যুক্তরাষ্ট্রের ৬০তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জয়ের জন্য ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোটের দরকার হলেও ২৯৫টি ভোট নিশ্চিত করতে পেরেছেন তিনি। বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী কমলা হ্যারিস পেয়েছেন ২২৬টি ভোট। ফলে স্পষ্টতই মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে রিপাবলিকানদের হাতে। এরই মধ্যে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে শান্তিপূর্ণভাবে ট্রাম্পের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের অঙ্গীকার করেছেন। আগামী ২০ জানুয়ারি নতুন নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা রয়েছে তার। ট্রাম্প বিজয়ী হওয়ার পর বাইডেন বলেছেন, ‘এক মেয়াদ বিরতির পর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজের জন্য ট্রাম্পের নির্বাচন ন্যায্য ও স্বচ্ছ হয়েছে।’

ডেমোক্র্যাটদের উদ্দেশে বাইডেন বলেছেন, ‘আশা করি, আমেরিকার নির্বাচন পদ্ধতির সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা থেকে বিরত থাকা যায়। নির্বাচনের এই ফলে আপনারা আস্থা রাখতে পারেন। আমরা এ যুদ্ধে পরাজিত হয়েছি, কিন্তু স্বপ্নের আমেরিকা আপনাদের উঠে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে। পিছিয়ে পড়া অনিবার্য হতে পারে, কিন্তু হাল ছেড়ে দেয়া অমার্জনীয়। আপনি কাকে ভোট দিয়েছেন সেটি কোনো ব্যাপার নয়। উত্তেজনা পরিহার করুন। আমরা অন্য দলকে প্রতিপক্ষ হিসেবে নয়, বরং আমেরিকান হিসেবে বিবেচনা করতে চাই।’

নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছেন ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কমলা হ্যারিসও। ভোটের ফল প্রকাশ্যে আসার পর কমলা বলেছেন, ‘নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিচ্ছি, কিন্তু লড়াইয়ে হার মানছি না।’ একই সঙ্গে ট্রাম্পকে ক্ষমতা হস্তান্তরে সহায়তারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। কমলা বলেছেন, ‘আমি নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছি এবং জয়ের জন্য তাকে অভিনন্দন জানিয়েছি।’

হোয়াইট হাউজ চিফ অব স্টাফের নাম ঘোষণা: সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন ট্রাম্প। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউজ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় কাদের নিয়োগ দেবেন তা নিয়েও চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন তিনি। এরই মধ্যে হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ হিসেবে সুসি ওয়াইলসকে বেছে নিয়েছেন তিনি। ৬৭ বছর বয়সী সুসি হবেন হোয়াইট হাউজের ইতিহাসে প্রথম নারী চিফ অব স্টাফ। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় সিনিয়র উপদেষ্টা ছিলেন এই রিপাবলিকান সমর্থক।