দ্বিতীয় মেয়াদে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন এমারসন নানগাগওয়া। দেশটির নির্বাচন কর্মকর্তারা গতকাল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। তারা জানান, প্রায় ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এমারসন নানগাগওয়া। তার প্রতিদ্বন্দ্বী নেলসন চামিসা পেয়েছেন ৪৪ শতাংশ ভোট। বিরোধী সিটিজেনস কোয়ালিশন ফর চেঞ্জ (সিসিসি) এ ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। ফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষকরাও। খবর রয়টার্স।

৮০ বছর বয়সী এমারসন ২৩ লাখেরও বেশি ভোট পেয়েছেন। ৪৫ বছর বয়সী নেলসন চামিসা পেয়েছেন ১৯ লাখের বেশি ভোট। নির্বাচন কমিশনের চেয়ারপারসন জাস্টিস চিগুম্বা বলেছেন, ‘জানু-পিএফ পার্টির এমারসন নানগাগওয়া ডাম্বুডজোকে জিম্বাবুয়ের বৈধভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বলে ঘোষণা করা হচ্ছে।’

জিম্বাবুয়েতে ২০১৭ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রবার্ট মুগাবের দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটে। মুগাবে অধ্যায়ের পরিসমাপ্তির পর প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসেন নানগাগওয়া। এবার দ্বিতীয় মেয়াদেও তিনি ক্ষমতায় আসবেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছিল। এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের মাঠ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা জানু-পিএফের অনুকূলে ছিল। তাদের প্রতি পক্ষপাত করা হয়েছে।

গতকাল নির্বাচন কমিশন প্রেসিডেন্ট পদে এমারসন নানগাগওয়াকে বিজয়ী ঘোষণার পর কেন্দ্রে গান-বাজনা করে উল্লাস প্রকাশ করেন তার সমর্থকরা।

পূর্বসূরি রবার্ট মুগাবের প্রশাসনে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন এমারসন নানগাগওয়া। স্ত্রীকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করতে তাকে বরখাস্ত করেছিলেন মুগাবে। মূলত ওই ঘটনার জের ধরেই সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন ৩৭ বছরের শাসক রবার্ট মুগাবে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন তিনি। নিজেকে একজন সংস্কারক হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করলেও অনেকেই তাকে স্বৈরশাসকের চেয়েও বেশি দমনমূলক বলে আখ্যায়িত করছেন।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে জিম্বাবুয়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নানগাগওয়া পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে তার পূর্বসূরি মুগাবের মতোই অভিযোগ করে আসছিলেন। তার অভিযোগ, পশ্চিমারা তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়।

এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের কোনো সহিংসতা পরিলক্ষিত হয়নি। তবে পুলিশের তরফে নিয়মিতভাবে বিরোধীদের সমাবেশ করতে না দেয়া এবং কঠোর জনশৃঙ্খলা আইন ব্যবহার করে বিরোধী দলের সমর্থকদের গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, নির্বাচনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিধিগুলো মানা হয়নি। একটি ‘আতঙ্কের পরিবেশে’ এ সপ্তাহের ভোট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দল। তবে নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ক্ষমতাসীন দল জানু-পিএফ।

টুইটারে দেয়া পোস্টে বিরোধী দল সিটিজেনস কোয়ালিশন ফর চেঞ্জের (সিসিসি) মুখপাত্র প্রমিজ এমকাওয়ানজি বলেন, ‘‌তার দল যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া তাড়াহুড়ো করে ঘোষিত ফল’ প্রত্যাখ্যান করেছে। শিগগিরই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

২০১৮ সালের নির্বাচনেও এমারসন নানগাগওয়ার কাছে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হন নেলসন চামিসা। বিরোধীরা সেবার ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে আদালতের শরণাপন্ন হয়। তবে শেষ পর্যন্ত ফলাফল বহাল রাখেন দেশটির সাংবিধানিক আদালত।