বাঙালি কবে কালাপানি
পেরিয়ে বিলেত গিয়েছিল, সেই ইতিহাস ব্রিটিশদের
কল্যাণে সুলিখিত।
কেউ কেউ জাহাজের
খালাসি কিংবা সারেং, কেউ গেরস্থালির কর্মসহায়ক
কিংবা পাঙ্খা পুলার আর কেউ মাছের আড়তে, বাজারে আর কারখানার স্বল্প মাইনের শ্রমিক হয়ে পাড়ি জমিয়েছেন। এভাবেই মোটাদাগে ইতিবৃত্ত
হয়েছে বাঙালির বিলেতযাত্রার ইতিহাস।
কিন্তু বাঙালির
আমেরিকাযাত্রার ইতিহাস বিলেতযাত্রার মতো অত সুনির্দিষ্ট নয়, সুলিখিতও ছিল না। আবছা অনুমানে ধারণা করা হতো, উনিশ শতকের শেষার্ধে চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় শ্রমিকরা যখন আমেরিকার বন জঙ্গল পরিষ্কার করে রেললাইন
নির্মাণের শ্রমিক হিসেবে আসেন, ঠিক তখন তাদের স্রোতের
সঙ্গে মিশেই হয়তো বাঙালি ও উত্তর ভারতীয়দের আবির্ভাব হয়েছিল আমেরিকায়।
কিন্তু আবছা
অনুমাননির্ভর আগের তথ্যগুলোকে পরিষ্কারভাবে মোড় দিয়েছেন এমআইটির প্রফেসর বিবেক বাল্ড।
আমেরিকান এ শিক্ষাবিদ ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বিস্তর গবেষণা করে লিখেছেন তার বই—‘বেঙ্গলি হার্লেম অ্যান্ড দ্য লস্ট হিস্ট্রিস অব সাউথ এশিয়ান
আমেরিকা’। চমকপ্রদ কতগুলো অনুসিদ্ধান্তও উঠে এসেছে ২০১৩ সালে হার্ভার্ড
ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকাশিত তার গবেষণায়।
প্রফেসর বাল্ডের
গবেষণা অনুসারে, বাঙালি পুরুষরা প্রাথমিকভাবে যারা এখনকার
বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ১৯১০ এবং ১৯২০-এর দশকে ব্রিটিশ কোম্পানির জাহাজে শ্রমিক হিসেবে
কাজ করতেন তারাই শুরু করেছিলেন অভিবাসনের ধারাটি।
যে জাহাজের পেটে
করে তারা অতলান্তিকের পাড়ে খুঁজতে আসতেন নতুন জীবনের সোনার ডিম, সেই জার্নিটির পরিবেশ ছিল অত্যন্ত ঝুঁঁকিপূর্ণ ও প্রাণঘাতী।
স্টিমশিপের ভেতর
জ্বলন্ত চুল্লির ওপরে থাকত তাদের নাবিক জীবনের অফিস। যেখানে গড় তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রির
বেশি। কিন্তু পূর্ব বাংলার এই সাহসী চাষা সন্তানরা ছিলেন স্বপ্নাতুর। ভাবনায় ছিল কালাপানির
চক্কর পেরোলেই ইয়াংকিদের বন্দর, সেখানে লাফ দিলেই তো
নতুন জীবন।
প্রফেসর বাল্ডের
গবেষণা অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরোতে রাখা
নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, ১৭৮৫ সালের শুরুর দিকে
তত্কালীন পূর্ব বাংলার যত লোক আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছিল তারা সবাই মূলত ছিল শিপ জাম্পার।
জাহাজ থেকে লুকিয়ে এবং ইমিগ্রেশনের চোখকে এড়িয়ে গোপনে ভিনদেশের মাটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাই তাদের বলা হয় শিপ জাম্পার।
কেমন ছিল প্রথম
অভিবাসনের যাত্রাপথ?
