দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানার ভয়ে আলু বিক্রি বন্ধ করেন দোকানিরা। এতে আজ রোববার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে আলু শূন্য পড়ে পুরো বাজার। ভোগান্তিতে পড়ে বাজারে আসা ক্রেতারা।

পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কয়েক ঘণ্টা পর লুকিয়ে রাখা আলু বের করে সরকার নির্ধারিত দামেই বিক্রি করেন দোকানিরা।

আজ সকালে ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার আজাদমোড় কাঁচা বাজারে সরেজমিনে এ চিত্র দেখা যায়।

ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নিতে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে আলু বিক্রি বন্ধ রেখেছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম নির্ধারণ করলেও পাইকারি বাজারে তারা সেই মূল্যে আলু কিনতে পারছেন না।

ব্যবসায়ী সুত্রে জানা গেছে, এর আগে গতকাল শনিবার সকালে বাজার মনিটরিংয়ে আসেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ সময় জানান, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে আলু বিক্রি করলে আইনের আওতায় নেয়া হবে। প্রশাসনের এমন বার্তায় আজ সকালে দোকান থেকে আলু সরিয়ে ফেলেন ব্যবসায়ীরা।

এ বাজারে দেশী জাতের আলু বিক্রি হচ্ছিল কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ও কার্ডিনাল আলু ৪০ থেকে ৫০ টাকা। দেশী জাতের পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৮০ টাকা ও ভারতীয় জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি।

বাজার থেকে আলু উধাওয়ের খবর পেয়ে আজ সকাল সাড়ে ১১টায় বাজার পরিদর্শনে আসেন ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান ও পৌর মেয়র আব্দুস সাত্তার মিলন। পরে তারা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। আলোচনায় পৌর মেয়র সরকার নির্ধারিত দামে পাইকারি বাজার থেকে আলু কেনার ব্যবস্থা করে দেয়ার আশ্বাস দেন এবং ইউএনও ৩৬ টাকা দরে কার্ডিনাল আলু বিক্রির নির্দেশ দেন। এরপর ব্যবসায়ীরা আবারো আলু বিক্রি শুরু করেন।

সকালে বাজারে আলু কিনতে এসে ফিরে যাওয়া রিকশাচালক আব্দুল খালেক বলেন, ‘দুই কেজি আলু কিনতে বাজারে গিয়েছিলাম। কিন্তু দোকানদার বস্তার ওপর পলিথিন দিয়ে আলু ঢেকে রেখেছে। একই অবস্থা অন্যান্য দোকানেও। তাই বাধ্য হয়ে আলু না কিনেই ফিরে এসেছি।’

আরেক ক্রেতা সিনথিয়া আকতার বলেন, ‘শাক-সবজি কিনে দোকানদারকে বললাম, আলু দেন। এসময় দোকানদার বললেন, আলু নেই। পুরো বাজার খুঁজে দেখি কোনো দোকানেই আলু নেই। সব দোকানদার যোগসাজশ করে আলু গায়েব করেছে।’

তবে আলু বিক্রেতারা জানান, পাইকারিতেই তারা বেশি দাম দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে গেলে লোকসান দিতে হবে।

ব্যবসায়ী মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ‘পাইকারি বাজারে কার্ডিনাল বা স্টিক আলু কিনতে হচ্ছে ৩৫ টাকায়। আমরা বিক্রি করছি ৪০ টাকায়। মাঝে যাতায়াত খরচ আছে। আর সরকার সেই আলু বিক্রি করতে বলছে ৩৫-৩৬ টাকায়। আমরা তো লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে পারব না ‘

আরেক ব্যবসায়ী আতোয়ার রহমান বলেন, ‘কোল্ড স্টোরেজ থেকেই আলু কিনতে হচ্ছে ৩৫ টাকা কেজি দরে। প্রশাসন কোল্ড স্টোরেজ চোখে দেখে না। যত নির্যাতন আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর। পাইকারি বাজারে কম দামে যদি কিনতে পারি, তবেই কম দামে বিক্রি করতে পারব। তাতে কোনো সমস্যা নেই। আমরা ৩৫ টাকায় কিনে ৪০ টাকায় বিক্রি করি। প্রশাসন আবার আমাদেরই জরিমানা করে।’

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি সকাল থেকে আলু বিক্রি বন্ধ ছিল। আমাদের উপস্থিতিতে দুপুর থেকে আলু বিক্রি শুরু হয়েছে। এখন থেকে ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত ৩৬ টাকা কেজি দরেই আলু বিক্রি করবে।’

আলু লুকিয়ে রাখায় কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সমস্যার সমাধান হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিলে পরবর্তীতে বড় সমস্যা সৃষ্টি হবে।’