বাংলাদেশ সবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বর্তমান সরকার অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে দ্রুত নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার মাধ্যমে সারা বিশ্বে বেশ সমাদৃত হচ্ছে। নীতিনির্ধারকদের সহযোগিতার মাধ্যমে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে বীমা খাতের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য বিনিয়োগের বিভিন্ন খাতের সংগতিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি নজরদারি দরকার। দেশের অর্থনীতিকে আরো এগিয়ে নেয়ার জন্য বীমা খাতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার অন্তর্ভুক্তি অত্যাবশ্যক। দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি মোকাবেলার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হয়, যা বেশির ভাগ উন্নত রাষ্ট্র তাদের অর্থনীতির উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বীমা ব্যক্তি, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি থেকে নিরাপত্তা দেয়। পাশাপাশি সরকারের অর্থনৈতিক দায় হ্রাস করে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে। ফলে ব্যবসায়িক উন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বীমা খাতে উন্নয়নের প্রবণতা বাংলাদেশের বীমা শিল্পের পুনরুজ্জীবনের পূর্বাভাস দিচ্ছে। প্রযুক্তিগত ব্যবহারের ফলে গ্রাহকদের মাঝে বীমার চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। প্রকৃতপক্ষে কভিড-১৯ মহামারীর ফলে বীমা সুরক্ষার চাহিদা পুনরায় জোরালো হচ্ছে।

বীমা একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া, যেখানে মানুষজন তাদের নিজেদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিনিয়োগ করে। বিশেষভাবে বলতে গেলে বীমা হচ্ছে একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার বিনিয়োগ খাত, যেখানে মানুষজন তাদের অর্থসম্পদ বিনিয়োগের মাধ্যমে বীমা কোম্পানি থেকে নিরাপত্তা পায়।

n   বাংলাদেশে সাধারণ ও জীবন বীমা কোম্পানিগুলো শুধু ক্যাপটিভ এজেন্সি এবং কমিশন সেলস মডেলের ওপর নির্ভরশীল। অথচ যেখানে সারা বিশ্বে বীমা প্রচার ও বিপণন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল ব্যবহার করা হয়।

n   কোম্পানিগুলো এজেন্ট ও ব্রাঞ্চের ওপর নির্ভরশীল; কিন্তু অনেক এজেন্ট ও ব্রাঞ্চ থাকলেও তাদের কার্যকারিতা সেভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

n   গ্রাহকরা বীমা ক্রয়ের পদ্ধতি ও সুবিধা সম্পর্কে অসচেতন এবং কোম্পানিগুলো ও গ্রাহকদের কাছে সঠিকভাবে পর্যাপ্ত তথ্য সরবরাহ করতে পারছে না।

n   গ্রাহকদের রিনিউয়াল প্রিমিয়াম প্রদানে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

n   কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতার অভাব।

n   এজেন্টদের অবহেলা ও অসততার কারণে গ্রাহকদের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

n   কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা দুরূহ।

প্রযুক্তিগত ব্যবহারের ফলে আগের চেয়ে কার্যকর, সঠিক ও সহজভাবে বীমা দাবি নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে। যেহেতু বীমা দাবি নিষ্পত্তি করা বীমাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেয়, তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বীমা দাবি নিষ্পত্তির জন্য কোম্পানিগুলো চলমান অগ্রগতির মাধ্যমে উদ্ভাবনী পদ্ধতি খুঁজতে থাকে। মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বীমার বিস্তার ঘটানো সম্ভব। গ্রাহকরা বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাস্টমাইজড বীমা সেবা গ্রহণ করতে পারেন। গ্রাহকরা তাদের ইচ্ছানুযায়ী পলিসি ক্রয় ও বীমা সেবা গ্রহণ করতে পারেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে বীমাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বীমা কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ, যেমন ঝুঁকি নির্ণয়, প্রতারণা শনাক্তকরণ এবং অবলিখনের কাজগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে কোম্পানিগুলো দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে রিপোর্টিং করতে পারে।

বাংলাদেশের বীমা কোম্পানিগুলোকে গত দশ বছরে অসীম চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পাশাপাশি গ্রাহকের প্রত্যাশারও পরিবর্তন লক্ষ করতে হয়েছে, যা এ দশকের শুরুতেই কভিড-১৯ দ্বারা বিঘ্নিত হয়েছে কিন্তু প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তির ফলে অধিকাংশ অন্তরায় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম, সেহেতু গ্রাহকের চাহিদাই তাদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োগের সহায়ক হয়েছে। পাশাপাশি বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে।

 

এসএম জিয়াউল হক: মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড