আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারকে প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া। দেশটি গতকাল ঘোষণা দিয়েছে, তারা এ ইসলামী গোষ্ঠী মনোনীত একজন রাষ্ট্রদূতকে স্বীকার করে নিয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আমরা বিশ্বাস করি, ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়ার পদক্ষেপ আমাদের দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বিকাশে গতি দেবে।

এতে আরো বলা হয়, আমরা বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছি, বিশেষ করে জ্বালানি, পরিবহন, কৃষি এবং অবকাঠামো খাতের প্রকল্পগুলো নিয়ে। আমরা কাবুলকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে এবং সন্ত্রাসবাদ ও মাদক সম্পর্কিত অপরাধের হুমকি মোকাবেলায় সহায়তা অব্যাহত রাখব।

গতকাল কাবুলে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি জিরনোভের সঙ্গে বৈঠক করেন আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। সেখানে দিমিত্রি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেন রাশিয়া ‘‌ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান’কে স্বীকৃতি দিচ্ছে।

এ স্বীকৃতিকে মুত্তাকি ‘‌ইতিবাচক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, পারস্পরিক সম্মান এবং গঠনমূলক অংশীদারত্বের সূচনা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‌এটি অন্য দেশগুলোর জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

সিএনএন লিখেছে, রাশিয়ার এ স্বীকৃতি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আফগানিস্তানে নয় বছর যুদ্ধ করেছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন। ১৯৮৯ সালে আফগান মুজাহিদিনদের হাতে পরাজিত হয়ে মস্কো তাদের সেনা প্রত্যাহার করলে ওই যুদ্ধের অবসান ঘটে। ওই মুজাহিদিনদের একটি অংশ পরে তালেবান প্রতিষ্ঠা করে। ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর যে অল্প কয়েকটি দেশ আফগানিস্তানে কূটনৈতিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে, তার একটি রাশিয়া। এতদিন তালেবানকে যে সন্ত্রাসী তকমা দেয়া ছিল, তা চলতি বছরের এপ্রিলে তুলে নেয় রাশিয়া।

যদিও চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে তালেবানের রাষ্ট্রদূত রয়েছে এবং কাতারে তাদের একটি পুরনো রাজনৈতিক দপ্তরও রয়েছে। তবে এ দেশগুলো এখনো তালেবানকে আফগানিস্তানের সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। স্বীকৃতির এ ঘাটতি অবশ্য আফগানিস্তানের নতুন শাসকদের বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। ২০২৩ সালে চীনের একটি কোম্পানি তালেবানের সঙ্গে তেল উত্তোলন চুক্তি করে।

তালেবানের এখন লক্ষ্য হলো তাদের আরেক সাবেক প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন। ২০২৫ সালের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর ওই প্রচেষ্টা গতি পেয়েছে বলে খবর প্রকাশ হয়েছে।