ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল। গতকাল সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) মধ্য রাতের এ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কমপক্ষে ১১১ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ২২০ জন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।

রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পটি গানসু প্রদেশে আঘাত হানে। এতে ওই অঞ্চল ও দক্ষিণে কিংহাই প্রদেশে অসংখ্য ভবন ভেঙে পড়ে। ঠাণ্ডা ও অঞ্চলটির উচ্চতার কারণে উদ্ধারকর্মীরা তৎপরতা চালাতে গিয়ে বাধা মুখে পড়েছেন বলেও জানা যায়।

এরপর আজ মঙ্গলবার প্রতিবেশী জিনজিয়াংয়ে দ্বিতীয় দফা ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৫ মাত্রার এ কম্পনের ক্ষয়ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

চীনের অন্যতম দরিদ্রকবলিত অঞ্চল গানসু প্রদেশ। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সেখানে পূর্ণ উদ্ধার অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন।

তিব্বতি ও লোয়েস মালভূমির মধ্যে অবস্থিত গানসু। এর একপাশে রয়েছে মঙ্গোলিয়ার সীমানা। আক্রান্ত অঞ্চলে রয়েছে সংখ্যালঘু হুই মুসলমানদের আবাস।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল গানসু প্রদেশের রাজধানী লানঝৌ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে ও ভূপৃষ্ট থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। চীনের সরকারি চ্যানেল জিনহুয়ার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কম্পনের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ২। অন্যদিকে ইউএসজিএস বলছে, ৫ দশমিক ৯।

সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু গানসু প্রদেশেরই ১০০ জন মারা গেছেন। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্য দিকে, কিংহাই প্রদেশে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পে অনেক এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের ফলে আতঙ্কিত হয়ে লোকজন রাস্তায় নেমে এসেছেন ও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করছেন।

এর আগে গত আগস্টে পূর্ব চীনে আঘাত হানে ৫ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প। এ ঘটনায় ২৩ জন আহত হন ও বেশ কিছু বহুতল ধসে পড়ে। ২০২২ সালে সিচুয়ান প্রদেশে ৬ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়। ২০০৮ সালে সিচুয়ান প্রদেশে ৭ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ৯০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে পাঁচ হাজারেরও বেশি ছিল শিশু। আহত হয়েছিলেন প্রায় চার লাখ।