আপনার নেতৃত্বে নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগ এখন কতটুকু শক্তিশালী? 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল। এখানে রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের মতামত, চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষাকে যেমন প্রাধান্য দেয়া হয়, তেমনি সংগঠন পরিচালনায়ও আমরা স্থানীয় নেতাদের প্রতিনিধি হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সব সদস্যের মতামতের ভিত্তিতেই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পালন করে থাকি। এক্ষেত্রে আমিসহ আমার কমিটির কারোরই ব্যক্তিগত কোনো প্রভাব বা বাহবা নেয়ার সুযোগ নেই। আমি আমার ওপর অর্পিত সাংগঠনিক দায়িত্বটুকু অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের মাধ্যমে সব নেতাকর্মীকে নিজ নিজ অঞ্চল বা শাখার জনগণের প্রতিনিধিদের মতামত উপস্থাপন ও উপস্থাপিত বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার যোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি করে দেয়ার সাধ্যমতো প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। দেশ ও জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের কিংবদন্তি মহীয়সী জননেত্রী শেখ হাসিনার অপ্রতিরোধ্য কর্মকাণ্ড ও তার নিবিড় তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থান মহান স্বাধীনতা-উত্তর যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি জনপ্রিয়, সুদৃঢ়, বলিষ্ঠ ও শক্তিশালী। 

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী বলে আপনি মনে করেন?

কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই জ্বালাও-পোড়াওসহ জঙ্গি অপতৎপরতার মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দল একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রে অতর্কিত আক্রমণ বা চোরাগুপ্ত হামলা চালিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগণের জানমাল নষ্ট করতে পারে না। অন্যদিকে জনগণের ভোটে বারবার নির্বাচিত সরকারকে অসাংবিধানিকভাবে বিতর্কিত করতে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ও গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে অপকর্ম-অযোগ্যতা ও দুর্নীতির দায়ে জনবিচ্ছিন্ন একটি রাজনৈতিক দল। অবৈধ অর্থ বিনিয়োগ, লবিস্ট নিয়োগ, বিদেশী শক্তির সহযোগিতায় বিশ্ব অঙ্গনে নিজের দেশকে হেয়প্রতিপন্নের মাধ্যমে তারা তো চলমান উন্নয়ন অগ্রগতি স্তিমিত করতে পারে না। সমসাময়িক পরিস্থিতিতে যারা সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করছে, নিঃসন্দেহে তারাই স্বাধীনতাবিরোধী, রাষ্ট্রবিরোধী, বিদেশীদের দোসর ও জঙ্গিচক্র। 

অসাম্প্রদায়িক চেতনার জেলা হিসেবে পরিচিত নড়াইলে সম্প্রতি দুটি ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাই। এটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন? 

নড়াইল শতবছরের অসাম্প্রদায়িক সৌহার্দময় সংস্কৃতির এক অনুকরণীয় একটি অঞ্চল। এখানে আমরা জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সম্প্রীতির সঙ্গে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে সহাবস্থান করছি। তবে সমগ্র বিশ্বের মতোই আমাদের দেশেও প্রতিদিন নানা কারণে ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সামাজিক ইস্যুতে অসংখ্য সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়; যা আনুপাতিকভাবে কোনো না কোনো ক্ষুদ্র অঞ্চলের ভেতরেই পড়ে। সেই ধারাবাহিকতায় নড়াইলের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত অপরাধের মধ্যে ওই দুটি ঘটনায় দুই পক্ষে কাকতালীয়ভাবে ধর্মীয় পার্থক্য প্রকাশ পেয়েছে, যার মূল কারণ আদৌ ধর্মীয় নয়। মূলত ঘটনা দুটিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেয়ার মতো পরিবেশ থাকায় কুচক্রী মহল অতিদ্রুত ও অপকৌশলের সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার রঙে রাঙাতে সক্ষম হয়েছে। ঘটনা দুটি যাদের সঙ্গেই হোক বা যে কারণেই হোক, আমরা এর জন্য দুঃখিত ও লজ্জিত।

আর কয়েক মাস পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ওই নির্বাচন সামনে রেখে জেলা আওয়ামী লীগের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত বলে মনে করেন?

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা টানা তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান উন্নয়ন, অগ্রগতির তথ্য মানুষের মাঝে প্রচারের পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে নিজেদের প্রাপ্য বিজয় সমুন্নত রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব। জননেত্রী শেখ হাসিনা তার দূরদর্শী বিচক্ষণতায় যাকে দলীয় মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষেই অবিচল থেকে সাংগঠনিক ও নির্বাচনী সব দায়িত্ব পালন করব। সেই সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী, রাষ্ট্রবিরোধী ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের সব চক্রান্ত, জ্বালাও-পোড়াও প্রতিহত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। ইনশাআল্লাহ, এবারের নির্বাচনে নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগ একটি ‘ক্ল্যাসিক ইলেকশন অ্যাক্টিভিটিস’ উপহার দিয়ে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।