এখন তিনি বুঝে চিকিৎসা করেন, রোগের ধরন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন এবং প্রয়োজনে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেন।

‘আগে রোগ দেখলেই ওষুধ দিতাম। এখন জানি, সব রোগে অ্যান্টিবায়োটিক লাগে না,’ নাসিমার এই অভিজ্ঞতার মধ্যেই ফুটে ওঠে গ্রামীণ খামারে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের বাস্তব চিত্র। মাস্টাইটিস, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ কিংবা ডায়রিয়ার মতো রোগে অনুমানভিত্তিক ও অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার শুধু খামারের ক্ষতিই করে না, বরং তৈরি করে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর), যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি।

‘সর্বজয়া’ প্রকল্পের মাধ্যমে খামারিদের শেখানো হচ্ছে যে কখন পশু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে, কোন ওষুধ কখন ব্যবহার করা যাবে এবং চিকিৎসাকালে দুধ বা মাংস কেন বাজারে দেয়া যাবে না। এই প্রশিক্ষণের ফলে খামারে উৎপাদনশীলতা বাড়ছে, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত হচ্ছে এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ঝুঁকি কমছে।

04

নাসিমার খামারে এখন নিয়মিত ওষুধ ব্যবহারের রেকর্ড রাখা হয়, দুধ সংগ্রহের আগে পশুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা হয়। তিনি জানেন যে ভুল চিকিৎসা শুধু পশুকেই নয়, মানুষের স্বাস্থ্যকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। খামারের পরিবেশ ব্যবস্থাপনাতেও এসেছে পরিবর্তন। গোবর থেকে জৈব সার তৈরি, খামারের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খামার এখন আরো স্বাস্থ্যসম্মত ও লাভজনক হয়েছে।

এই অভিজ্ঞতা দেখায়, যুক্তিসংগত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার এবং উন্নত পশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা একদিকে খামারের উৎপাদন বাড়ায়, অন্যদিকে এএমআর ঝুঁকি কমিয়ে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তোলে।