২০২৪ সালে নজিরবিহীন জলবায়ু বিপর্যয় দেখেছে বিশ্ব। বছরজুড়ে ১৫০টি ভয়াবহ দুযোর্গ হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা (ডব্লিউএমও)। বুধবার (১৯ মার্চ) প্রকাশিত ‘স্টেট অব দ্য গ্লোবাল ক্লাইমেট রিপোর্ট’-এ এসব উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চরম আবহাওয়াজনিত কারণে ২০২৪ সালটি ছিল বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক দুর্যোগে রেকর্ড ক্ষয়ক্ষতির বছর। অতি গরম ছাড়াও ঘূর্ণিঝড়, টাইফুনসহ নানা কারণে গত ১৬ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছে ২০২৪ সালে। সংখ্যায় যা আট লাখেরও বেশি।

ডব্লিউএমও জানিয়েছে, বিশ্বের ১৭৫ বছরের ইতিহাসে ২০২৪ সাল ছিল সবচেয়ে উষ্ণতম বছর। যেখানে গড় তাপমাত্রা শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়েছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের রেকর্ড তাপমাত্রার মূল কারণ ছিল ক্রমবর্ধমান গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন। যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সমুদ্রের বায়ুর দিকপরিবর্তনের ফলে শীতল লা নিনা থেকে উষ্ণ এল নিনোতে স্থানান্তর। এছাড়াও, সৌর চক্রের পরিবর্তন, একটি বিশাল আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং শীতলকারী অ্যারোসোলের পরিমাণ হ্রাসসহ কয়েকটি অন্যান্য কারণ এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

রেকর্ড তাপমাত্রা বৃদ্ধির বাইরেও বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখেছে ২০২৪। ডব্লিউএমও এর প্রতিবেদনের বরাতে সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গেল বছর ইতালিতে রেকর্ড বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যা, ভূমিধস এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রবল ঝড়ে সেনেগালে ধ্বংস হয়েছে হাজার হাজার ঘরবাড়ি। পাকিস্তান ও ব্রাজিলেও আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির পাশাপাশি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

২০২৪ সালে বৈশ্বিক উত্তাপের কারণে ঝড়গুলোও তীব্র আকার ধারণ করেছিল বলে অভিমত বিশ্লেষকদের। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ফিলিপাইনে নজিরবিহীন ছয়টি টাইফুন আঘাত হানে। হারিকেন হেলিন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার বিগ বেন্ড অঞ্চলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। অন্যদিকে ভিয়েতনামে সুপার টাইফুন ইয়াগি আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৩৬ লাখ মানুষ।

এতসব বিপর্যয় ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আরো বাড়ছে, হিমবাহ গলছে এবং অ্যান্টার্কটিকার বরফ দ্বিতীয় সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে খাদ্য সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতিও বিশাল।