Tu proverai sì come sa di sale

lo pane altrui, e come è duro calle

lo scendere e’l salir per l’altrui scale.

(Dante, Canto XVII, Paradiso, The Divine Comedy)

 

একবার ভাবুন তো, একদিনের জন্য হলেও আপনার সন্তানের অবয়ব আপনি বিস্মৃত হয়েছেন? ভাবতেই পারছেন না তো? তবে শিল্পী কীভাবে বিস্মৃত হবে তার সৃষ্টি? প্রশ্ন উঠতেই পারে একজন মানুষ যখন সন্তানের পিতামাতা হয়ে ওঠেনি, তখন? তখন সন্তানের স্বপ্ন সুপ্ত থাকে তাদের সত্তায়। একজন শিল্পী ও শিল্পের মধ্যকার সম্পর্ক ঠিক তেমনই, মা ও সন্তানের সম্পর্ক যেমন। শিল্পী মারিনা আব্রামোভিচকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল, আমরা কাকে শিল্পী বলব? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রতিনিয়ত শিল্প সৃষ্টির তাড়নায় যে তাড়িত।’ মধ্য বয়সে এসে আজ মনে হয়, আমার জন্ম হয়েছিল শিল্পী হওয়ার জন্যই। শিল্পীর এ যাত্রার পরিধি দোলনা থেকে কবর অবধি এবং এ যাত্রা মহাকাব্যিক এক যাত্রা—এর একচুলও কম নয়, বেশিও নয়। শিল্পী হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় রহস্যময়তা অনুপস্থিত থাকে যখন শিল্পী আজন্মই শিল্পী। আমার সহজাত অন্তর্গত ভাবনাগুলোই সৃজনশীল রূপে বিবর্তিত হয়েছে পরিশীলিত অভিব্যক্তিতে; যেখানে সৌন্দর্য, আবেগ, সময়ের অতিক্রমণ আর সযত্নে লালিত স্বপ্নগুলো তাদের থমকে থাকা শ্বাস ফেলতে পারে সেই মহাকাব্যের পরিসরে।

একজন শিল্পীর মূল পরিচয় তার শিল্পীসত্তা, তিনি শিল্পী হয়ে ওঠেন দেশ-কাল-সংস্কৃতির ঊর্ধ্বে গিয়ে। কোনো মানচিত্রের রেখার মধ্যে তাকে বেঁধে রাখা সম্ভব নয়। যেমন ভিঞ্চি ইতালি এবং ভিনসেন্ট নেদারল্যান্ডস থেকে ফ্রান্সে অভিবাসিত হয়েছিলেন কিংবা বর্তমান সময়ের শিল্পী শিরিন নিশাত ইরান থেকে আমেরিকায়। ইতিহাস আর বর্তমান—এমন উদাহরণের অভাব নেই। সক্রেটিসের কথায়, তার জন্ম এথেন্সে কিন্তু তিনি এই বিশ্বের সন্তান। অভিবাসন শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, স্থানান্তর প্রকৃতিতে নিরন্তর ঘটছে। প্রকৃতি স্থির কোনো বিষয় নয়, পাতা ঝরা থেকে শুরু করে, প্রজাপতির কিংবা পাখিদের দল বেঁধে স্থানান্তর হওয়া, এমনকি বাতাসে ভর করে বৃক্ষের বীজের ভ্রমণ আমাদের প্রিয় প্রকৃতিতে এনে দেয় বৈচিত্র্যময়তা।

