পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৩২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে আজাদ-কাশ্মীরে ২১ জন ও বাকিদের প্রাণ গেছে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে। পাকিস্তানি দৈনিক ডন জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যায় সড়ক, সেতু, ভবন ও বিদ্যুৎ স্থাপনাসহ বহু অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এলাকাটিতে ২১ আগস্ট পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

খাইবার পাখতুনখোয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রদেশে ১১টি বাড়ি সম্পূর্ণ ও ৬৩টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনটি স্কুল ভেঙে পড়েছে এবং আরো তিনটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোগুলোর বেশির ভাগই সোয়াত জেলায়। ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুনের, শাঙ্গলা, বাজাউর, লোয়ার দির, বাটাগ্রাম ও মানসেহরা জেলায়ও মৃত্যু ও অবকাঠামোগত ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে উদ্ধার তৎপরতার সময় একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহত পাঁচজনের স্মরণে গতকাল একদিনের শোক ঘোষণা করেছে খাইবার পাখতুনখোয়া সরকার। প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এদিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ভারি বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় বুনের জেলায় আটকে পড়া দুই হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৩০০ স্কুল শিক্ষার্থীও রয়েছে। জেলার ডেপুটি কমিশনার কাশিফ কাইয়ুম জানিয়েছেন, পুরো জেলায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ডেপুটি কমিশনার আরো জানান, বন্যার পানিতে পীর বাবা বাজার ও আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়েছে, গোখান্ড এলাকার একটি মসজিদ ধ্বংস হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু মারা গেছে। এছাড়া বহু সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিখোঁজ লোকজনের প্রকৃত সংখ্যা পানি নেমে যাওয়ার পরই জানা যাবে।

জেলাজুড়ে সারা দিন টানা বৃষ্টির কারণে ইন্দাস, সিরেন ও কুনহার নদীসহ আশপাশের নদীগুলোর পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে। সিরেন উপত্যকায় পর্যটন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। মানসেহরার কাগান উপত্যকার উঁচু এলাকায় আটকে পড়া সাতজন পর্যটককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা সিমিকসার হ্রদ ভ্রমণে গিয়ে বৃষ্টি ও ভূমিধসে আটকা পড়েছিলেন। ভূমিধস ও গাছ উপড়ে পড়ার কারণে নবাজাবাদ ও বাট্রাসি সড়ক বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যা পরে পুলিশ আবার চলাচলের উপযোগী করে।

সোয়াতে বন্যা ও ভারি বৃষ্টিতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ অবকাঠামো। ১৩২ কেভি গ্রিড স্টেশনে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় ৪১টি ফিডার বন্ধ হয়ে গেছে এবং পুরো অঞ্চল বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। মালাম জাব্বা অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ফিডারও পানিতে তলিয়ে গেছে।

আকস্মিক বন্যায় বহু বিদ্যুৎ খুঁটি ও ট্রান্সফর্মার ভেসে গেছে। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী আওয়াইস আহমদ লাঘারির নির্দেশে পেশোয়ার ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে জরুরি কাজ শুরু করেছে।