ইংল্যান্ডের
বন্দরে লাফিয়ে পড়ার এরই মধ্যে প্রচলিত চর্চাটিই যেন অতলান্তিকের বন্দরে লাফিয়ে ভাগ্যান্বেষণের
নতুন কারসাজি হয়ে উঠছিল। পূর্ব বাংলা থেকে আসা বাঙালিদের কাছে যে রুটটি সবচেয়ে বেশি
জনপ্রিয়তা পায়, তা হলো কলকাতা বা হুগলি বন্দর থেকে কোনো
ব্রিটিশ বা ইউরোপিয়ান জাহাজে চড়ে প্রথমে লন্ডন, তারপর লিভারপুল এবং লিভারপুল থেকে নিউইয়র্ক বা বাল্টিমোর যাওয়া।
পত্রপত্রিকার
নথি ঘেঁটে প্রফেসর বিবেক বাল্ড দেখিয়েছেন, ১৯২০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে ৭০০ থেকে ১ হাজার দক্ষিণ এশীয় জাহাজ শ্রমিক যুক্তরাষ্ট্রে
বসত গড়েছিল। তাদের মধ্যে ছিল পূর্ব বাংলা থেকে আগত অগ্রবর্তী দলটিও, যারা কিনা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুরু করেছিলেন এই অভিবাসনযাত্রার
পরম্পরা।
নিদারুণ কষ্ট
আর লড়াই-সংগ্রামের ভেতর দিয়ে সেখানে তারা গড়ে তুলেছিলেন নিজেদের দাঁড়ানোর
শক্ত মাটি।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কস, এলিস আইল্যান্ড অথবা ডেট্রয়েটের প্যারাডাইস ভ্যালি, বোটম অথবা ওয়েস্ট বাল্টিমোরের পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ এ এলাকাগুলো
ততদিনে বাঙালিদের কাছে পরিচিত আবাস হয়ে উঠেছে।
প্রফেসর বাল্ডের
চোস্ত ইংরেজিতে সাজানো নন-ফিকশনের সঙ্গে সাযুজ্য
রয়েছে গত শতকে লেখা বাংলা ভাষার জনপ্রিয় লেখক সৈয়দ মুজতবা আলীর ফিকশন ‘নোনাজলের’ সঙ্গে।
কেননা, ওই ছোটগল্পে একজন বাঙালি জাহাজের খালাসি হয়ে কীভাবে আমেরিকায়
থিতু হয়েছিলেন, সেই ইতিহাসের অসাধারণ চিত্রায়ণ রয়েছে:
‘আমাকে সাহায্য করতে হলো শুধু একটা পেতলের ডেগচি জোগাড় করে দিয়ে। সন্ধ্যার অন্ধকারে সমীরুদ্দী সাঁতারের জাঙিয়া পরে নামল জাহাজের উল্টো ধার দিয়ে, খোলা সমুদ্রের দিকে। ডেগচির ভেতরে তার সু, জুতো, মোজা আর একখানা তোয়ালে। বুক দিয়ে সেই ডেগচি ঠেলে ঠেলে বেশ খানিকটা চক্কর দিয়ে সে প্রায় আধমাইল দূরে গিয়ে উঠবে ডাঙায়। পাড়ে উঠে, তোয়ালে দিয়ে গা মুছে, জাঙিয়া ডেগচি জলে ডুবিয়ে দিয়ে শিস দিতে দিতে চলে যাবে শহরের ভেতর। সেখানে আমাদেরই এক সিলেটি ভাইকে সে খবর দিয়ে রেখেছিল হামবুর থেকে। পুলিশের খোঁজাখুঁজি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে গা-ঢাকা দিয়ে থাকবে কয়েকদিন, তারপর দাড়িগোঁফ কামিয়ে চলে যাবে নুউক থেকে বুগুরে, যেখানে সিলেটিরা কাঁচা পয়সা কামায়। পালিয়ে ডাঙায় উঠতে পুলিশের হাতে ধরা পড়ার যে কোনো ভয় ছিল না তা নয়, কিন্তু একবার সুটটি পরে রাস্তায় নামতে পারলে পুলিশ দেখলেও ভাববে, সে নুউক বাসিন্দা, সমুদ্রপারে এসেছিল হাওয়া খেতে।’
নতুন জনপদে নতুন জীবনের রূপরেখা
প্রায় দুইশ বছর
হয়েছে জাহাজ পালিয়ে খালাসি সমীরুদ্দীদের আমেরিকায় পদচিহ্ন রাখার। নিউইয়র্কে কপর্দকশূন্য
সমীরুদ্দী থেকে শুরু করে, গত শতকে প্রসিদ্ধ সিয়ার্স
টাওয়ারের স্থপতি ফজলুর রহমান খান; অধুনা প্রজন্মের বিশ্বখ্যাত
খান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সালমান খান কিংবা ইউটিউবের সহপ্রতিষ্ঠাতা জাওয়াদ করিম। এভাবেই
যেন ক্রমধারায় বিকশিত হয়েছে আমেরিকায় বাংলাদেশী বাঙালি নৃতাত্ত্বিক মানুষের আমেরিকাযাত্রার
পদরেখাটি।
দুইশ বছর আগে
