স্বাধীনতার ৫০
বছরে ব্যাংক খাত যেভাবে প্রবৃদ্ধি অর্জন
করে, বীমা
খাত সেভাবে কি এগোতে
পেরেছে?
ব্যাংকগুলো যেভাবে
বিস্তার
লাভ
করেছে,
তার
সঙ্গে
তাল
মিলিয়ে
বীমা
খাতের
অগ্রগতি
হওয়া
উচিত
ছিল।
শিল্পায়ন
ও
আমদানি-রফতানি
বৃদ্ধির
সঙ্গে
সঙ্গে
ইন্স্যুরেন্স
এগিয়ে
গেছে।
তবে
ইন্স্যুরেন্স
কোম্পানিগুলো
হেলদি
হয়নি।
এর
অন্যতম
কারণ
হচ্ছে
ইন্স্যুরেন্স
খাতে
শৃঙ্খলার
অভাব
ছিল।
১৯৯০
সালের
আগের
প্রথম
প্রজন্মের
ইন্স্যুরেন্সগুলোর
আর্থিক
অবস্থা
ভালো
হওয়ার
কথা
ছিল।
কিন্তু
তদারকির
অভাবের
কারণেই
হোক
কিংবা
কোম্পানির
মালিক
বা
ব্যবস্থাপনার
সঙ্গে
জড়িতদের
দুর্বলতার
কারণেই
হোক
কোম্পানিগুলো
তহবিল
বাড়াতে
পারেনি।
সে
সময়
মূলত
এ
খাতে
তদারকিই
ছিল
না।
তাই
মালিক
ও
ব্যবস্থাপনায়
জড়িতরা
তহবিলগুলোকে
সঠিকভাবে
ব্যবহার
করেনি।
দ্বিতীয়
প্রজন্মের
কোম্পানিগুলোও
একই
কারণে
শক্তিশালী
হতে
পারেনি।
সে
সময়
ইন্স্যুরেন্স
কোম্পানিগুলোর
তহবিল
অন্যভাবে
তছরুপ
হয়ে
গেছে।
এরপর
১৯৯৬
সালে
এ
খাতে
সংস্কারের
উদ্যোগ
নেয়া
হয়।
২০১০
সালে
কন্ট্রোল
অব
ইন্স্যুরেন্সকে
বিলুপ্ত
করে
বীমা
উন্নয়ন
ও
নিয়ন্ত্রণ
কর্তৃপক্ষ
(আইডিআরএ) করা
হয়।
এর
পরই
ইন্স্যুরেন্স
কোম্পানিগুলোর
উন্নয়নের
পাশাপশি
তদারকির
বিষয়গুলোয়
জোর
দেয়া
হয়।
এতে
গত
দুই
বছরে
সব
ইন্স্যুরেন্স
কোম্পানি
ভালো
করছে।
আগে
আমরা
ব্যাংকের
ইন্স্যুরেন্সের
জন্য
ব্যাংকের
পিছে
পিছে
ঘুরতাম।
বর্তমানে
ব্যাংকগুলো
তহবিলের
জন্য
ইন্স্যুরেন্স
কোম্পানিগুলোর
পিছে
পিছে
ঘোরে।
এছাড়া
বর্তমানে
জনগণ
ব্যাংকের
শেয়ার
কেনার
চেয়ে
ইন্স্যুরেন্সের
শেয়ার
কিনে
বেশি
লাভবান
হচ্ছে।
সরকারি ভবন
বা বৃহৎ
স্থাপনাগুলো কি
বীমার আওতায়
এসেছে?
