গাজায় যুদ্ধ শেষ হলেও মৃতের সংখ্যা চার গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। যুদ্ধের পর সংক্রমণ, অপুষ্টি ও চিকিৎসা ব্যবস্থা ধ্বংসের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভবিষ্যতেও প্রাণ হারানোর এ আশঙ্কা প্রকাশ করে সতর্ক করেছেন ব্রিটিশ চিকিৎসকরা। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
ব্রিটিশ-ফিলিস্তিনি পুনর্গঠনকারী বিশেষজ্ঞ সার্জন অধ্যাপক ঘাসান আবু-সিত্তাহ জানান, যুদ্ধের সময় তিনি আল-শিফা ও আল-আহলি হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসা দিয়েছেন। অপুষ্টির কারণে অনেক শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি আর কখনই সম্ভব হবে না। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, যুদ্ধের কারণে গাজায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ লাখ ৮৬ হাজার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে, যা বর্তমানে ঘোষিত ৪৬ হাজার ৭০০ মৃত্যুর প্রায় চার গুণ দাঁড়ায়।
অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক নিজাম মামোডে জানান, ‘যুদ্ধের আঘাত ব্যতীত’ মৃত্যুর সংখ্যা এ হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ যুদ্ধের সময় অনেক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। আগে গাজার উত্তরে ছয়জন ভাসকুলার সার্জন কাজ করতেন। এখন সেখানে মাত্র একজন আছেন। কোনো ক্যান্সার বিশেষজ্ঞও নেই।
আবু-সিত্তা জানান, যুদ্ধের কারণে কিছু চিকিৎসা বিভাগ পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। নেফ্রোলজিস্ট ও জরুরি বিভাগের বোর্ড-সার্টিফাইড বিশেষজ্ঞদের কেউই বেঁচে নেই। যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা নির্ভর করছে পুনর্গঠনের গতির ওপর। হাজারো ফিলিস্তিনি গাজার উত্তরে ফিরলেও, সেখানে বাস করার কোনো সুযোগ নেই।
জাতিসংঘের মতে, চলতি বছর ৬০ হাজারের বেশি শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগবে। যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় নানা রকম রোগে সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, হেপাটাইটিস, ডায়রিয়া ও শ্বাসযন্ত্রের রোগসহ নতুন করে দেখা দেয়া পোলিওর প্রাদুর্ভাব অব্যাহত থাকতে পারে। কারণ বিশুদ্ধ পানি, ঘরবাড়ি ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখনো নেই।
আবু-সিত্তা জানান, যুদ্ধের ক্ষত সারাতে গাজার ১৩ হাজার মানুষের অবিলম্বে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। এ চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পুরো একটি প্রজন্ম ব্যয় করতে হবে।
অধ্যাপক মামোডে বলেন, ‘যুদ্ধের মানসিক ক্ষতও দীর্ঘস্থায়ী হবে। ৭০ শতাংশ রোগীই শিশু। এদের আবার অনেকেরই পরিবার নেই।’ তিনি আরো আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হলে এ শিশুদের মানসিক চাপের গভীরতা প্রকাশ পাবে।’
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, হামাস হাসপাতালগুলোকে সামরিক কার্যক্রমে ব্যবহার করেছে, যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।