যে নিউইয়র্কে বাঙালিরা এসে কাগজপত্রহীন দিকশূন্য জীবনযাপন করতেন। সেই নিউইয়র্ক তথা
নতুন প্রজন্মের আমেরিকায় বাংলাদেশী অভিবাসীরা ‘আদর্শ অভিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতিও
পেয়েছেন।
তথাকথিত আদর্শ
অভিবাসী তকমার অন্তরালে স্থানীয় সিস্টেমেটিক যে রাজনৈতিক ঘেরাটোপ আছে, সেটি বিবেচনায় নিয়েও স্বীকার করা যেতে পারে—বাঙালি অভিবাসীরা ‘পারস্যুট অব হ্যাপিনেস’ ধারার যে আমেরিকান
ড্রিম,
নিজেদের জীবনে সেটি বহাল রাখতে পরিশ্রমী ও মরিয়া।
যদিও অন্যান্য
চাইনিজ,
ভারতীয়, ভিয়েতনামি প্রভৃতি এশীয়
অভিবাসীর তুলনায় ‘বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত’ অভিবাসীদের মাথাপিছু আয় ও শিক্ষার হার তুলনামূলকভাবে কম।
২০১৫ সালে প্রকাশিত
সর্বশেষ কমিউনিটি সার্ভে অনুযায়ী, বাংলাদেশী আমেরিকানরা
দুর্বল ইংরেজি জানা জনগোষ্ঠীর তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছেন, যা অন্যান্য এশীয় প্রতিবেশীদের চেয়ে তাদের দক্ষতার ঘাটতিই প্রমাণ
করে। শিক্ষায় উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনোর হারেও দুর্বল জনগোষ্ঠীর তালিকায় নবম স্থানে
রয়েছেন তারা। যদিও মাত্র কয়েক দশকে বেশকিছু সূচকে দ্রুত উন্নতি করছেন বাংলাদেশী অভিবাসীরা।
প্রফেসর বাল্ডের
গবেষণায় যে ঐতিহাসিক নোক্তাটি টানা হয়েছে, সেটি ছিল—স্থানীয় লাতিন কিংবা পুয়ের্তোরিকান নারীদের
বিয়ে করে প্রথম প্রজন্মের বাঙালি অভিবাসীরা বৈধ কাগজপত্র বানাতেন এবং নিজের দিন গুজরান
করার ভিত্তিটি রচনা করতেন। সেই চর্চাটি বিভিন্ন পর্যায়ে এখনো রয়েছে একশ্রেণীর বাংলাদেশীর
মধ্যে,
যারা ভাগ্যবিড়ম্বিত হয়ে কাগজপত্রবিহীন অবস্থায় নতুন আমেরিকায়
পাড়ি জমান।
কিন্তু আমেরিকার
অভিবাসন নেয়া বাংলাদেশীদের মূল স্রোতটি বৈধপথে আসে। যাদের অধিকাংশই এসেছেন ডাইভার্সিটি
ভিসায়,
ফ্যামিলি স্পন্সরড ভিসায় এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মেধাবী অংশটি
শিক্ষার্থী ভিসায়।
এ নতুন ধারার
অভিবাসীদের অধিকাংশই আমেরিকার মেইন স্ট্রিম কর্মক্ষেত্রে যোগ দিয়েছেন। গবেষক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা
কিংবা চাকরিজীবী ইত্যাদি পেশায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সমর্থ হয়েছেন।
তাদের ছাপিয়ে
যাচ্ছেন তাদের উত্তরসূরি প্রজন্ম, নিজেদের যোগ্যতায় ঠাঁই
করে নিচ্ছেন নামকরা স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে।
এভাবেই প্রাগ্রসরতা লাভ করেছে আমেরিকান-বাংলাদেশী নৃতাত্ত্বিক
গোষ্ঠীর পরিচিতি।
ফলে অভিবাসী প্রজন্মের আর্থসামাজিক পরিপ্রেক্ষিতে নতুন মাত্রার চালচিত্র প্রতীয়মান হয়ে উঠছে, যার প্রভাব রয়েছে তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের রীতিতেও।
প্রবাসে বেড়ে ওঠা প্রজন্মের সমাজ ও রাজনৈতিক মনস্তত্ত্ব
দুইশ বছর আগে
পূর্ব বাংলা থেকে জাহাজের শ্রমিক যে পূর্বপুরুষটি আমেরিকার মাটিতে পা রেখেছিলেন কিংবা
গত শতকের শেষার্ধে ডাইভার্সিটি ভিসার টিকিট হাতে যে পরিবারটি আমেরিকা জীবন শুরু করেছিলেন, তাদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের আমেরিকা যাপন অনেকটাই আলাদা।
আগের প্রজন্ম
যেখানে নিজের অস্তিত্ব জানান দেয়া এবং একটি বৈধ কাগজ অর্জন ও সেটি টিকিয়ে রাখাকেই স্বীয়
রাজনৈতিক অভীপ্সা হিসেবে দেখতেন। নতুন প্রজন্মের ক্ষেত্রে সেই রাজনৈতিক চর্চাটি বিস্তর
ক্যানভাসে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
তাদের রাজনৈতিক
ভাবনা পূর্বসূরিদের মতো অভিবাসন সুবিধাকেন্দ্রিক নয়। কার্যত তাদের চোখ অনেক ইস্যুতেই
বিস্তৃত। সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাসহায়তা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে
সোচ্চার এবং গর্ভপাতের অধিকার ইস্যুতে নারীর স্বাধিকারের পক্ষের রাজনৈতিক ক্যাম্পেইনে
বাংলাদেশী আমেরিকান প্রজন্মের অংশগ্রহণ তাই উল্লেখযোগ্য।
প্রথাগতভাবেই
ডেমোক্রেটিক পার্টি অভিবাসীদের পক্ষের। গত শতকের মাঝামাঝিতে সিভিল রাইটস আন্দোলন এবং
অধুনা শতকের নাইন ইলেভেন হামলা-কাণ্ডের পর ডেমোক্র্যাটসদের
রাজনীতি যথাক্রমে অশ্বেতাঙ্গ ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কাছে জনপ্রিয় হয়। সেই সুবাদে বাদামি
চামড়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশী প্রজন্ম অনেকাংশেই ডেমোক্র্যাটস-ঘেঁষা।
যদিও ডেমোক্র্যাটদের
এজেন্ডায় পুলিশের জন্য বরাদ্দ সংকোচন কিংবা সমপ্রেম স্বীকৃতির মতো বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশী
অভিবাসীদের অস্বস্তি ও বিভক্তিসূচক মতামত পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু বিরোধী রিপাবলিকান শিবিরের
গোঁড়া জাতিবাদী রাজনীতি, সরকারি সাহায্য সংকোচনের
নীতি এবং সর্বশেষ ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো অভিবাসনবিরোধী রাজনীতিবিদের মনোনয়ন—নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশীদের কাছে রিপাবলিকান পার্টিকে চূড়ান্তভাবে
অজনপ্রিয় করেছে।
গত নির্বাচনেও
প্রতি দশ জনে ৯ জন বাংলাদেশী আমেরিকান ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ভোট
দিয়েছেন।
যদিও কিছু ক্ষেত্রে
বাংলাদেশী আমেরিকান কমিউনিটির ভাবনা রিপাবলিকান রক্ষণশীলদের অনুরূপ। এই নিবন্ধের লেখক
বিভিন্ন রকম কমিউনিটি গ্রুপে সংযুক্ত থাকায় এ ধারণা টের পেয়েছেন যে বাংলাদেশী কমিউনিটির
অধিকাংশই দুটো ইস্যুতে রিপাবলিকান সমর্থকদের স্বরে কথা বলেন।
একটি হচ্ছে ক্রমবর্ধামান
ট্যাক্স পদ্ধতির প্রতি ক্ষোভ। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে আফ্রিকান আমেরিকান সম্প্রদায়ের প্রতি
চিরায়ত আমেরিকান প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রেজুডিস। অথচ বিস্ময়কর হলেও ঐতিহাসিক সত্য এই যে
বিশ শতকে প্রথম প্রজন্মের প্রায় সব বাঙালি অধিবাসী ঠাঁই নিয়েছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত
বসতিগুলোতে।
তাদের সঙ্গে
মিশেই তৈরি হয়েছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি। এমনকি
পরিবার গঠন ও সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভের প্রারম্ভিক সুযোগটিও। ওই শতকের
মাঝামাঝিতে নাগরিক অধিকার আন্দোলনও কালোদের রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগের পাটাতনের ওপর দাঁড়িয়ে।
যার সুফল ভোগ করছেন বাংলাদেশী আমেরিকানসহ সব বর্ণের অভিবাসীরা।
শ্বেতাঙ্গ আর
কৃষ্ণাঙ্গদের ভেদরেখায় বাঙালির তামাটে চামড়ার রাজনীতির অবস্থান কোথায়?
