এতে এএমআরের বিরুদ্ধে আটটি কৌশলমূলক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে (যেমন এএমআর সার্ভেইল্যান্স জোরদারকরণ, ল্যাবরেটরি নির্মাণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ, ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (আইপিসি), জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মাল্টিসেক্টরাল কো-অর্ডিনেশন গবেষণা, এনভায়রনমেন্টাল সেক্টরের আরো বেশি সম্পৃক্ততা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
বর্তমানে এএমআরের সার্ভেইল্যান্স চলমান (বর্তমানে ১১টি সরকারি ও ২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে)। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি ২২টি ল্যাব থেকে এএমআরের তথ্য জাতীয় রেফারেন্স ল্যাবরেটরি, আইইডিসিআরে অনলাইনে প্রেরিত হচ্ছে। বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে ডব্লিউএইচওর GLASS ডেটাবেজে এএমআর ও এএমইউ সম্পর্কিত তথ্য শেয়ার করছে। বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠীর সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরি আধুনিকায়ন করা হয়েছে এবং সেসব ল্যাব থেকে নিয়মিত এএমআর সম্পর্কিত তথ্য শেয়ার করা হচ্ছে। দেশের কয়েকটি হাসপাতালে এএমএস পাইলটিং করা হয়েছে এবং সব সরকারি হাসপাতালে এএমএস কমিটি কার্যকর করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। কিছু হাসপাতালে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রেসক্রাইবিং সার্ভে পরিচালনা করা হয়েছে।
আইপিসির সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সব হাসপাতালে আইপিসির কমিটি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালগুলোর প্রশাসক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের আইপিসি (সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ) এএমএস (অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবস্থাপনা/স্টুয়ার্ডশিপ)—বিষয়ক মতবিনিময় সভা ও প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে।
এএমআর-সংক্রমণ মোকাবেলায় জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য DGHS প্রতিটি সেক্টরে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, বিশ্ব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ (১৮-২৪ নভেম্বর) উপলক্ষে সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা, সেমিনার, মাইকিং, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সংক্রান্ত লাল মোড়কজাত লিফলেট ও পোস্টার প্রদর্শনী ইত্যাদি কার্যক্রম চালানো হয়েছে। এছাড়া পাস এএমআর নামক প্রকল্পের মাধ্যমে ইন্টিগ্রেটেড এএমআর সার্ভে পাইলটিং করা হচ্ছে। এএমআর সার্ভের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্কও প্রস্তুত করা হয়েছে।
আমাদের প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলো হলো জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মাইক্রোবায়োলজিক্যাল কালচার ল্যাব চালুর সক্ষমতা সীমিত থাকা, ড্রাগ অ্যান্ড কমোডিটি অ্যাক্ট ২০২৩-এর মাঠ বাস্তবায়ন অপ্রতুল থাকা, ওটিসি (প্রেসক্রিপশন ছাড়া নেয়া যায় এমন ওষুধ) অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বিক্রির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত জনবল ও সরঞ্জামের ঘাটতি এবং পরিবেশ বিভাগে সীমিত সম্পৃক্ততা।
ডিজিএইচএস এএমআর-এর মোকাবিলা আর শক্তিশালী করতে ন্যাশনাল অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ (AMS) গাইডলাইন অনুযায়ী সব সরকারি রিসেপশনে এএমএস কমিটি গঠন ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশনা প্রদান করছে। দেশের সব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে ন্যাশনাল অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ গাইডলাইন বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে।
কিছু রিসেপশনে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপের পাইলটিংয়ের মাধ্যমে প্রেসক্রিপশন মনিটরিং, এএমএস টিম প্রতিষ্ঠা, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ট্রিটমেন্ট গাইডলাইন (STG) ফর কমন ইনফেকশিয়াস ডিজিস প্রণয়ন ও STG অ্যাপ প্রস্তুতকরণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসকদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণও প্রদান করা হচ্ছে।
এএমআর আউটব্রেক নিয়ন্ত্রণের জন্য ন্যাশনাল গাইডলাইনস ফর ম্যানেজিং এএমআর আউটব্রেকস প্রণয়ন করা হয়েছে। কমিউনিটি ও ক্লিনিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যবার্তাগুলো প্রচারের জন্য সংক্রামক রোগ প্রতিরোধবিষয়ক ফ্লিপচার্টে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা বার্তা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
জনগণের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহার ও অভ্যাস পরিবর্তনে নতুন সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে এএমআর বিষয়ক কুইজ, পোস্টার প্রতিযোগিতা এবং সচেতনতামূলক সভা আয়োজন করা হচ্ছে। দেশের আটটি সরকারি মেডিকেল কলেজের স্বাস্থ্য প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সমন্বয়ে ক্লিনিক্যাল এনগেজমেন্ট ও এএমআর কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও কমিউনিটিতে প্রচারণা, কমিক বই, আর্ট/গেম পরিচালনা, বিশ্ব এমএমআর সচেতনতা সপ্তাহ (১৮-২৪ নভেম্বর), ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচ সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা, সেমিনার, মাইকিং, ওয়েবিনার, ডিজিটাল মিডিয়া ক্যাম্পেইনসহ অন্যান্য কার্যক্রম আয়োজন করা হচ্ছে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল টোকেনিং এবং লাল মার্কিংয়ের মাধ্যমে সচেতন বার্তা প্রদানের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে যে গ্রাহক সহজে বুঝবে, প্রেসক্রিপশন ছাড়া এটি গ্রহণ করা উচিত নয়।
ডিজিএইচএস এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবস্থাপনাকে আরো শক্তিশালী করছে।
মানব, পশু ও পরিবেশ খাতে এএমআর ডিজিএইচএস মা ও নবজাতক, পশু ও পরিবেশ খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ (এএমআর) ব্যবস্থাপনাকে আরো শক্তিশালী করার জন্য একটি ওয়ান হেলথ কাঠামো তৈরি করেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃষি মন্ত্রণালয় কো-চেয়ারপারসন হিসেবে এতে অংশগ্রহণ করছে। সচিব হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ন্যাশনাল স্টিয়ারিং কমিটির কার্যক্রম সমন্বয় করছে।
ন্যাশনাল স্টিয়ারিং কমিটিতে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকরা চেয়ারপারসন, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালকরা কো-চেয়ারপারসন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক, ডিজিএইচএস কন্ট্রোল ইউনিট এবং ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট (ARC) প্রোগ্রাম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ কাঠামোর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে যাতে এএমআর সংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন, প্রশিক্ষণ, মনিটরিং ও সচেতনতা কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে। ডিজিএইচএসের এ উদ্যোগ দেশের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবস্থাপনাকে আরো দৃঢ় ও সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।










