একজন সফল ক্রিকেটার আপনি, দেশের জন্য অনেক সম্মান বয়ে এনেছেন। রাজনীতিতে নিজেকে কতটা সফল মনে করছেন?
আমার রক্তে এখনো খেলাধুলাই রয়েছে। আমি অতীতে রাজনীতি করিনি। এজন্য আমি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা নিয়েই আছি। আমার রাজনীতি নিয়ে অতটা মাথাব্যথা নেই।
এলাকার মানুষের প্রত্যাশা কিংবা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কতটুকু পূরণ করতে পেরেছেন?
করোনাকালীন দুই বছর কাজ করা কঠিন ছিল। এছাড়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। তার পরও প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ আমরা অনুমোদন করিয়েছি এবং সেগুলো দৃশ্যমান হতে হয়তোবা আরো কিছুদিন সময় লাগবে। চ্যালেঞ্জটা অনুমোদন করানো, তবে কিছু কাজ দৃশ্যমান হয়েছে। মূল কাজগুলো দৃশ্যমান হলে এলাকার চেহারা পাল্টে যাবে।
উন্নয়ন কাজগুলো কতটুকু দৃশ্যমান হয়েছে? আগামীতে বরাদ্দের বিশেষ কোনো প্রতিশ্রুতি রয়েছে কিনা?
আমি বাড়তি প্রতিশ্রুতি দিই না। কিন্তু কাজ সব জায়গায় করতে চাই। প্রতিশ্রুতি জিনিসটা আমার ভালো লাগে না। কারণ করোনা আসবে সেটা আমরা জানতাম না। তখন আমরা কাজ করতে পারিনি। সে সময় আমাদের উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে বাঁচানো যায় কীভাবে, সাপোর্ট দেয়া যায় কীভাবে, সেটা। পরিস্থিতি বুঝেই প্রতিশ্রুতি। পরিস্থিতি যেখানে আমাকে নিয়ে যাবে সেখানেই কাজ করব।
আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন। তবে এখন আগামী নির্বাচন নিয়ে কিছু ভাবছি না। এই মুহূর্তে আমার লক্ষ্য নির্বাচনের আগে নড়াইলের মানুষের জন্য আরো কীভাবে কাজ করা যায় সেটাই। পরেরটা পরে ভাবা যাবে।
আপনাকে ঘিরে বলয় গড়ে ওঠার কারণে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আপনার দূরত্ব বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাই।
আমার পক্ষ থেকে কারো সঙ্গে দূরত্ব নেই। আমার খেলোয়াড় জীবনে কারো সঙ্গে কখনো দূরত্ব ছিল না, রাজনৈতিক জীবনেও নেই। দূরত্ব তৈরি করার জন্য আমি এখানে যাইনি, কাজ করার জন্যই গিয়েছি। সুতরাং দূরত্ব তৈরি হওয়ার কিছু নেই। তবে আমি আরেকজনের মতামত বলতে পারব না, আরেকজনের ভেতরে কী আছে সেটাও আমি জানি না। আমার থেকে কারো সঙ্গে দূরত্ব, শত্রুতা হওয়ার মতো কোনো কারণ নেই। আর এটাও খুবই স্বাভাবিক যারা দীর্ঘদিন রাজনীতি করে আসছেন তাদের চাওয়া-পাওয়াটাও খারাপ কিছু না। আর চাওয়া থাকলেও সেটা খারাপ কিছু দেখি না। সেটা গণতান্ত্রিক চর্চা। আর তৃণমূলের সঙ্গে আমার কেমন সম্পর্ক সেটা দেখতে তৃণমূলে যেতে হবে। আমার কথা কেন শুনবেন? সেখার খবর নিতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছেই যেতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে নড়াইলে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এগুলো যাতে পরবর্তী সময়ে আর না ঘটে সে ব্যাপারে কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন?
আমরা যারা ছোটবেলা থেকেই নড়াইলে বড় হয়েছি, আমরা কখনোই এ ধরনের ঘটনা দেখিনি, সাম্প্রদায়িকতা আমরা কখনো দেখিনি। হুট করে এ ধরনের ঘটনা কেন ঘটল সেটা তদন্তসাপেক্ষ ব্যাপার। তবে আমার কাছে মনে হয়, ওখানে যা যা করণীয় আমি সবই করেছি। আমি তার থেকে বেশি করার চেষ্টা করেছি। মানুষ যদি খারাপ কিছু করতে চায় সেই মানুষগুলোকে অনুরোধ করব যে এ ধরনের কাজ যেন না করে। নড়াইল একটা শান্তিপূর্ণ জায়গা, মানুষ শান্তিতে বিশ্বাসী। এই জিনিসগুলো যেন মানুষ না করে সেটা আমি সবার কাছে অনুরোধ করব। আর আমরা প্রশাসনের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা যেন এসব বিষয়ে আরো কঠোর হয়।
আপনি বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যেও অনেক ক্ষোভ-অসন্তোষ আছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
আমাদের এখানে যারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তারা সবাই আমার মুরুব্বি। তারা দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন, তাদের চাওয়া-পাওয়া থাকতে পারে। এটা ভুলি কিছু না। সেই জায়গা থেকে তারা কথা বলতে পারেন। আবার ওনাদের কী সমস্যা সেটা আমাকেও বলতে পারেন। আমি আহ্বান জানাব তারা যেন আমাকে বলেন। আমি খুব অল্প সময়ে আসছি, আমার ভুল হতে পারে, এটা আমি অস্বীকার করছি না। তবে অব্যবস্থাপনা, ওনাদের কোনো কাজে সম্পৃক্ত না করা, ওনাদের অসম্মান করা—এ জাতীয় কাজ একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে নিজেও প্রত্যাশা করি না। আবার সবকিছু আমার একার ওপর নির্ভর করছে না। আমাকে কীভাবে গ্রহণ করছেন সেটার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। সে রকম জায়গা হলে হয়তোবা কঠিন। তবে প্রধানমন্ত্রীর জন্য কাজ করা বা ওনারা (দলীয় নেতারা) মুরুব্বি হিসেবে যদি কোনো কাজ করার পরামর্শ দেন সেটা করার জন্য সবসময়ই প্রস্তুত।
আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
আগামী সংসদ নির্বাচনের আগের সময় নিয়েই ভাবছি। নির্বাচনের আগে আমাদের নেত্রী যাকেই মনোনয়ন দেবেন তার জন্যই কাজ করব। তবে আমার কাছে নির্বাচনের আগমুহূর্তটাই গুরুত্বপূর্ণ। পরেরটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আর আগাম ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সময় এখনো আসেনি।
নির্বাচনী এলাকার জনগণের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?
নড়াইল-২ আসনের মানুষ সবসময় আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রেখেছেন। করোনা, অর্থনৈতিক মন্দার পরও বিগত সাড়ে চার বছরে নড়াইলে যে উন্নয়ন হয়েছে সেটা অন্যান্য জেলার সঙ্গে মেলালে বোঝা যাবে। নড়াইল সি-ক্যাটাগরির একটা জেলা। এসব জেলায় স্বাভাবিকভাবেই বরাদ্দ কম থাকে। সে প্রেক্ষাপট থেকে বিবেচনা করলে বোঝা যাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নড়াইলকে কত কিছু দিয়েছেন। সে জায়গা থেকে আমার বিশ্বাস, আগামী নির্বাচনেও জনগণ আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে থাকবেন। আওয়ামী লীগ থেকে যে-ই মনোনয়ন পাবেন জনগণ তাকেই ভোট দেবেন।





