তারপরও রোগ দেখা দিলে অ্যান্টিবায়োটিক না দিলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি হয় বলেই আমরা এর ব্যবহার চালিয়ে যেতে বাধ্য হই। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত ও অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের একটি বড় ঝুঁকি রয়েছে, আর তা হলো অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা এএমআর।

এএমআর বিষয়টি এখন আমরা প্রায়ই বিভিন্ন জায়গায় শুনছি। খামারে অতিরিক্ত ও ভুলভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একই ওষুধ আর কাজ করে না। ফলে মুরগির রোগ নিরাময় জটিল হয়ে পড়ে এবং রোগ-বালাই দীর্ঘস্থায়ী হয়।

03

ব্যক্তিগতভাবে আমি আমার খামারে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্ক থাকার চেষ্টা করি, তবে আশপাশের সব খামারে একই ধরনের সচেতনতা বজায় রাখা হয়—এমনটি বলা কঠিন।

সরকার যদি খামারিদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করত, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিত এবং সহজে পশুচিকিৎসক পাওয়ার সুযোগ তৈরি করত, তাহলে আমরা আরো দায়িত্বশীলভাবে ও নিয়ম মেনে খামার পরিচালনা করতে পারতাম। একই সঙ্গে খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নির্দেশনা ও নজরদারি জোরদার করা জরুরি, যাতে অ্যান্টিবায়োটিক-দূষিত বিষ্ঠা ও পানি পরিবেশ ও জলজ সম্পদের ক্ষতি না করে। নইলে আজ যে ওষুধে মুরগি বাঁচছে, আগামী দিনে সেটিই অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে—যার ক্ষতি হবে খামারি, পরিবেশ এবং পুরো সমাজের জন্যই।