একটা হচ্ছে ক্লিনিক্যাল মানে, কেস বেজড সার্ভিল্যান্স। এর মাধ্যমে নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট কিছু স্যাম্পল আমরা সংগ্রহ করি এবং সেখানে আমরা প্যাথোজেন সনাক্ত করি এবং তাদের আগের বৃত্তান্ত নিই। দ্বিতীয়টি হলো ল্যাবরেটরি বেজড সার্ভিল্যান্স। সরকারি ল্যাবগুলোর সঙ্গে আমাদের একটি নেটওয়ার্কিং আছে। তারা প্রতিদিন রোগীর কাছ থেকে যে স্যাম্পলগুলো পান, সেগুলোর প্রথমে কালচার সেনসিটিভিটি করেন এবং তা আমাদের পোর্টালে সাবমিট করেন। আমাদের কাছে দুই ধরনের উপাত্ত থাকে। এ দুই ধরনের উপাত্ত হসপিটালে কী ধরনের ইনফেকশন, তার সেনসিটিভিটি প্যাটার্ন কেমন এবং কমিউনিটিতে কী ধরনের ইনফেকশন, তার সেনসিটিভিটি প্যাটার্ন কেমন সে সম্পর্কে একটা ধারণা দেয়। আমাদের ল্যাবরেটরিটাকে বলা হয় এএমআর সার্ভিল্যান্স রেফারেন্স ল্যাবরেটরি। এটি ডেজিগনেটেড ল্যাবরেটরি। আমাদের প্রথম কাজ ছিল যে জায়গায় আমাদের সার্ভিল্যান্সগুলো চালাচ্ছি, প্রত্যেক জায়গায় ল্যাবরেটরি শক্তিশালী করা।
আমাদের উদ্দেশ্য ছিল যেখান থেকে আমরা স্যাম্পল সংগ্রহ করব, ওখানেই আমরা সেটার টেস্টিং করব। যাতে আমরা সেন্টিনেল সাইট ল্যাবরেটরির সক্ষমতা বাড়াতে পারি। এই প্রক্রিয়ায় আমরা বিভিন্ন ধরনের সাহায্য পেয়েছি। ডব্লিউএইচও আমাদের সাহায্য করছে। আমরা ইএসসিডিসি থেকে সাহায্য পেয়েছি। পরে আমরা ফ্লেমিং ফান্ড থেকে সহযোগিতা পেয়েছি। বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে প্রথমে আমরা ল্যাবরেটরিগুলোকে শক্তিশালী করেছি। যাতে যে জায়গার স্যাম্পল সে জায়গায় টেস্ট করানো যায়। কারণ মাইক্রোবায়োলজিক্যাল স্যাম্পলগুলো দ্রুততার সঙ্গে টেস্ট করতে হয়, তা না হলে রেজাল্ট ঠিকঠাক আসে না। যে জায়গা থেকেই টেস্ট করা হোক, রেজাল্টগুলো আমাদের অনলাইন প্লাটফর্মে সাবমিট করা হয়। আমাদের এখানে বায়ো-ডেপোজিটরিও মেইনটেইন করা হয়। তার মানে বিভিন্ন জায়গায় ওনারা যে আইসোলেটগুলো পান তা আবার আমাদের কাছে আসে। সেগুলো আমরা রেখে দিই ভবিষ্যতে অন্যান্য আরো গবেষণা করার জন্য। নতুন নতুন যে পদ্ধতিগুলো রয়েছে, সেগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। আমরা স্যাম্পলগুলোর কোয়ালিটি চেকও করি। প্রফিসিয়েন্সি টেস্টের জন্য আমাদের আননোন স্যাম্পলগুলো বিভিন্ন জায়গায় বা আমাদের সাইট ল্যাবরেটরিতে দিই।
আমরা এরই মধ্যে ওয়েস্টওয়াটার সার্ভিল্যান্স বা এনভায়রনমেন্টাল সার্ভিল্যান্সে কাজ শুরু করেছি, তবে তা খুবই ছোট পরিসরে। তবে পিসমিল হিসেবে আমাদের কিছু আগে থেকেই চলমান আছে। এটাকে আমরা স্কেলআপ করব এবং করার প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। কারণ আমরা ডব্লিউএইচও মাল্টি কান্ট্রি রিজিওনাল প্যান্ডেমিক ফান্ড অ্যাওয়ার্ডেড হয়েছিলাম সেকেন্ড কলে। সেখানে আইইডিসিআরকে ওনারা সিলেক্ট করেছেন। সুতরাং আমাদের এ কাজগুলো খুব তাড়াতাড়ি শুরু হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা কিছু কাজ আগে থেকেই শুরু করেছি, যেটা এখনো চলমান আছে।
আমাদের উপাত্ত শেয়ারিংয়েও কোনো অসুবিধা নেই। হিউম্যান হেলথের সার্ভিল্যান্সটা রোবাস্ট ও সিস্টেমেটিক, এটির নেটওয়ার্কিং অনেক শক্তিশালী। তবে অ্যানিমেল হেলথ সার্ভিল্যান্সটা মাত্র শুরু হয়েছে। যার কারণে ছোট ছোট কিছু উপাত্ত আমাদের এখানে আছে। এটি হলো ফ্র্যাগমেন্টেড ডেটা। হিউম্যান হেলথ একটি কন্টিনিউয়াস ডেটা, অন্যদিকে অ্যানিমেল একটি ফ্র্যাগমেন্টেড ডেটা, স্বাভাবিকভাবে এ দুটিকে সমন্বয় করা কষ্টকর। তবে আমাদের একটি ওয়ার্ল্ড হেলথ ড্যাশবোর্ড আছে, যেটির মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করছি সব সার্ভিল্যান্স সমন্বয় করার। যখন সব সার্ভিল্যান্স একই গতিতে চলবে, তখনই উপাত্ত বিনিময় প্লাটফর্মটি ফলপ্রসূ হবে। তখন আমরা সবকিছু একই সঙ্গে পাব।
আরেকটি বিষয় হলো, একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে আসলে সব অঞ্চল নিয়ে কাজ করা কষ্টকর। তাই আমাদের অন্যান্য সহযোগী সংস্থার সঙ্গে কাজ করার দরকার হয়। কারণ কাজ করতে গেলে দক্ষ মানবসম্পদের প্রয়োজন হয়। আমরা আমাদের সব সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে ধীরে ধীরে এগোচ্ছি। সবার সহযোগিতায় ভবিষ্যতে আমরা আমাদের প্লাটফর্মকে আরো শক্তিশালী করব।
আমাদের কোনো প্রযুক্তির ঘাটতি নেই। কারণ আমরা বিভিন্ন দাতা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার কাছ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা পাচ্ছি। ওনাদের সহযোগিতায় ল্যাবরেটরিগুলোতে একটা স্ট্যান্ডার্ড নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সমস্যা হচ্ছে এটাকে টেকসই করা। এটিকে আমাদের সরকারি ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাহলে টেকসই ব্যবস্থাপনার দিকে চিন্তা করতে পারব। আরো কিছু জিনিস গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো হলো দক্ষ মানবসম্পদ, সঠিক পদে সঠিক মানুষের পদায়ন।
যেকোনো কাজে ভালো আউটপুটের জন্য কোলাবোরেশন বা কো-অর্ডিনেশন জরুরি। এটি ছাড়া ভালো ফলাফল আসবে না। আইইডিসিআর শুরু থেকেই এটা মেনে চলে। আমাদের অনেক কোলাবোরেটর আছে। আমরা এ কোলাবোরেশনের মাধ্যমেই বিভিন্ন রকমের কাজ করি এবং ডেফিনিটলি ভবিষ্যতে যখন কর্মপরিধি বাড়াব, তখন আমাদের কোলাবোরেশন আরও বাড়াতে হবে।