এখনো সরকারি
ভবনগুলোর
ইন্স্যুরেন্স
করা
হয়নি।
প্রায়
৪০
শতাংশ
ভবনই
ইন্স্যুরেন্সের
বাইরে।
সরকার
তো
জনগণকে
ইন্স্যুরেন্স
করার
বিষয়ে
সচেতন
করছে।
কিন্তু
সরকারকেই
আগে
সচেতন
হতে
হবে।
সরকারের
গুরুত্বপূর্ণ
স্থাপনা
ও
বৃহৎ
ভৌত
অবকাঠামো
বীমা
পলিসির
অধীনে
আনা
উচিত।
এগুলো
যদি
বীমা
পলিসির
অধীনে
থাকে,
তবে
সরকারেরই
ঝুঁকি
কমে।
এখন
আইডিআরএর
কাজ
হবে
সরকারের
স্থাপনাগুলোকে
কীভাবে
ইন্স্যুরেন্সের
আওতায়
আনা
যায়
সে
বিষয়ে
জোর
দেয়া।
তাহলে
বীমায়
দ্বিগুণ
প্রিমিয়াম
হবে।
পাশাপশি
সরকারের
দ্বিগুণ
ভ্যাট-ট্যাক্স
অর্জন
হবে।
আগে
থার্ড
পার্টি
ইন্স্যুরেন্স
ছিল,
কিন্তু
এটি
বন্ধ
করে
দিয়েছে
সরকার।
এতে
ইন্স্যুরেন্স
কোম্পানিগুলো
অনেক
প্রিমিয়াম
হারিয়েছে,
সরকারও
ভ্যাট-ট্যাক্স
হারাচ্ছে।
সাধারণ
জনগণও
ক্ষতিপূরণ
পাওনা
থেকে
বঞ্চিত
হয়েছে।
পৃথিবীর
সব
দেশেই
থার্ড
পার্টি
বীমা
চালু
রয়েছে।
তাই
আমাদের
দেশেও
যদি
এটি
আবারো
চালু
করা
যায়
তাহলে
সবাই
উপকৃত
হবে।
এ শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, তবে
অনেক সময়
অনেক প্রতিষ্ঠান বীমা দাবি
সময়মতো পরিশোধ না করায়
জনগণের আস্থার সংকট দেখা
দিচ্ছে। এ
বিষয়ে আপনার
অভিমত কী?
আগে সাধারণ
বীমা
কোম্পানিগুলোর
বিরুদ্ধে
বীমা
দাবি
পরিশোধ
না
করার
অভিযোগ
ছিল।
বেশির
ভাগ
ক্ষেত্রেই
ইন্স্যুরেন্স
কোম্পানিগুলোরই
দোষ
ছিল।
যদিও
গ্রাহকও
ঠিকমতো
কাগজপত্র
সংরক্ষণ
করত
না।
তাই
এক্ষেত্রে
গ্রাহকদেরও
কিছু
সমস্যা
ছিল।
তবে
আইডিআরএ
হওয়ার
পর
সাধারণ
বীমা
কোম্পানিগুলোর
আর
দাবি
পরিশোধ
না
করার
কোনো
সুযোগ
নেই।
কারণ
কোনো
কোম্পানি
যদি
দাবি
পরিশোধ
না
করে
আর
সেই
গ্রাহক
যদি
আইডিআরএর
কাছে
অভিযোগ
জানায়,
তাহলে
সঙ্গে
সঙ্গেই
দাবি
পরিশোধের
জন্য
চাপ
প্রয়োগ
করে
নিয়ন্ত্রণ
সংস্থা।
তাই
সাধারণ
কোম্পানিগুলোর
ক্ষেত্রে
এখন
দাবি
পরিশোধসংক্রান্ত
কোনো
সমস্যা
নেই।
তবে
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান
পুরোপুরি
কমপ্লায়েন্ট
না
হওয়ায়
গ্রাহকরা
সঠিক
কাগজ
দেখাতে
পারে
না।
তাই
কিছুু
ক্ষেত্রে
সমস্যা
দেখা
দেয়।
জীবন
বীমার
ক্ষেত্রে
দাবি
পরিশোধ
করার
বিষয়ে
অগ্রগতি
হয়েছে।
তবে
এখনো
সেখানে
কিছু
সমস্যা
রয়েছে।
তবে
দাবি
পরিশোধ
এখন
অনেক
স্বচ্ছ।
করোনা মহামারীর মধ্যেই বাংলাদেশে তৃতীয় বারের
মতো বীমা
দিবস পালিত
হতে যাচ্ছে। এবার দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে
‘বীমায়
সুরক্ষিত থাকলে
এগিয়ে যাব
সবাই মিলে’। এ দিবস
নিয়ে কী
বলবেন?
মানুষ সাধারণভাবে
মনে
করে
বীমা
আবার
কী?