নানা কারণে শিল্পীরাও প্রবাসী হন, বিশ্ব বা প্রকৃতিকে জানার ক্ষুধা আর সৃষ্টির তৃষ্ণা তাদের মজ্জাগত। দেশের গণ্ডি পার হয়ে আরো বৃহৎ পরিধিতে নিজের শিল্পকর্ম উপস্থাপনের আকাঙ্ক্ষা, কিংবা নিজের সমচেতনার মানুষদের সঙ্গে শিল্পচর্চা বা জ্ঞানসাধনার আকাঙ্ক্ষাও অপ্রশম্য হতে পারে। আমার এ যাত্রা প্রায় দুই দশক দীর্ঘ। বাংলাদেশ থেকে বিলেত, বিলেত থেকে কানাডা—সুদীর্ঘ ও দুর্গম কিন্তু অভিজ্ঞতাময়। শিল্পীর কল্পনাশক্তি সীমিত নয় কখনো। সে শক্তিতে সে ভ্রমণ করে চলে প্রতিনিয়ত মহাবিশ্বের সীমাহীনতায়। তার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই তাদের শিল্পকর্মের মাধ্যমে। আমি নিজেও এর ব্যতিক্রম নই।

এক রাহুকালে আমি দেশ ত্যাগ করি, প্রথম প্রবাসে সংক্ষিপ্ত সময়ে নিয়তির অন্য পরিকল্পনা ছিল। আমাকে আবার দেশান্তরী হতে হয়, আমার জীবনের সব একাকিত্ব, নির্জনতা ও কষ্টগুলো পাতন করে ঘনীভূত করি আমার শিল্পকর্মে, যা প্রতীক হিসেবে ব্যবহূত হয়। পরিবারবিচ্ছিন্ন ও পরিবারহীন আমার সে শিল্পকর্ম লালন করি নিজ সন্তানের মতো, যা আমার একান্ত নিজস্ব পরিবার। কখনো তারা অতীত কোনো সময়ে নিয়ে যাওয়ার যন্ত্রযানের মতো, যা অনায়াসে আমাকে আমার হারানো শৈশবে নিয়ে যেতে পারে, যেগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে ফেলা প্রতিটি পলক রূপান্তর হয় টাইম ট্রাভেলে।

২০০৪ সালে প্রথম একক প্রদর্শনীর পর প্রথমবারের মতো বহু সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে প্রবাসী হয়েছিলাম ইংল্যান্ডে, কিন্তু সেখানে সহজ হয়ে ওঠেনি বেঁচে থাকার সংগ্রাম। তবে নতুন আবহাওয়া, সংস্কৃতি, ভাষার মানুষের মাঝে খাপ খাইয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা আমার দৃষ্টিভঙ্গির দিগন্তকে প্রসারিত করেছিল। সাংস্কৃতিক সংঘর্ষের নমনীয় একটি স্থিতিস্থাপকতা আমাকে সুযোগ করে দিয়েছিল দুটি সমাজের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যকে মূল্যায়ন করার। পরিশেষে, আমাকে সেসব শিল্পীর মতো ভাবতে সাহায্য করেছিল—স্বদেশ থেকে নির্বাসিত যে শিল্পীরা ভিন্ন পরিবেশে দাঁড়িয়ে যেভাবে সৃজনশীল সংবেদনশীলতায় নতুন করে অনুভব করেন পরিত্যক্ত স্বদেশকে। আমার সৃষ্টিতে, কবিতায় কিংবা ক্যানভাসে, শামুকের ধীর দৃঢ়তা নিয়ে ফিরে আসে স্বদেশ—নতুন ব্যাখ্যা নিয়ে শিল্পী হিসেবে প্রসারিত হওয়ার একটি নিয়ামক। ইউরোপ জুড়ে বহু চিত্রকর্ম দেখার অভিজ্ঞতা, আরাধ্য শিল্পীদের ক্যানভাসের সামনে দাঁড়ানো সে অতুলনীয় স্বর্গীয় অনুভূতি শুধু অনুপ্রাণিত করেনি, আমাকে নিজের মৌলিক স্বকীয়তা খোঁজার তাড়নায় রূপান্তরিত হয়েছিল। যে নির্দেশনা আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দিতে পারেনি কখনো। শিল্পকলার ইতিহাসে আমার আগ্রহী মন ব্যাখ্যা খুঁজেছে শিল্পীরা কীভাবে সভ্যতার অনুঘটকের কাজ করেছে, আমাদের সংবেদনশীলতাকে পরিশীলিত আর সৌন্দর্যকে ভালোবাসতে শেখানোর মাধ্যমে।

