এটি পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর অধীনে প্রণীত। এই বিধিমালা অনুযায়ী হাসপাতালের বর্জ্য আলাদা করা (segregation), নির্দিষ্ট রঙের ব্যাগে রাখা, সংরক্ষণ, পরিবহন ও নিরাপদ অপসারণ বাধ্যতামূলক।
মূূল আইন ও নীতিমালার প্রধান লক্ষ্য হলো চিকিৎসা বর্জ্যকে সঠিকভাবে আলাদা করে নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপনা করা। সাধারণ বর্জ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য পৃথকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং বর্জ্যের ধরন অনুযায়ী রঙিন কোডযুক্ত ব্যাগ বা কনটেইনার ব্যবহার বাধ্যতামূলক। হাসপাতালের ভেতরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এবং বাইরে অপসারণ ও ধ্বংসের দায়িত্ব সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার মাধ্যমে সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নিতে হয় এবং অটোক্লেভ বা ইনসিনারেশনের মতো আধুনিক পদ্ধতিতে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে হয়। একই সঙ্গে থ্রি-আর নীতি অনুসরণ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিধিমালা থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে হাসপাতালগুলোতে নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য।
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য আলাদা জায়গা নির্ধারিত রয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে হাসপাতালের পরিবেশ পরিষ্কার ও নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়। চিকিৎসা কার্যক্রম থেকে উৎপন্ন বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য যেমন সংক্রামক, ধারালো ও সাধারণ বর্জ্য আলাদা আলাদা পাত্রে সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করা হয়। এতে রোগী, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীর স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে আসে। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ রোধ করা সহজ হয়। সঠিকভাবে বর্জ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ফলে হাসপাতালের সেবার মান উন্নত হয় এবং জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। চিকিৎসা বর্জ্য আলাদা গাড়িতে পরিবহন করা হয়, যা শুধু চিকিৎসা বর্জ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এতে সাধারণ মানুষ, স্বাস্থ্যকর্মী ও বর্জ্য সংগ্রহকারীদের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি কমে এবং পরিবেশে ক্ষতিকর জীবাণুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে থাকে।
পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব আরো বেড়ে যায় যখন আমরা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর)-এর ঝুঁকি বিবেচনা করি। হাসপাতালের অপ্রয়োজনীয় বা অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ-যুক্ত বর্জ্য পরিবেশে ছড়িয়ে গেলে ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুতে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যা মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। এই ঝুঁকি কমানোর জন্য বর্জ্য আলাদা রাখা, রঙিন কনটেইনার ব্যবহারের নিয়ম, সঠিক পরিবহন এবং ধ্বংস করার আধুনিক পদ্ধতি (যেমন অটোক্লেভ, ইনসিনারেশন) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ফলে হাসপাতাল চত্বরে পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকে, দুর্গন্ধ বা রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমে এবং পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে। অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হলে সংক্রামক রোগ ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর প্রবেশ বৃদ্ধি পায়, যা স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘমেয়াদে হুমকি তৈরি করে। পাশাপাশি পানি, মাটি ও বায়ু দূষিত হয়ে জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
এভাবে সুষ্ঠু, পরিকল্পিত ও নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করে না, বরং এএমআর-এর ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং নিরাপদ, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য পরিবেশ নিশ্চিত করে। কোথাও কোথাও প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব থাকায় বর্জ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও নিষ্কাশনের সময় ভুল পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং কর্মী ও সাধারণ মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। প্রয়োজনীয় রঙিন বিন, ব্যাগ, কন্টেইনার ও যন্ত্রপাতির অভাব, বর্জ্য আলাদা করে সংগ্রহের উপকরণ না থাকায় সংক্রামক ও সাধারণ বর্জ্য একসঙ্গে মিশে যায়। ফলে রোগজীবাণু ছড়ায় এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আধুনিকায়নের অভাব, পুরনো ও অকার্যকর পদ্ধতিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করলে জীবাণু নিরাপদভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয় না। এতে দুর্গন্ধ, জীবাণু বিস্তার ও দূষণ বাড়ে। নীতিমালা যথাযথ বাস্তবায়ন ও নিয়মিত তদারকির অভাব, নীতিমালা থাকলেও সঠিক বাস্তবায়ন ও নজরদারি না থাকায় অনিয়ম ঘটে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায় এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম অকার্যকর হয়ে পড়ে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে আমাদের হাসপাতালে বাজেটের তেমন কোনো সংকট নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের যথাযথ সাহায্য করছেন। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর থেকেও আমরা সহযোগিতা পাচ্ছি।










