ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ঘিরে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কখনো ইসরায়েলের হামলায় জোরালো সমর্থন জানাচ্ছেন, কখনো বলছেন এ বিষয়ে অবগত নন, আবার কিছু সময় পরই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। বিভিন্ন সময় তার এমন অস্পষ্ট ইঙ্গিত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
হোয়াইট হাউজের বরাতে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, আপাতত ইরানকে মানসিক চাপে রেখে চুক্তিতে সম্মত করাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। তবে তা না হলে বিকল্প পথ ভাববে ওয়াশিংটন। সেজন্য সম্ভাব্য সব বিকল্প প্রস্তুত রাখছেন ট্রাম্প।
ইরান-ইসরায়েলের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কার মধ্যেই বুধবার ভোর রাতে পূর্ব ইংল্যান্ডের রয়্যাল এয়ারফোর্স লেকেনহিথ থেকে অন্তত চারটি এফ ৩৫ যুদ্ধবিমান ঘাঁটি ছেড়ে গেছে বলে জানা গেছে। এগুলোর সঙ্গে একটি জ্বালানি ট্যাংকার বিমানও ছিল।
সেই সঙ্গে ইরানের মাটির গভীরে তৈরি স্থাপনায় হামলা করতে সক্ষম 'বি টু স্পিরিট' বোম্বার বিমানও ইরান থেকে চার হাজার কিলোমিটার দূরত্বে মধ্যে ভারত মহাসাগরের একটি ঘাঁটিতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত তিনদিনে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩০টি মিলিটারি বিমান স্পেন, স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিভিন্ন ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসব বিমান ইরান ইসরায়েল সংঘাতের কারণে ইউরোপে নেয়া হয়েছে কিনা, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে না।
এছাড়া ইউরোপে এয়ারবর্ন রিফুয়েলিং ট্যাংকার নিয়ে যেতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের পথে রওনা দিয়েছে যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস নিমিটজ। অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ারসহ একটি বিশাল নৌবহর মোতায়েন রয়েছে। মোট মিলিয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা এখন মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
পেন্টাগনের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কর্মকর্তা এবং ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল শাপিরোর ভাষ্যমতে, ট্রাম্প ফরদোয় হামলার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জড়ো করছেন। ট্যাংকার, ফাইটার, আর দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী— সব কিছু প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে তার মানে এই নয়, ট্রাম্প হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।
অন্যদিকে, বিবিসির মার্কিন সহযোগী সিবিএস নিউজের সূত্র বলছে, ইরানের পরমাণু কার্যক্রমের কেন্দ্রগুলোতে হামলায় ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।










