্য স্বীকারের ডিক্রি জারি করেছেন যখন ভাগনার যোদ্ধারা নেতৃত্ব সংকটে পড়েছেন। রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে গত বুধবার সেন্ট পিটার্সবার্গ যাওয়ার পথে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ১০ আরোহী মারা যান। উড়োজাহাজটিতে নিহতদের তালিকায় ভাগনারপ্রধান প্রিগোজিনের নাম থাকার কথা জানিয়েছেন রুম কর্মকর্তারা। 

গত ২৩ জুন রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। পরে এক সমঝোতার মাধ্যমে প্রতিবেশী বেলারুশে পালিয়ে যান প্রিগোজিন ও তার যোদ্ধারা। তখন থেকেই ভাগনারপ্রধানের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন পুতিন। সে সময় দেশদ্রোহী ঘোষণা করে ভাগনার যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তাই প্রিগোজিনের মৃত্যুর পর ইউক্রেনসহ অনেক পশ্চিমা কর্মকর্তা হত্যার অভিযোগ তুলে বলেছেন, পুতিনের নির্দেশেই ওই বিমানটিকে ভূপাতিত করা হয়েছে। 

তবে মস্কো হত্যার অভিযোগ নাকচ করেছে। ঘটনার একদিন পর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রিগোজিনসহ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন। শোক প্রকাশের পাশাপাশি তিনি বলেছেন, ‘প্রিগোজিন একজন প্রতিভাবান লোক ছিলেন, যদিও তিনি জীবনে মারাত্মক কিছু ভুল করেছেন।’

শুক্রবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও প্রিগোজিনের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন এবং হত্যার অভিযোগকে পাতানো গল্প হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‌এ বিমান দুর্ঘটনা এবং ইয়েভজেনি প্রিগোজিনসহ উড়োজাহাজের যাত্রীদের মর্মান্তিক মৃত্যুকে ঘিরে এখন অনেক জল্পনা-কল্পনা ছড়ানো হচ্ছে। আর পশ্চিমা দেশগুলো এসব জল্পনা একটি সুপরিচিত কোণ থেকে উপস্থাপন করেছে। এগুলো সবই সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এ দুর্ঘটনা নিয়ে কথা বলার সময় অবশ্যই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কথা বলা প্রয়োজন। এখনো অনেক তথ্য আমাদের হাতে নেই। তদন্ত শেষে জানা যাবে কী কারণে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে।’