এই বাইনারির
প্রশ্নটি নতুন নয়। বরং গত শতক থেকেই বাঙালিকে জর্জরিত করেছে। এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক, ব্রিটিশবিরোধী সমাজতন্ত্রী তারকনাথ দাসের আমেরিকান নাগরিকত্ব
বিষয়ক বিড়ম্বনাটি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে শ্রী তারকনাথ দাস কলকাতা থেকে পালিয়ে
১৯০৭ সালে আমেরিকায় আসেন।
১৯২৩ সাল অবধি
সাদা হিসেবেই আমেরিকায় বসবাস করেন এক শ্বেতাঙ্গ মহিলা সহকর্মীকে বিয়ে করে। কিন্তু ১৯২৩
সালে তার নাগরিকত্ব বাতিল করে মার্কিন সরকার। যেহেতু কেবল শ্বেতাঙ্গ ও আফ্রিকান বংশভুক্ত
কালোদের নাগরিকত্ব রেখে বাকি এশীয়দের নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায় ওই সময়ে।
বাঙালি তারকনাথ
দাস ও তার আইনজীবীরা এই যুক্তি দেন যে তিনি মূলত শ্বেতাঙ্গ হিসেবে নাগরিকত্ব পেতে পারেন, কেননা ভারতীয় রক্ত আসলে বংশানুক্রমে সাদা ইন্দো-ইউরোপীয় আর্যদের থেকে প্রাপ্ত। ১৯৪৬ সালে সব ভারত উপমহাদেশীয়দের
জন্য নাগরিকত্ব আদায়ের আগ অবধি ভারতীয় ও বাঙালিরা নিজেদের শ্বেতাঙ্গ হিসেবেই পরিচয়
দিতেন। অথচ বিয়ে ও বসবাস করতেন আফ্রিকান ও মধ্য আমেরিকান অশ্বেতাঙ্গ কলোনিতে।
কৃষ্ণবর্ণের
প্রতি আধুনিক শতকের বাংলাদেশী আমেরিকান প্রজন্মের একাংশের অনীহা দীর্ঘদিনের সঞ্চিত
কলোনিয়ান শ্বেতাঙ্গপ্রীতিরই বহিঃপ্রকাশ বললে অত্যুক্তি হবে না। গত শতকের শেষার্ধ থেকেই
প্রচুর বাঙালি আমেরিকায় থিতু হতে শুরু করেন। বিদেশী নাগরিক বিয়ের ক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গের
গ্রহণযোগ্যতা কিঞ্চিত পরিলক্ষিত হলেও কৃষ্ণাঙ্গদের ব্যাপারে অসূয়াটি এখনো বলবত্ রয়েছে।
আমেরিকার বহুল-বৈচিত্র্যময় সমাজে বাংলাদেশীদের সামাজিক পরিচয়ের রাজনীতি কেমন?