কিন্তু
বীমা
এমন
একটি
জিনিস,
যা
সরকারি-বেসরকারি
সব
ধরনের
সম্পদের
সুরক্ষা
দেয়।
যেকোনো
অ্যাকসিডেন্টাল
ক্ষয়ক্ষতি
তাত্ক্ষণিকভাবে
কাটিয়ে
উঠতে
বীমার
গুরুত্ব
অপরিসীম।
শিল্প-কারখানা
ক্ষতিগ্রস্ত
হলে
সঙ্গে
সঙ্গে
সেটা
চালু
করা,
একজন
মানুষ
অসুস্থ
হলে
তার
চিকিৎসার
ব্যবস্থা
করা
অর্থাৎ
একজন
ব্যবসায়ীর
বা
মানুষের
জীবনে
যে
গতি
থাকে,
সে
গতির
যেন
ছন্দপদন
না
হয়,
সেজন্য
সবার
আগে
এগিয়ে
আসে
ইন্স্যুরেন্স
কোম্পানি।
বীমার
দায়িত্ব
হচ্ছে
যে
পরিমাণ
ক্ষতি
হয়েছে
সমপরিমাণ
ক্ষতিপূরণ
দিয়ে
ব্যবসাটা
আগের
অবস্থায়
ফিরিয়ে
আনা।
তাই
আমরা
আমাদের
লাইফ-ননলাইফ
সব
যদি
বীমার
আওতায়
আনি,
তাহলে
যেকোনো
দুর্ঘটনায়
উৎপাদন
বা
জীবনের
কার্যক্রম
চলতে
থাকবে।
করোনা মহামারীতে তিন বছরে
প্রায় সব
ধরনের শিল্পে প্রভাব পড়েছে। বীমা খাতে
এ প্রভাব কেমন বলে
মনে করেন?
২০২০ ও
২০২১
সালে
এ
খাতের
ওপর
বেশ
খারাপ
প্রভাব
পড়েছিল।
২০২০
সালে
বেশি
প্রভাব
পড়েছিল।
তারপর
২০২১
সালে
সেটি
কমে
আসে।
আমরা
চ্যালেঞ্জ
মোকাবেলা
করা
শিখে
গেছি,
তাই
চলতি
বছর
প্রভাব
আরো
কম
পড়েছে।
তবে
চ্যালেঞ্জ
মোকাবেলা
করতে
গিয়ে
আইটি
খাতে
খরচ
বেড়ে
গেছে।
কিন্তু
অন্যান্য
দিকে
আবার
কিছুটা
খরচ
কমেও
গেছে।
সর্বোপরি
আধুনিক
বিশ্বে
তথ্যপ্রযুক্তির
সঙ্গে
তাল
মিলিয়ে
ব্যবসা-বাণিজ্য
করতে
আমরা
অভ্যস্ত
হয়ে
গিয়েছি।
এটা
ভালো
দিক।
বীমা শিল্পের উন্নয়নে কোন
দিকে নজর
দেয়া দরকার
বলে মনে
করেন?
বীমা শিল্পের
আওতা
বাড়াতে
হবে।
শিল্পায়ন
যত
এগিয়ে
যাবে
ইন্স্যুরেন্সও
তত
এগিয়ে
যাবে।
তবে
খেয়াল
রাখতে
হবে,
এ
খাতে
অনিয়ম-দুর্নীতি
যেন
আগের
মতো
অবস্থায়
চলে
না
যায়।
কন্ট্রোল
অব
ইন্স্যুরেন্স
যখন
ছিল
তখন
খুব
খারাপ
অবস্থা
ছিল।
আবার
যদি
সে
অবস্থায়
চলে
যায়
তাহলে
আবার
খাতটি
দাঁড়াতে
পারবে
না।
তবে
আশার
কথা
হচ্ছে,
এখন
পর্যন্ত
বীমা
শিল্প
উন্নতির
দিকেই
যাচ্ছে।
এ
খাতকে
আর্থিকভাবে
শক্তিশালী
করতে
প্রতি
বছর
অভ্যন্তরীণ
অডিটের
পাশাপাশি
আইডিআরএর
পক্ষ
থেকেই
প্রতি
বছর
অডিটের
ব্যবস্থা
করতে
হবে।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মেসবাহুল হক





