পাকিস্তানে নজিরবিহীন বন্যায় বিস্তৃত এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এক বছর পরও প্রায় ৪০ লাখ শিশু নিরাপদ পানির অভাবে ভুগছে। জাতিসংঘের শিশু সংস্থার ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আজ শুক্রবার (২৫ আগস্ট) ইউনিসেফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাকিস্তানে আনুমানিক ৮০ লাখ মানুষ বন্যা কবলিত ওই সব এলাকায় বসবাস করছে। যার অর্ধেকই শিশু।

পাকিস্তানে ইউনিসেফের প্রতিনিধি আবদুল্লাহ ফাদিল বিবৃতিতে বলেছেন, বন্যা কবলিত এলাকার অরক্ষিত শিশুরা ভয়াবহ একটি বছর অতিক্রম করেছে। স্বজন, ঘরবাড়ি ও বিদ্যালয় হারিয়েছে এসব শিশুরা। বর্ষা মৌসুম ফিরে আসায় আবারো বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আরো জানানো হয়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে অনেকের কাছে এখনো পৌঁছানো যায়নি।

গত বছর পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি ও হিমবাহ গলা পানির কারণে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত এক হাজার ৬০০ জন প্রাণ হারান। যার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি শিশু। ওই বন্যায় আনুমানিক তিন কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ প্রভাবিত হয়েছিল।

দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা কবলিত হওয়ায় ওই সময় বাড়িঘর হারান লাখ লাখ মানুষ। দেখা দেয় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব।

ইউনিসেফ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওই সময় প্রায় ৩০ হাজার বিদ্যালয়, দুই হাজার স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও চার ৩০০ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার পানি কমতে শুরু করলে পানিবাহিত রোগে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়। যাদের মধ্যে অধিকংশই শিশু।