গ্রিসের উত্তরপূর্বাঞ্চলে চারদিন ধরে জ্বলতে থাকা ভয়াবহ দাবানলে একটি জঙ্গল থেকে ১৮ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) বলেছেন, তুরস্কের সীমান্তবর্তী অঞ্চল দাদিয়ার জাতীয় উদ্যানের পাশে একটি কুঁড়েঘরের কাছে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে ওই দেহগুলি অভিবাসন-প্রত্যাশীদের। অভিবাসীরা অবৈধভাবে গ্রিসে প্রবেশ করেছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খবর বিবিসি।
ফায়ার ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ইয়ানিস আর্টোপিওস জানান, প্রশাসনের কাছে কারো নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার খবর ছিল না। যে অঞ্চল থেকে তাদের দেহ উদ্ধার হয়েছে সেটি একটি জাতীয় বনভূমি। তুরস্ক সীমান্তের খুব কাছে এই বনভূমি। তুরস্কের রাস্তা দিয়ে তারা অবৈধভাবে ওই জঙ্গলে প্রবেশ করেছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। দেহগুলি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
দেশটির ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, দাবানলের প্রভাবে সম্প্রতি ২০জনের মৃত্যু হয়েছে গ্রিসে। তারমধ্যে ১৮জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে মঙ্গলবার। এথেন্সের উত্তরে একটি জঙ্গল থেকে আরো একজনের দেহ উদ্ধার হয়েছে । তিনিও অভিবাসন-প্রত্যাশী বলে মনে করা হচ্ছে। একজন মেষপালকের দেহও উদ্ধার হয়েছে। নিজের গবাদি পশুদের বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে তার।
উত্তরপূর্ব গ্রিস এবং এভিয়া এবং কাইথোনস অঞ্চলে আগুন সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। উত্তরপূর্ব অঞ্চলের আটটি গ্রাম এবং শহরের হাসপাতাল খালি করে দেয়া হয়েছে। রোগীদের অন্য শহরের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অনেকেই বন্দর শহর কাভালার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বাকিদের আরো দূরের শহরে পাঠানো হয়েছে। একাধিক দ্বীপ থেকে মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আগুন কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে আলেকজান্দ্রো পলিসের নার্স নিকস জানিয়েছেন,‘২৭ বছর ধরে কাজ করছি, এখনো পর্যন্ত এমন ঘটনা দেখিনি। এ এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। মনে হচ্ছে বোমা ফেটেছে, যুদ্ধ চলছে।’ গ্রিসের কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির উপরে যাওয়া ঝড়ো বাতাস এবং শুষ্ক আবহাওয়া কারণে বিভিন্ন এলাকা জুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।
আলেকজান্দ্রোপলিসের উত্তরে বৃহৎ জঙ্গল এলাকার দাদিয়া জাতীয় উদ্যানে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অভিবাসী সহায়তা সংগঠন অ্যালার্ম ফোন বলেছে, অভিবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাদের উদ্ধারের প্রয়োজন ছিল তাদের উদ্ধার কর হয়েছে। নয় জনের একটি দল ইতিমধ্যেই সীমান্ত পার হয়েছে। আরো ২৫০ জনের একটি দল ইভ্রোস দ্বীপে আটকা পড়েছে।










