প্রায় আট লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত ৯৯০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নড়াইল মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত হয় ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ। জেলা হিসেবে আত্মমর্যাদা লাভের পরপরই অফুরন্ত সম্ভাবনার দুয়ার নিয়ে নড়াইল শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। একসময় এ জেলাকে যোগাযোগ ব্যবস্থায় অনগ্রসর জেলা হিসেবে অনুমান করা হলেও বর্তমান সময়ে ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নড়াইলকে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার কানেক্টিং হাবের মর্যাদা দেয়া হচ্ছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজীকরণ করতে বর্তমানে যশোর-নড়াইল-কালনা সড়ক, নড়াইল-কালিয়া সড়ক, নড়াইল-মাগুরা সড়ক, নড়াইল-ফুলতলা সড়ক, লোহাগড়া-মহম্মদপুর সড়কের উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। পদ্মা সেতু এবং কালনা সেতু নির্মাণের ফলে নড়াইল জেলা এশিয়ান হাইওয়েতে প্রবেশ করে খুলনা বিভাগের উদীয়মান জেলা হিসবে তার সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে বাস্তবে রূপান্তরিত করছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার একান্তিক চেষ্টায় পদ্মা ব্রিজ নির্মাণ হওয়ায় ঢাকা থেকে নড়াইলের দূরত্ব হয়েছে মাত্র ১২০ কিলোমিটার বা বলা যায় রাজধানী থেকে সময়ের ব্যবধান হয়েছে মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। অন্যদিকে এখান থেকে বেনাপোল স্থলবন্দরের দূরত্ব মাত্র ৭৪ কিলোমিটার, যা এখন পাড়ি দেয়া যায় এক ঘণ্টায়। নড়াইলের ওপর দিয়ে ২৮ কিলোমিটার পদ্মা রেলসংযোগ সেতুর নির্মাণের পাশাপাশি নড়াইল সদর এবং লোহাগড়া উপজেলায় রেলস্টেশন নির্মাণ কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। ঢাকা-কলকাতা ট্রেন যাতায়াত এ জেলার ওপর দিয়েই হবে।
সড়ক, নৌ ও রেলপথের উন্নয়ন যাত্রী এবং পণ্য পরিবহনে সময় ও অর্থের সাশ্রয় করবে, যা শিল্পনগরী গড়ে তোলার জন্য অপরিহার্য। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদনপ্রাপ্তির পর এ সম্ভাবনা আরো দৃঢ় হয়েছে, এমনকি ভারত-বাংলাদেশ যৌথ বিনিয়োগের উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিসিক শিল্পনগরীর প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এরই মধ্যে শিল্পবান্ধব জেলা হিসেবে পরিচিতি লাভের ফলে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান শিল্প-কারখানা স্থাপন শুরু করেছে, অনেকেই শিল্প-কারখানা নির্মাণে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। এছাড়া বিশেষ অর্জনের মধ্যে রয়েছে নড়াইলবাসীর স্বপ্নের নবনির্মিত শেখ রাসেল সেতু, পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের অধীন পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের নির্মাণাধীন নড়াইল ১৩২/১৩৩ কেভি গ্রিড সাবস্টেশন, নড়াইল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
কৃষি ক্ষেত্রে নড়াইল সমৃদ্ধ স্থানে থাকায় নিজস্ব চাহিদা পূরণ করে উদ্বৃত্ত জেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বিশেষত নড়াইলে প্রচুর পাট ও গলদা চিংড়ি উৎপন্ন হয়। কাঁচামালের সহজলভ্যতার কারণে এখানে জুট মিল এবং মাছ সংরক্ষণ ব্যবস্থাসহ উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যেতে পারে। এসব বাস্তবায়িত হলে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ রফতানি আয়বর্ধক জেলা হিসেবে নড়াইল নবমাত্রায় রূপ পাবে এবং এ অঞ্চলের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন ঘটবে। শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগসহ সব ক্ষেত্রেই নড়াইলবাসীর প্রতিটা স্বপ্ন পূরণ করেছেন আওয়ামী লীগ সরকার তথা শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগ সরকারকে ভালোবেসে বিভিন্ন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে এখানকার মানুষ বারবার নড়াইলের দুটি আসন আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনাকে উপহার দিয়েছেন। বর্তমান সরকারের অভূতপূর্ব উন্নয়নে খুশি হয়ে আগামী নির্বাচনেও নড়াইলের দুটি আসনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আসন দুটি শেখ হাসিনাকে উপহার দেবে নড়াইলের জনগণ।
উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোর আধুনিকায়নের ফলে নড়াইলের একটি সম্ভাবনা নতুন করে হাতছানি দিয়েছে তা হলো পর্যটন শিল্পের বিকাশ। জোয়ার ভাটার চিত্রা নদীর তীরে অবস্থিত নড়াইলের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্য উল্লেখযোগ্য সুলতান কমপ্লেক্স, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর, বাঁধাঘাট, হাটবাড়িয়া জমিদারবাড়ি, ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির শ্বশুরবাড়ি। আধুনিক বিনোদনের জন্য রয়েছে অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব, স্বপ্নবিথি পিকনিক স্পট, নিরিবিলি পিকনিক স্পট ও চিত্রা রিসোর্ট।