মায়ের জরায়ুতে যেমন করে মায়ের পুষ্টি নিয়ে বেড়ে ওঠে ভ্রূণ, শিল্পী মনেও স্বপ্নে আর আশায় পুষ্ট হয় তার শিল্পকর্ম, যেন শরীরের বাইরে জন্ম নেয়া শিশু। যে শিশুশিল্পী গর্ভে ধারণ করেনি, সেটি আসলে তারই মনের সৃষ্টি, আর সেটাই বাস্তবরূপ পায় আমার নিজের হাতে বানানো শিশুর জামায় কাপড়ে তোলা নকশি কিংবা আঙুলের ছাপে আঁকা ড্রইংয়ে। দর্শকদের জন্য আরো বিস্ময় অপেক্ষা করে যখন তারা দেখতে পায়, আমি পরম মমতায় সংগ্রহ করা নিজেরই মাথার পরিত্যক্ত চুলকে আমার শিল্পকলার অংশ করে নিয়েছি। আর এ ঝরে পড়া বা শিকড়চ্যুত চুল প্রতীকী তাত্পর্যে অর্থবহ হয়ে ওঠে আমার শিল্পী জীবনের অভিজ্ঞতার নানা স্তরে। আমার সেলাইয়ের কাজে সুতোকে প্রতিস্থাপন করেছি নিজের চুল দিয়ে, আর এ চুল সংগ্রহ, পরিষ্কার ও সংরক্ষণ সবকিছুই আমার কাছে খুব সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পিত ধারাবাহিক কোনো কাজের সদৃশ, যেন কোনো শিশুর প্রতিপালন। এভাবেই আমি নিজের সঙ্গে নিজের একটি সম্পর্ক গড়ে তুলি প্রতিনিয়ত, একই সঙ্গে রূপান্তরিত হই নিজের জননী ও সন্তানে। চুল দিয়ে সেলাইয়ের বুনন সেই তীব্র আবেগের ইশারা দেয়, প্রতিটি স্বপ্ন বেড়ে ওঠার জন্য ঠিক কতটুকু আত্মত্যাগের পুষ্টি দাবি করে। যেন পরিত্যক্ত, নির্বাসিত কোনো অবয়বহীন অশরীরি সত্তাকে আঁকড়ে ধরে রাখা সফেদ শাড়ি সহস্র মাইল পেরিয়ে আসা দূরত্বকে সংক্ষেপ করে একটি গভীর দীর্ঘশ্বাসে।

ড্রইং ও পেইন্টিংয়ে প্রধানত প্রশিক্ষিত হলেও বহু মাধ্যমেই আমি শিল্পচর্চা করি। ২০১২ সাল থেকে কাপড়ের কোলাজনির্ভর কিছু মিক্সড মিডিয়ার কাজ থেকেই মূলত আমার কাজের উপাদান হিসেবে জায়গা করে নেয় কাপড়। আর সেলাই করার দক্ষতাও আমাকে আরো সাবলীল করেছে এ মাধ্যমে। একই সময় আমার কাজে তুলি নয় বরং আঙুল ও হাতের ছাপ জায়গা করে নিয়েছে ড্রইংয়ের টুল হিসেবে। আঙুলের ছাপ ব্যবহার করার সঙ্গে নিজের স্বকীয়তা আর আত্মপরিচয়ের ভাবনাটি ছিল প্রগাঢ়। সুবিশাল কাগজের ওপর অসংখ্য আঙুলের ছাপ—যা আমরা জানি, প্রতিটি মানুষের জন্য আত্মপরিচয় খোঁজার অস্তিত্ববাদের টানাপড়েনের তীব্র ইঙ্গিত হয়ে প্রতীয়মান হয়। নিজের অনন্য চিহ্নকে গর্ভজাত সন্তানের মতো শিল্পকলার নিজের শিল্পকর্মের সৃষ্টির সঙ্গে একাত্ম করার প্রচেষ্টা, ঠিক যেন প্রজন্মান্তরে নতুন জীবনের জন্য নিজের অমর ডিএনএ হস্তান্তর।