বাংলাদেশের সাবেক
অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এএমএস কিবরিয়া দুহিতা প্রফেসর ডক্টর নাজলী কিবরিয়া তার ‘মুসলিমস ইন মোশন’ বইয়ের গবেষণা
করতে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন অভিবাসী বাংলাদেশীদের পরিচয়ের রাজনীতিকে।
যুক্তরাষ্ট্রের
রাটগার্স ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত প্রফেসর কিবরিয়ার বইয়ে তিনি দেখিয়েছেন—বাংলাদেশী অভিবাসীদের দ্বিতীয় প্রজন্মের অনেকেই নিজেদের ‘মুসলিম আমেরিকান’ পরিচয় দিতে
স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। যেখানে তাদের পিতা হয়তো নিজের ‘বাঙালি/বাংলাদেশী আমেরিকান’ পরিচয়টি তুলে ধরতেন।
এটির পেছনেও
তিনি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, আমেরিকায় জন্মানো দ্বিতীয়
প্রজন্মের কাছে মুসলিম আমেরিকান হিসেবে পরিচয়টি হয়তো অধিকতর পরিচিতিমূলক হয়।
পরিচয়ের এই ভাবনা
সাংস্কৃতিক হলেও এর পেছনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বাছন্দ্য কিছুটা হলেও কার্যকারণ হিসেবে
রয়েছে। অন্য দেশী ‘মুসলিম আমেরিকান’ প্রতিবেশীদের সঙ্গে এক ধরনের একাত্মবোধের তাড়নাও রয়েছে।
এ ট্রেন্ডটি
আধুনিক প্রজন্মের ক্ষেত্রেই বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাঙালি মুসলিম নারী-পুরুষ অন্য ধর্মের নাগরিক বিয়ে করলেও পরিবার থেকে ধর্মান্তরের
শর্ত দেয়া হচ্ছে। আন্তঃধর্মের সন্তানকে মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও বাঙালি মুসলিম
অধ্যুষিত সমাজের এক ধরনের কমিউনিটি চেতনা পরিলক্ষিত হয়, যা কিনা উল্টো ছিল একসময়। যখন বিশ শতকের শুরুতে শিপ জাম্পার
অভিবাসীরা ভিনধর্মের নারীকে বিয়ে করতেন।
প্রফেসর বিবেক
বাল্ডের গবেষণায় বিষয়টিতে আলোকপাত করা হয়েছে। স্প্যানিশ, কালো কিংবা পুয়ের্তোরিকান মহিলাদের বিয়ের সময় একটি শর্ত প্রায়ই
দেয়া হতো যে সন্তানেরা মায়ের ধর্মে বড় হবেন, বাবার সারনেম নিলেও।
প্রফেসর বাল্ড
দলিল-দস্তাবেজ ও প্রামাণ্য সাক্ষ্যের মাধ্যমে দাবি করেন যে মাঝেমধ্যে
স্বামী সন্তানদের নিয়ে বছরে একবার ঈদের জামাতে যাওয়ার রীতি ছিল কিছু পরিবারে। কিন্তু
অধিকাংশই সাপ্তাহিক চার্চে যাওয়ার ব্যাপারে সন্তানদের তাগিদ দিতেন। সন্তানেরা বড় হয়েছেন
ক্যাথলিক হিসেবে।
ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক
পরিচয়ের উপরিউক্ত অক্ষের বাইরেও অবশ্য কেউ কেউ স্বতন্ত্র উদাহরণ হয়ে আছেন।
ঠিক তেমনি একজন
আমেরিকান কমেডিয়ান আলাউদ্দিন উল্লাহ, যিনি আলাদিন উল্লা নামে পরফর্ম করে থাকেন।
প্রথম যৌবনে
বাঙালি বাবা ও পুয়ের্তোরিকান মায়ের পরিচয়ের ভেদরেখা মুছে আলাউদ্দিন উল্লাহ স্রেফ আমেরিকান
নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। কিন্তু একসময় প্রাণিত হয়ে ওঠেন পূর্বপুরুষের শিকড় খুঁজতে।
শুরু করেন, তার বাবার জীবন নিয়ে বানানো কমেডি শো ‘দ্য ডিশওয়াশার্স ড্রিম’।
এ রকম দ্বিতীয়
বা তৃতীয় প্রজন্মের একটি বড় অংশ নিজেদের কেবল ‘আমেরিকান’ পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ
করেন। কিন্তু তাদের মধ্যে একসময় উপলব্ধি করতে শুরু করেন তার পূর্বপুরুষের শেকড়।
জনাব আলাউদ্দিন
উল্লাহর স্মৃতিচারণ থেকেই পাই—
‘এখনো মনে আছে, বাড়িতে ঢুকলেই সেই বাসমতী চালের সুগন্ধ। গন্ধটা একদম বাংলাদেশী। কিন্তু ওই ছেলেমেয়েদের নিজেদের ঘরে আর পাঁচটা আমেরিকান ছেলেমেয়ের মতন তখনকার তারকাদের ছবি টাঙানো—হয়তো ফারা ফসেট বা লুক স্কাইওয়কার। মানে, বসবার ঘরে বাংলাদেশ, আর শোওয়ার ঘরে আমেরিকা আর কি!’
ধর্ম বনাম নৃতাত্ত্বিক ‘আমেরিকান’, অধুনা পরিচয়বাদী ভেদরেখার সমাজতত্ত্ব
অভিবাসী বাংলাদেশী
মুসলিম পরিবারগুলোতে কেন ‘মুসলিম আমেরিকান’ পরিচয়টিই মুখ্যত প্রাধান্য দেয়া হয়, এ প্রবণতা নিয়ে ধারণা পাওয়া যায় নিউইয়র্কের বার্ড কলেজ থেকে
প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে।
২০১৫ সালে প্রকাশিত
এ গবেষণা অভিসন্দর্ভে নিউইয়র্ক রাজ্যে দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশী মুসলিম তরুণদের
পরিচয়ের অন্তর্ভুক্তি ও নিষ্কৃতির চর্চা নিয়ে বিশদ আলোকপাত করা হয়েছে।
গবেষক জাকির
হোসাইন এমন কয়েকজন বাঙালি তরুণের সঙ্গে কথা বলেন, তারা জানিয়েছেন পরিবার থেকেই নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের বাইরে ‘ধর্মীয়’ ও নাগরিকত্বভিত্তিক
পরিচয়টিই প্রাধান্য দিতে উত্সাহিত করা হয়েছে।
জনাব হোসাইনের
গবেষণায় মতামত দেয়া বেশ কয়েকজন তরুণ ও তরুণী জানিয়েছেন, কিছুদিন আগেও পালন করা কদমবুচি, পহেলা বৈশাখ, নাচ করা, টিপ পরাকে পরিবার থেকে এখন নিরুত্সাহিত
করা হয়। তাদের পরিবার থেকে জানানো হয়েছে, এই চর্চাগুলো হিন্দুয়ানি এবং তাদের নতুন করে উপলব্ধি করা ধর্মজ্ঞান অনুযায়ী পরিত্যাজ্য।
এ রকম চর্চা
মোটেও বিস্ময়কর নয়। বরং বিভিন্ন পরিবারে সাধারণ চর্চাই বটে। শুধু আমেরিকায় নয়, খোদ বাংলাদেশেও ‘ধর্ম’ ও ‘নৃতাত্ত্বিক’ জাতীয়তাভিত্তিক পরিচয়বাদী প্রশ্নটি বেগবান হচ্ছে। ‘সহিহ’ ইসলামকেন্দ্রিক যে
প্যারাডাইম শিফট পরিলক্ষিত হচ্ছে বাংলাদেশের সমাজে। দেশ পেরিয়ে বিদেশের কমিউনিটিতেও
এ প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
তাছাড়া আরেকটি
স্বতন্ত্র কারণেও ‘নৃতাত্ত্বিক’ পরিচয় ছাপিয়ে ‘ধর্মভিত্তিক’ পরিচয়ের আগ্রহ পরিলক্ষিত হতে পারে। সেটি হচ্ছে ক্রমবর্ধমান
আমেরিকানাইজেশনের স্রোতে দাঁড়িয়ে মা-বাবারা যখন নিজস্ব
নিয়ন্ত্রণরেখার মধ্যে পরবর্তী প্রজন্মকে রাখতে আগ্রহী, সেই বাস্তবতায় তাদের মনে হতে পারে, নৃতাত্ত্বিক বাঙালি আমেরিকান পরিচয়ের চেয়ে ধর্মীয় ‘মুসলিম আমেরিকান’ পরিচয়টি তাদের
মূল্যবোধ সঞ্চারকার্যে বেশি কার্যকর হবে বোধ করি।
এজন্যই স্কুলের
শেষে সন্তানকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ‘বাংলা’ শেখানোর চেয়ে ‘আরবি’ শেখানোর প্রকোপ অধিকাংশ বাঙালি মুসলিম পরিবারে। তাছাড়া নাইন
ইলেভেন হামলার পর তাদের মুসলিম আইডেন্টিটিই সবচেয়ে বেশি প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছে।
বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশী কমিউনিটির মানুষেরা ইসলামভীতি ও ইসলামবিদ্ধেষী বর্ণবাদের
সম্মুখীন হয়েছেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতেও
কমিউনিটির মধ্যে একধরনের সচেতন শঙ্কা অনুভূত হতে পারে যে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয়টি সর্বাগ্রে
সমুন্নত না রাখতে পারলে আগামী প্রজন্ম হয়তো আরো নাজুক অবস্থায় পড়তে পারে। তাই ধর্মীয়
পরিচয়ের ব্যাপারে অধিকতর মনোযোগ পরিলক্ষিত হতে পারে। যদিও সেই প্রচেষ্টা কয় প্রজন্ম
জুড়ে থাকবে এবং বাংলাদেশী মুসলিম পরিচয়ের যে মূল্যবোধের প্রলেপ, সেটি কতটুকু টেকসই হবে, সে নিয়ে শঙ্কা রয়েছে তাদের মধ্যে।
অধিকাংশ বাংলাদেশী
আমেরিকান পরিবার নিজেদের স্বাছন্দ্যের জন্য বসতি বেছে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সংখ্যাগরিষ্ঠ
অঙ্গরাজ্যগুলোতে। এই রাজ্যগুলোতে পাবলিক স্কুলে সাধারণত লিবারেল আঙ্গিকের শিক্ষাই দেয়া
হয়। সেক্যুলারিজম, জেন্ডার সমতা, সমপ্রেম, নিরাপদ গর্ভপাত, সেক্স এডুকেশন—উদারনৈতিক যুগের
এ প্রপঞ্চগুলো বেশ ইতিবাচকভাবেই পাঠদান হয়।
কাজেই বসার ঘরে
রক্ষণশীল পিতৃপুরষের কালচার আর পড়ার টেবিলে লিবারেল আমেরিকার শিক্ষা—এ দোদুল্যমানতার ঝক্কি সইতে হয় নতুন প্রজন্মকে।
এজন্যই রক্ষণশীল
বাঙালি মা-বাবাদের একাংশ সন্তানদের আরবি চার্টার
স্কুল
(যা মূলত আধুনিক মাদ্রাসা), কিংবা হোম স্কুলিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেন। আর উদারনৈতিক মা-বাবারা বাস্তবতা মেনে পাবলিক স্কুল ও কলেজেই পড়াতে সচেষ্ট হন
সন্তানদের।
এর পেছনে পারিবারিক
মূল্যবোধ ও অনুশাসনচর্চার একটি পরিচয়গত ভেদরেখা রাখার চেষ্টা হয়তো পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু
সেটি কয় প্রজন্ম ধরে করা যাবে, কিংবা কতটুকু বাস্তবমুখী
পদক্ষেপ—এই প্রশ্নগুলো থেকেই যায়। কেননা সমাজ পরিবর্তনশীল। ইন্টারনেটের
কল্যাণে পরিবর্তনের গতি বাড়ছে দ্রুত। আর অভিবাসী মানুষের সক্ষমতা নিরূপণের ভৌত পরিমাপটিই
হচ্ছে মূল স্রোতের সঙ্গে কত দ্রুত মিশতে পারে তারা।
কাজেই কয়েক প্রজন্ম
পরে ‘বাংলাদেশী মুসলিম আমেরিকান’ কিংবা ‘বাংলাদেশী হিন্দু
আমেরিকান’—এই পরিচয়গুলো কেবল নাম মাত্রই থাকবে বোধ করি। কয়েক প্রজন্ম পরে
সেটির কেবল অনানুষ্ঠনিক ব্যবহার হবে। কিন্তু আগের প্রজন্মের মতো ব্যক্তি ও পারিবারিক
মণ্ডলে নিবিড় চর্চা হিসেবে নয়। যেমনটি ঘটেছে স্কটিশ, আইরিশ আমেরিকান ক্যাথলিক, আফ্রিকান আমেরিকান নাগরিকদের
ক্ষেত্রে।
পরিচয়ের ক্ষেত্রে
নতুন সত্তার অন্তর্ভুক্তি ও পুরনো চর্চার নিষ্কৃতি অভিবাসী জীবনের বাস্তবতা। অধুনা
প্রজন্মের পরিচয় রেখার এটিই হয়তো নৈমিত্তিক ও চূড়ান্ত গন্তব্য।
তথ্যসূত্র:
বাল্ড, বিবেক, ‘বেঙ্গলি হার্লেম অ্যান্ড
দ্য লস্ট হিস্ট্রিস অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকা’, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, হার্ডকভার, নভেম্বর ২০১৩
সৈয়দ, আদনান, ‘শিপ জাম্পার: বাঙালির আমেরিকাযাত্রা’, প্রকাশক: মুক্তধারা, নিউইয়র্ক, ফেব্রুয়ারি ২০২০
হাসনাত কালাম: অনুবাদক ও গবেষক। ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে একটি সরকারি অধিদপ্তরে কর্মরত।





