নির্বাচনের ফলাফলকে উল্টে দেয়ার ষড়যন্ত্রের
অভিযোগে আত্মসমর্পণের পর জর্জিয়ার কারাগার থেকে জামিন পেয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) গ্রেফতারের পর তার ‘মাগশট’ নেয়া হয়,
যা মার্কিন ইতিহাসে সাবেক কোনো প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে প্রথম ঘটনা। খবর বিবিসি।
মাগশট হলো মুখমণ্ডলের ছবি। সাধারণত
গ্রেফতারের পর পুলিশের নথিতে ওই ব্যক্তির বিস্তারিত বিবরণসহ আঙুলের ছাপ ও বিশেষ ধরনের
ছবি সংরক্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ট্রাম্প। একজন সাবেক
প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এ আচরণকে অপমানজনক হিসেবে দেখছেন তিনি।
ফৌজদারি মামলায় পাঁচ মাসের মধ্যে ট্রাম্পের
চতুর্থ গ্রেফতার এটি। তবে এবারই মাগশটের মুখোমুখি হলেন।
এদিন ট্রাম্প আটলান্টা জেল থেকে জমিন
পেতে পূর্ব ঘোষিত দুই লাখ ডলারের বন্ড দেন। পরে তিনি মামলাটিকে ‘বিচারের নামে প্রতারণা’
হিসেবে বর্ণনা করেন।
২০২১ সালের জানুয়ারি পর প্রথমবার মাইক্রো
ব্লগিং প্লাটফর্ম এক্সে দেয়া পোস্টে নিজের ওয়েবসাইটের ঠিকানা ও মাগশটের ছবি শেয়ার
করে ট্রাম্প লেখেন, ‘নির্বাচনে হস্তক্ষেপ। কখনো আত্মসমর্পণ করব না!’
এর আগে এলভিস প্রিসলি, ফ্রাঙ্ক সিনাত্রা,
আল ক্যাপোন ও ড. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রসহ বেশ কয়েকজন পাবলিক ফিগারের ছবি পুলিশ
এভাবে তুলেছিল। এবার তাদের সঙ্গে যোগ দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্পের যুক্তি হলো, তার বিরুদ্ধে
আনা মামলাগুলো রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারণ আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে
ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
গতকাল বিকালে ব্যক্তিগত জেটে নিউ জার্সি
থেকে জর্জিয়া আসেন ট্রাম্প। এরপর ফুলটন কাউন্টি জেলে আত্মসমর্পন করেন। ২০ মিনিট সেখানে
অবস্থান করে ফিরতি পথ ধরেন। ওই সময় ট্রাম্প সমর্থকরা কারাগারের বাইরে জড়ো হন।
কারাগারের ওয়েবসাইটে পোস্ট করা রেকর্ডে
ট্রাম্পকে স্বর্ণকেশী বা স্ট্রবেরি চুল এবং নীল চোখসহ একজন শ্বেতাঙ্গ পুরুষ বলে উল্লেখ
করা হয়। আরো জানানো হয়, তিনি ছয় ফুট তিন ইঞ্চি ও ওজন ২১৫ পাউন্ড। তার বন্দি নম্বর পি০১১৩৫৮০৯।
প্রকাশিত ছবিতে তাকে গাঢ় নীল স্যুট,
সাদা শার্ট ও লাল টাই পরে ক্যামেরার দিকে তাকাতে দেখা গিয়েছে। চোখে-মুখে স্পষ্ট বিরক্তির
ছাপ।
ফেরার আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের
তিনি বলেন, নির্বাচনী ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার অধিকার তার রয়েছে।
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জর্জিয়ায়
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জো বাইডেনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়,
১২ হাজার ভোটে জিতেছেন বাইডেন। ট্রাম্প দাবি করছিলেন, গণনায় কারচুপি করা হয়েছিল। এরপর
তার বিরুদ্ধেই পাল্টা কারচুপির অভিযোগ আনা হয়। জর্জিয়া প্রদেশের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার
চেষ্টায় অভিযুক্ত করা হয় তাকে।
জর্জিয়ার আদালতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে
মোট ১৩টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। তার মধ্যে রয়েছে সহিংসতা বিরোধী আইন লঙ্ঘন করা, সরকারি
কর্মকর্তার শপথ লঙ্ঘন ও জালিয়াতির ষড়যন্ত্র। এ মামলায় ট্রাম্পসহ মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত
করা হয়েছে।










