আপনি রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। নিজে প্রায় ৩০ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি। দীর্ঘ সময়ে এলাকার উন্নয়নে আপনার ভূমিকা কী?

উন্নয়ন একটি মাল্টিপারপাস শব্দ। শুধু রাস্তাঘাট, ভবন এগুলোই নয়। উন্নয়নের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবনযাত্রার মান, সামাজিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা। সব মিলিয়ে উন্নয়ন শব্দটা। উন্নয়ন হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আমি যখন এ জনপদের নেতৃত্বে এসেছি, তখন এ জনপদটা মাইনাসে ছিল। সেখান থেকে উন্নয়নের ধারায় ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। এটাও সম্ভব হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য। একটা উপজেলা শহরভিত্তিক সংসদীয় আসনে একজন মানুষের জীবনযাত্রার জন্য যা যা প্রয়োজন সবকিছুই করতে পেরেছি। নড়াইল-কালিয়া, নড়াইল-ফুলতলা, কালিয়া-বড়দিয়া, কালিয়া-গাজিরহাট সড়ক নির্মাণ করেছি। এছাড়া চাপাইল সেতু, নির্মাণাধীন বারইপাড়া পয়েন্টে শহীদ এখলাজ উদ্দিন আহমেদ সেতু, রঘুনাথপুর সেতু এবং সব ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন, যেমন সরকারি অফিস, উপজেলা পরিষদ ভবন, ফায়ার সার্ভিস, নতুন থানা ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ করেছি। আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ দিতে পেরেছি, যেটা বড় সাফল্য।

শিক্ষা ও চিকিৎসার উন্নয়নে কী কী কাজ করতে চান?

শিক্ষা এবং চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার। বিশেষ করে চিকিৎসাসেবা নিয়ে আমার বাবার আলাদা একটা স্বপ্ন ছিল, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তিনি কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এরিয়া অনেক বড় রেখেছিলেন। আমি সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। আমি সংসদে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে বক্তব্য রেখেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করতে, সহজলভ্য করতে কাজ করে যাচ্ছেন। কিছুদিন আগে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন চারতলায় উন্নীতকরণের জন্য অনুমোদন পেয়েছে। অবশ্য উপজেলা শহরে চিকিৎসকের সীমাবদ্ধতা আছে, সবকিছু মিলিয়ে আমি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।

শিক্ষা মানুষকে গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম। শিক্ষাকে আধুনিক করতে মাদ্রাসাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ হচ্ছে। আমার সংসদীয় আসনে আর হয়তো কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, নতুন ভবন নির্মাণ করতে। ডিজিটাল শিক্ষায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব তৈরি করা হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষার জন্য আমার নির্বাচনী আসনে দৃষ্টিনন্দন সরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে আমি মনে করি শিক্ষার দিক থেকে আমরা অনেক এগিয়ে গেছি।

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কী কী কাজ করতে চান?

বিগত দিনগুলো লক্ষ্য করে দেখবেন, বাংলাদেশে কিন্তু আইনের সুশাসন ছিল না, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ ধারাবাহিকতায় আমার নির্বাচনী এলাকায় এখন আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আগে এ জনপদ ছিল একটি রক্তাক্ত জনপদ। এখানে আগে দিনেদুপুরে চুরি, ডাকাতি, খুন হতো, এখন সেগুলো হয় না। তবে সামাজিক আধিপত্য নিয়ে কিছু এলাকায় ঝামেলা হয়, সেটাও আগের চেয়ে কমে এসেছে। সবকিছু সম্ভব হয়েছে বা হচ্ছে আইনের সুশাসনের জন্য।

মাদক নির্মূলে আপনার ভূমিকা কী ছিল, পরবর্তীতে কী হবে?

মাদক একটা সমাজকে, একটা পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে আইনে সঠিক পদক্ষেপ আশা করছি। সেই সঙ্গে যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে এবং ক্রীড়াঙ্গনে ফিরিয়ে আনতে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করছি। যুবকদের বলেছি, কেউ ক্রীড়ায় ভালো করছো, কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। আমি তার দায়িত্ব নেব। শুধু সমাজকে মাদকমুক্ত করতেই আমার এ উদ্যোগ।

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে কী কী ভূমিকা রাখতে চান?

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের সবাইকে স্মার্ট হতে হবে। এ স্মার্ট মানে ফ্যাশন ডিজাইন না, চুলের স্টাইল বা পোশাকের স্টাইল না। এ স্মার্ট বাংলাদেশ হচ্ছে স্মার্ট সিটিজেন, প্রান্তিক মানুষকে প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, গ্রামের পরিবেশ হবে শহরের মতো, গ্রাম-শহরের পার্থক্য না থাকার স্মার্ট বাংলাদেশ।

আপনার আসন থেকে এবার অনেকেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন। এত প্রার্থীর মধ্যে আপনাকেই কেন মনোনয়ন দেয়া উচিত বলে মনে করেন?

আওয়ামী লীগ অনেক বড় দল। এখানে নির্বাচনের সময় অনেকে মনোনয়ন চাইবেন এটাই স্বাভাবিক। যারা চাইবেন নির্বাচনের আগে কোথায় থাকে, জনগণের জন্য কি কাজ করে তৃণমূলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কেমন এটা দেখার বিষয়। তবে আমি আশাবাদী, কারণ এখলাজ উদ্দিন আহমেদের পুত্র কবিরুল হক মুক্তি এক ও অভিন্ন। আমি এ জনপদে দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধিত্ব করছি। মানুষের জন্য কাজ করছি, মানুষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখি। আগামীর যে চ্যালেঞ্জিং নির্বাচন আসছে এখানে কোনো জনবিচ্ছিন্ন মানুষকে মনোনয়ন দিয়ে যুদ্ধ করা সম্ভব নয়। আমি মনে করি, এ যুদ্ধে জয়লাভ করতে দল আমাকে মনোনয়ন  দেবে।