আমার শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন সুপ্ত ছিল আমার সত্তার মাঝে, যার প্রথম প্রয়াস আমার বয়স যখন পাঁচ বছর তখন চক ও স্লেটের মাধ্যমে, প্রথম বর্ণমালা শেখার আগেই চিত্র অঙ্কনের প্রয়াস চলতে থাকে। তবে তারও আগে আমার সৃজনশীলতার ধারাবাহিকতা এসেছে আমার পরিবার থেকে, আমার ডিএনএতে রয়েছে সেই সৃষ্টিশীলতার ধারা; আমার মায়ের অসাধারণ সুচিশিল্প, রন্ধনশিল্প, বাবার একটানে রবীন্দ্রনাথ আঁকা বা লেখনির প্রতিভা প্রবাহিত হয়েছে আমার মাঝেও। আমার চুল আমার ডিএনএ বহন করে। আমার শিল্পকলা আমার সেই আত্মপরিচয়ের সিলমোহর। আমার মাথার চুল হলো আমার শিল্পচর্চার উপাদান আর সাদা কাপড় হলো পরিসর, কখনো নিজের ব্যবহূত চিরুনি বা ছবি আঁকার তুলি বা অন্য আটপৌরে সরঞ্জাম। এতটাই সরল আমার অভিব্যক্তির প্রকাশ। আমার শিল্পকর্মের মূল ভাবনা আত্মজৈবনিক; বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক-ভৌগোলিক পরিবেশে নিজের পরিচয় খুঁজে নেয়ার সংগ্রাম। মানুষ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর নিরন্তর যুদ্ধ, অপমান, বঞ্চনা ও আত্মত্যাগের নানা আখ্যান প্রতীকী রূপে খুঁজে বেড়াই আমার শিল্পচর্চায়।

ঢাকার বাইরে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন শহরে প্রদর্শিত হয়েছে আমার শিল্পকর্ম। কিন্তু কানাডার কথা বলতে গেলে টরন্টো, মিসিসাগা এবং আরো কয়েকটি শহরে প্রদর্শিত হয়েছে আমার শিল্পকর্ম, নানা দেশের সংস্কৃতির, ভাষাভাষীর শিল্পীদের সঙ্গে। কানাডা সুবিশাল একটি দেশ। এ দেশের আবহাওয়া অত্যন্ত রুক্ষ। শিল্পচর্চার জন্য তেমন অনুকূল নয়। বছরের বেশির ভাগ সময় তুষারপাত এবং রুক্ষ শীতের আবহাওয়া থাকে, কিন্তু কোনো শিল্পী যদি খুব নিভৃতে শিল্পচর্চা করতে চান, তবে তা বেশ উপভোগ্য তার জন্য। শিল্পীর যদি সমাজ বা দেশকে কিছু দেয়ার থাকে, তবে কানাডার সরকার থেকে নানা ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি মেলে। বিগত বছরগুলোয় বিভিন্ন দলীয় বা একক শিল্প প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করতে আমি সক্ষম হয়েছি এবং ভবিষ্যৎ অনেক চলমান প্রজেক্টে কাজ করছি সততার সঙ্গে। কানাডার ছাপা খবরের কাগজ বা অন্তর্জালে, টেলিভিশন মাধ্যমে আমাকে নিয়ে প্রতিবেদন বা খবরও প্রকাশ হয়েছে। আমি গর্বিত, আমার কাজের মাধ্যমে আমার দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতিকে আমি উপস্থাপন করতে পারি বৃহৎ একটি পরিমণ্ডলে। দলীয় প্রদর্শনীতে শিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণ কিংবা বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন—স্থানীয় শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা সবসময়ই নিজের অভিজ্ঞতাকেও সমৃদ্ধ করে।

