অনাস্থা ভোটে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী মিশেল বার্নিয়ে অপসারিত হওয়ার ফলশ্রুতিতে ফ্রান্সের সরকারের পতন ঘটেছে। মাত্র তিন মাস আগে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বার্নিয়েকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। গতকাল বুধবার (৪ ডিসেম্বর) ফ্রান্সের পার্লামেন্টে এমপিরা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বার্নিয়ের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছেন। খবর বিবিসি।

বার্নিয়ে বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে ভোট ছাড়াই তার বাজেট পাস করেছিলেন, যা ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে। তার এ পদক্ষেপের পর বিরোধী দলগুলো তাকে অপসারণের প্রস্তাব তোলে। যার ধারাবাহিকতায় ১৯৬২ সালের পর প্রথমবারের মতো অনাস্থা ভোটে ফ্রান্সে সরকারের পতন ঘটল।

বাজেট পাস নিয়ে কিছুদিন ধরেই ফ্রান্সে রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলছিল। জাতীয় বাজেট পাস করানো নিয়ে এ সংকট আরো জটিল হলে উগ্র ডানপন্থী ও বামপন্থী বিরোধী আইনপ্রণেতারা সরকারের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব তোলেন। প্রস্তাবটি পাস করতে ২৮৮ ভোট প্রয়োজন ছিল। মোট ৩৩১ জন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশটি আরো গভীর সংকটের মুখে পড়ল। একই সঙ্গে দেশটির আইন প্রণয়ন ক্ষমতা ও বিশাল বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতাও হুমকির মুখে পড়েছে।

অনাস্থা ভোটে হেরে যাওয়ার পর বার্নিয়ের সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য এবং যে বাজেট তার পতনের সূত্রপাত করেছিল সেটাও এখন নিষ্ক্রিয়। তবে প্রেসিডেন্ট মাখোঁ উত্তরসূরি বেছে নেয়া পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বহাল থাকতে পারেন।

ফরাসি গণমাধ্যম বলছে, বার্নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এটি হলে ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের পঞ্চম প্রজাতন্ত্র শুরুর পর থেকে তার সরকারই হবে সবচেয়ে কম সময়ের সরকার।

অনাস্থা ভোটের আগে সংসদে মিশেল বার্নিয়ে বলেন, এই (ঘাটতির) বাস্তবতা একটি অনাস্থা প্রস্তাবের জাদুর দ্বারা অদৃশ্য হবে না। বাজেট ঘাটতি যে কোনো পরবর্তী সরকারের জন্যও সমস্যার কারণ হবে।

১৯৬২ সালে জর্জ পমপিডুর সরকারের পর থেকে কোনো ফরাসি সরকার অনাস্থা ভোটে পরাজিত হয়নি। গত জুন মাসে মাখোঁ আগাম নির্বাচন দিলে একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট এবং বর্তমান সংকটের সূচনা হয়।

মাখোঁ এর আগেই বলেছিলেন যে, বুধবারের ভোটের যাই ফলাফল হোক না কেন তিনি পদত্যাগ করবেন না।

জুলাইয়ের আগে ফ্রান্সে নতুন কোনো পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারবে না। তাই সংসদে বর্তমান অচলাবস্থা অব্যাহত থাকবে।