ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের মন্ত্রিসভা গত শুক্রবার গভীর রাতে গাজায় যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুমোদন দেয়। এর মধ্য দিয়ে গাজায় দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ের অবসান হওয়ার পথ খুলছে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামীকাল সকাল থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা। এদিকে ঐতিহাসিক এ চুক্তি শেষ মুহূর্তেও নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। চুক্তি বিষয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের ১০ মিনিট আগ পর্যন্ত আলোচনা চলতে থাকে। খবর বিবিসি।
আলোচনায় অংশ নেয়া ইসরায়েল ও হামাসের পক্ষ কখনো সামনাসামনি হয়নি। যদিও তারা দোহার একই বিল্ডিংয়ে ছিলেন, তবে ভিন্ন তলায়। কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা কয়েক মাস ধরে চলছিল। অনেক সময় তা আশাহীনও মনে হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে এসে তড়িঘড়ি করে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়।
চুক্তি যখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে তখন সমস্যা দেখা দেয়। এক সূত্র জানিয়েছে, কাতারের প্রধানমন্ত্রী যখন চুক্তির বিষয়ে ঘোষণা করার জন্য মঞ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছেন, সে সময় চুক্তি ভেঙে পড়া ঠেকাতে শেষ মুহূর্তের চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র বলেছে, ‘আক্ষরিক অর্থেই সংবাদ সম্মেলনের মাত্র ১০ মিনিট আগ পর্যন্ত আলোচনা চলছিল। এভাবেই শেষ মুহূর্তে সবকিছু ঠিকঠাক করা হয়।’
গাজায় যুদ্ধবিরতির চুক্তি আকস্মিক ছিল না। এটি ২০২৪ সালের মে মাসে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রস্তাবিত একটি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কাঠামোয় যুদ্ধবিরতি, জিম্মি বিনিময় ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের ধীরে ধীরে প্রত্যাহার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে ডিসেম্বরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার পর আলোচনা নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন হয় এবং হামাস দুর্বল হয়ে পড়ে।
ইসরায়েল হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে হত্যা করে, লেবাননের হিজবুল্লাহ বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। অন্যদিকে সিরিয়ার ইরান সমর্থিত সরকার পতিত হয়। এসব ঘটনায় হামাস বুঝতে পারে যে বাহ্যিক সমর্থন আসবে না। এজন্য তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়। একই সময় বাইডেন প্রশাসন ও আসন্ন ট্রাম্প প্রশাসনের চাপে চুক্তিতে গতি সৃষ্টি হয়। বাইডেনের দল ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে লেবানন যুদ্ধবিরতির ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন হামাস ও ইসরায়েল উভয়ের ওপর চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। উভয় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা এ চুক্তি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়।