পশ্চিমে এই প্রবাস জীবনের প্লাটফর্মে বাক বা অভিব্যক্তির স্বাধীনতা পূর্ণ না হলেও কিছুটা ব্যবহার করা যায়। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে শিল্পচর্চা করাও খুব একটা কঠিন কাজ নয়। শিল্পী ইচ্ছা করলেই যেকোনো ধরনের সংকীর্ণতাও সূক্ষ্মভাবে এড়িয়ে চলতে পারেন, তবে বর্তমানে ওকইজমের প্রভাবে দূষিত পশ্চিমা সমাজ, সেখানে অনেক নতুনত্ব বা গভীর ভাবনার প্রকাশ ঢাকা পড়ে যাচ্ছে সাধারণের উগ্র চিত্কারে। তা সত্ত্বেও, নানা স্তরে সৃষ্টির স্বাধীনতাটুকু উপভোগ করা সম্ভব হয়। যদিও বহুজাতির আবাসভূমি এ দেশেও নানা বাধ্যবাধকতা বা বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়, কিন্তু একটি সীমানা পর্যন্ত শিল্পচর্চা করার স্বাধীনতা ব্যবহার করা যায়।

প্রবাসে বসে দেশে কোনো প্রদর্শনীর আয়োজন করা খুব একটা সহজ কাজ নয়, সেই কঠিন কাজগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করা শিল্পী জীবনেরই অনুষঙ্গ। এ বছরের শুরুতেই এমকে সেন্টারে আমাদের প্রিয় বাংলা ভাষার ৭০ বছর উপলক্ষে ভাষা নিয়ে ক্ষুদ্রাকার একটি প্রদর্শনী আয়োজন করেছিলাম। টরন্টোর একটি গ্যালারিতে এ মাসেই প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে আমার বাংলা ভাষাভিত্তিক শিল্পকর্ম এবং সেটি দর্শকদের জন্য চার মাসব্যাপী প্রদর্শিত হবে। দেশে একজন শিল্পীর ব্যক্তিপরিচয় প্রধান, কিন্তু পশ্চিমে শিল্পীরা পরিচিত হন তার কাজের মাধ্যমে। তবে সারা বিশ্বেই ভিজ্যুয়াল আর্টের জগিট আজও বেশ দূষিত হয়ে আছে নানা ধরনের জটিলতায়।

দেশের শিক্ষা জীবনে শিল্পকলার ইতিহাস নিয়ে পর্যাপ্ত বইয়ের অভাব আমাকে লিখতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আমি নিয়মিতভাবে শিল্পকলার ইতিহাসবিষয়ক প্রবন্ধ কিংবা অনুবাদ করে যাচ্ছি। ২০১৫ সাল থেকে একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হচ্ছে সেই সব প্রচেষ্টা। সে সূত্র ধরে, কানাডার ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি বর্তমানে শিল্পকলার ইতিহাস নিয়ে পড়ালেখা করছি; আশা করি শিল্পকলার ইতিহাস আমার চর্চাকে আরো সমৃদ্ধ করবে।

প্রকৃত শিল্পীর যাত্রা যেমন মসৃণ নয়, তেমনই সংক্ষিপ্তও নয়। শিল্পীর মৃত্যু অবধি দীর্ঘ এ যাত্রা। আমার শুধু সৃষ্টিতেই তৃপ্তি ও আনন্দ। ঘুমের সময়টুকু বাদ দিলে আমার ধ্যানে-জ্ঞানে সবসময় শিল্পকলা বিরাজমান। আমার দেহটা হয়তো প্রবাসী, কিন্তু মনে-প্রাণে আমি শতভাগ বাঙালি শিল্পী।

 

আসমা সুলতানা: কানাডায় বসবাসরত ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট