কবি ও সাংবাদিক সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল অনেক বছর ধরে সপরিবারে বসবাস করছেন কানাডায়। প্রবাসজীবনে থেকেও বাংলা সাহিত্য চর্চা করছেন নিবিড় মনোযোগে; মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা করছেন। বিটিভির শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘দৃষ্টি ও সৃষ্টি’র উপস্থাপক ছিলেন। লিখেছেন অনেক গান ও নাটক। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ৭৫। উত্তর আমেরিকায় বাংলা সাহিত্য চর্চা, লেখকদের জীবন-ভাবনা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন শানজিদ অর্ণব।

 

উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশের অনেক কবি-সাহিত্যিক বহু বছর ধরে বসবাস করছেন। সেখানে থেকেই সাহিত্য চর্চা করছেন। এদের মধ্যে অনেকে প্রয়াত হয়েছেন। প্রয়াত হয়েছেন এবং যারা এখনো সক্রিয়ভাবে সাহিত্য চর্চা করছেন তাদের সম্পর্কে শুনতে চাই।

উত্তর আমেরিকা বলতে শুধু কানাডা, আমেরিকা, মেক্সিকো দেশকে বোঝায়। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশের লেখকেরা প্রথমদিকে দেশের বাইরে অবস্থান করেছেন মূলত ইউরোপে। আমরা যদি একেবারে মাইকেল মধুসূদন দত্তের কথা বলি, তিনি অনেকদিন প্রবাসে ছিলেন। যদিও একসময় দেশে ফিরে গিয়েছেন। সেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশেই আমাদের প্রবাসী লেখকরা অনেক আগে থেকেই অবস্থান করছেন। তার মধ্যে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, শামসুদ্দীন আবুল কালামের কথা বলতে পারি। বলতে পারি নভেরার কথা, তিনি একজন খ্যাতিমান শিল্পী। এরা প্রয়াত হয়েছেন, এদের কবর প্যারিসে-রোমে রয়েছে। এদের কবরগুলো দেশে নিয়ে যাওয়া উচিত। কারণ তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত। এ রকম লন্ডনের দিকে তাকালে দেখা যাবে অনেক লেখক আছেন যারা বাংলা সাহিত্যের মূলধারার সঙ্গে যুক্ত। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী দীর্ঘকাল লন্ডনে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি প্রয়াত হয়েছেন এবং তাকে বাংলাদেশে নিয়ে কবর দেয়া হয়েছে। এখনো আছেন গোলাম মুরশিদ। এছাড়া শামীম আজাদ থেকে শুরু করে অনেক তরুণ লেখক এখন লন্ডন-আমেরিকায় আছেন। যদি বলি দেশান্তরী হয়েছেন দুজন খ্যাতিমান লেখক, তারা হলেন দাউদ হায়দার ও তসলিমা নাসরীন। তারা ইউরোপেই আছেন। দাউদ থাকেন বার্লিনে আর তসলিমা নাসরীন বিভিন্ন প্রদেশে ঘুরে বেড়ান।

এখানে একটা কথা বলা দরকার, আমি মনে করি যারা বাংলাদেশের সাহিত্যের মূল স্রোতে লেখালেখি করে প্রবাসে গিয়েছেন তারাই মূলত লেখক হিসেবে পরিচিত-প্রতিষ্ঠিত। দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রবাস থেকে অর্থাৎ দেশের বাইরে থেকে খুব একটা লেখক আমরা পাইনি। বিদেশে বসে নিজেদের নির্মাণ করেছেন সে রকম সাহিত্যিকের সংখ্যা খুবই কম। সে ধারাবাহিকতায় যদি বলি আছেন বর্তমানে মুজিব ইরম, মজনু শাহ ওরা ইউরোপ থেকে লেখালেখি করছেন।

আর উত্তর আমেরিকার কথা যদি বলি তাহলে বলতে হয়, এখানে হুমায়ূন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবাল অনেকদিন ছিলেন। তারপর তারা চলে গেছেন। আর এখন যারা আছেন তাদের মধ্যে জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের কথা বলতে পারি, আছেন পূরবী বসু—তারা এখন ফ্লোরিডায় আছেন। আছেন লেখক, অধ্যাপক আলী রিয়াজ। আর প্রয়াতদের মধ্যে শহীদ কাদরী, দিলারা হাশেম, সুরাইয়া খানম ছিলেন। এ ধারাবাহিকতায় অনেক লেখক যারা বাংলাদেশে বসবাসকালে লিখেছেন এবং উত্তর আমেরিকায় এসেও লিখছেন তারা অনেকেই আছেন। আমার এ মুহূর্তে মনে পড়ছে আব্দুন নূরের কথা, আহমাদ মাযহার এমন অনেকেই আছেন।

কানাডায় যারা আছেন তাদের মধ্যে আমাদের বাংলা একাডেমির আধুনিক বাংলা অভিধান যিনি করেছেন—জামিল চৌধুরী তিনি টরন্টোতে আছেন। এখানে আছেন ছড়াকার লুত্ফর রহমান রিটন, ইকবাল হাসান, মাসুদ খান। আর প্রবীণদের মধ্যে এ মুহূর্তে কাউকে পাচ্ছি না। তবে অনেক লেখকের পরিবার-সন্তান কানাডায় আছেন। কবি শামসুর রাহমানের মেয়ে এখানে আছে, রফিক আজাদের পরিবার আছে, কবি আসাদ চৌধুরী সপরিবারে আছেন, মহাদেব সাহা ও অসীম সাহার সন্তানরা এখানে আছে। বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের ছেলে, শান্তনু কায়সারের ছেলে, কে জি মুস্তফা সাহেবের ছেলে—এ রকম অনেক লেখক, সাহিত্যিকের সন্তানরা কানাডায় বসবাস করছেন।

আর সাহিত্য চর্চা করা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে। আমি যখন বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম তখন নিউজ পাঠাতাম হাতে লিখে, এক পাতা করে করে ফ্যাক্স করতাম।

আশি-নব্বই দশকে অনলাইন, ইন্টারনেট, কম্পিউটার ছিল না। এখন তো এত অনলাইন হয়েছে, দৈনিক পত্রিকাগুলোও অনলাইনে চলে আসছে। সুতরাং এখন আগের চেয়ে সাহিত্য চর্চা করা অনেক সহজ। আমাদের সময় অনেক কঠিন ছিল।

একটা কথা এখানে বলতে চাই, যেহেতু আমি প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করেছি দীর্ঘকাল। ১৯৯২ সালে আমার সূচিপত্র পত্রিকায় প্রবাসী লেখক সংখ্যা করেছিলাম। সেটা শুরু করেছিলাম ৯০ থেকে। অর্থাৎ এটার জন্য আমাকে দু বছর কাজ করতে হয়েছিল, ৪৮ জন লেখকের সাক্ষাত্কার সংগ্রহ করতে। এখন এত কষ্ট করতে হয় না। তখন শহিদুল জহির ছিলেন আমেরিকায়, হুমায়ুন চৌধুরী ছিলেন মালয়েশিয়ায়। এভাবে লেখকদের ঠিকানা, সাক্ষাত্কার জোগাড় করতে আমার দুটো বছর লেগেছিল।

আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে প্রয়াত লেখকদের মধ্যে শামসুদ্দীন আবুল কালামের কবর পড়ে আছে রোমে। তিনি একটা ফ্ল্যাটে অত্যন্ত করুণভাবে মরে পড়ে ছিলেন। পরে তাকে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে একটা খ্রিস্টান কবরস্থানে সমাধিস্থ করা হয়। একইভাবে দেশের বাইরে আছে ওয়ালীউল্লাহর কবর, নভেরার কবর।

যে প্রজন্ম উত্তর আমেরিকায় বড় হচ্ছে তাদের মধ্যে বাংলা সাহিত্যচর্চার প্রবণতা কেমন?

নতুন প্রজন্মের মধ্যে লেখালেখি করে তাদের সংখ্যা প্রায় শূন্য। খুবই কম। দ্বিতীয় প্রজন্মের দুএকজন ইংরেজির মাধ্যমে লেখালেখিতে জ্বলে উঠেছিলেন, আবার নিভেও গিয়েছেন। আর অগ্রসর হতে দেখিনি। ভারতের অনেক লেখক যেমন বিদেশে গিয়ে বড় লেখক হয়েছেন—যেমন সালমান রুশদি, ঝুম্পা লাহিড়ি বা অরুন্ধতী রায়। আমাদের বাংলাদেশের ওইভাবে খুব একটা কাউকে দেখা যায় না।

নতুন প্রজন্মের প্রসঙ্গে ধরা যাক,  আমার দুই মেয়ে—অনাদি  নিমগ্ন আর অর্জিতা মাধুর্য। তারা একটা বই লিখেছে রূপকথার ইলিশ, বইটি বাইলিঙ্গুয়াল। পরবর্তী সময়ে তাদের পড়াশোনার ব্যস্ততা ও চাকরি বিষয়াদি ইত্যাদির কারণে তারা আর লেখার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেনি। এটা শুধু আমার মেয়ের ক্ষেত্রেই না, যেমন আসাদ চৌধুরীর মেয়ের জামাই একটা ছবি বানিয়েছেন ‘মাদার টাং’। সেখানে দেখা যায় নতুন প্রজন্মের একটা শিশু স্কুলে গিয়ে চাপ অনুভব করছে। স্কুলে ইংরেজি, আবার বাসায় বাংলা। সব মিলিয়ে সে কোনটা গ্রহণ করবে এটা নিয়ে সে দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। কথা বলা আর সাহিত্য চর্চা করা এক নয়। সাহিত্য চর্চা করতে হলে বাংলাকে শিখতে হবে, জানতে হবে। নতুন প্রজন্ম যারা বিদেশে বড় হচ্ছে তাদের মাঝে এটা দেখা যায় না।

অনেকে সাহিত্যিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন বাংলাদেশের মাটিতেই, এমন যারা প্রবাসে আছেন তাদের এই প্রবাস পর্বে সাহিত্য চর্চার আগ্রহ, গতিমুখ কি দেশের মতোই আছে নাকি তাতে কোনো বদল লক্ষ করা যায়?

যারা বাংলাদেশ থেকে লেখক হয়ে দেশের বাইরে আসেন, তারাই মূলত লেখক হিসেবে পরিচিতি পান। বিদেশে মানুষ নানা কারণেই আসে। কেউ জীবনযাপনের জন্য আসেন, আবার কেউ রাজনৈতিক কারণে এসেছেন। অনেকে সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আসেন। অনেকে অভিবাসী হয়ে আসেন। ফলে আসার পর একটা চাপ থাকে। অনেক সংকট তৈরি হয়, অনেক বাধা তৈরি হয়। একটি দেশ থেকে এসে অন্য দেশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা অনেক অনেক কঠিন ব্যাপার। সেসব বাধা, পরিবার ইত্যাদি শেষ করে সাহিত্য চর্চা করা অনেকটা কঠিন হয়ে যায়। ফলে অনেক লেখকই এখানে এসে তেমন কাজ করতে পারেন না। বাংলাদেশের মতো এখানে জীবনযাপন সহজ নয়। তবে অনেক মহিলা আছেন যারা ডাল রান্না করতে করতে কবিতা লেখেন, তাদের কোনো কাজ নেই। তারা এখন ফেসবুকের কবি, আমি তাদের কথা বলছি না। তাদের কথা বলছি না এ কারণেই তারা শৌখিন কবি, তারা লেখালেখি করছেন, নিজের বই বের করছেন নিজের টাকা দিয়ে।

বাংলাদেশে লেখকরা লিটলম্যাগ, দৈনিক পত্রিকাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিয়মিত লিখে থাকেন। উত্তর আমেরিকায় কি বাংলা সাহিত্যচর্চায় এমন লিটল ম্যাগ, ওয়েবজিন প্রকাশিত হয়?

আমি ৯০-এর দশকের কথা বলছি। তখন আমার প্রতিষ্ঠান  স্বরব্যঞ্জন থেকে প্রবাসীদের সাহিত্য সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকাগুলো ঢাকা থেকে প্রিন্ট করে পাঠাতাম। এ মুহূর্তে যা মনে পড়ছে জাপানের মানচিত্রের কথা, সুইডেনের পরিক্রমার কথা, কানাডায় মাসিক বাংলাদেশের কথা, সিডনিতে প্রবাস বাংলা এবং আমেরিকার পড়শি। এগুলো আমি ঢাকা থেকে প্রিন্ট করে পাঠাতাম। তখন ইন্টারনেটের যুগ ছিল না।

এখন তো অনেক সুযোগ। লন্ডন থেকে প্রচুর সাপ্তাহিক পত্রিকা বের হয়। কানাডা থেকেও বের হয়, বিশেষ করে টরন্টো ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে। কিন্তু সে পত্রিকাগুলোয় যে সাহিত্য পাতা থাকে সেগুলোয় কোনো মান নেই। সেগুলোতে লেখা আর না লেখা একই কথা। তবে নিয়মিত সাহিত্য পত্রিকা খুব একটা বের হয় না। লন্ডন থেকে একটা-দুটা বের হয়। মনে পড়ছে আমেরিকা থেকে হুমায়ুন কবির একটা পত্রিকা বের করেন ‘ঘুঙ্গুর’, কানাডা থেকে ‘বাংলা জর্নাল’। তা ছাড়া আর তেমন কোনো সাহিত্য পত্রিকা বের হয় না।

উত্তর আমেরিকার যারা সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান তারা ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোর ওপরই নির্ভর করেন। লন্ডন থেকে আবু মকসুদেরা সাহিত্য পত্রিকা বের করতেন। তবে প্রবাস থেকে আমরা কোনো ভালো লিটলম্যাগ বা নিয়মিত সাহিত্য পত্রিকা পাইনি।

লেখকরা দেশ ছাড়ার পর কি আবার দেশে ফেরার তাড়না অনুভব করেন?

প্রশ্নটা বড় কঠিন, আবার সহজও। আমি মনে করি প্রতিটি লেখক তার স্বদেশে শিকড়ে ফিরে যাওয়ার তাড়নাটা প্রতি মুহূর্তে লালন করেন, অনুভব করেন। শুধু বাংলাদেশের লেখকই নয় সারা বিশ্বের যেসব অভিবাসী লেখক আছেন তারা মূলত মাতৃভূমির সঙ্গে গেঁথে থাকেন, মাতৃভূমির মাটিতে তাদের শিকড় প্রোথিত। ফলে একজন লেখক সবসময় দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য অস্থির থাকেন। কারণ তার লেখায়, চিন্তায় চেতনায় স্বদেশই কাজ করে।

উত্তরা আমেরিকায় বাংলাদেশী উল্লেখযোগ্য সাহিত্য আয়োজন, সভা, সম্মেলন, বইমেলা সম্পর্কে জানতে চাই।

প্রবাসে অনেকগুলো বইমেলা হয়। যেমন লন্ডনে দুটি বইমেলা হয়, টরন্টো ও মন্ট্রিলে দুটি বইমেলা হয়। টরন্টোর বাংলা বইমেলা ২০০৭ সালে আমি শুরু করি। পরে প্রবাসের নোংরা রাজনীতির কারণে আমি সেই মেলা থেকে সরে এসেছি।

সিডনিতেও একটি বইমেলা হয়। নিউইয়র্কে মুক্তধারার বইমেলা এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটনেও বাংলা বইমেলা হচ্ছে প্রতি বছর।

প্রবাস জীবন আপনার সাহিত্যচর্চাকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে?

এখানে একটি কথা বলা অনিবার্য। আমি এবং আমার বন্ধু লুত্ফর রহমান—আমরা প্রবাসী লেখক নই। আমরা কানাডা অভিবাসী, আমি বাংলাদেশ নিয়েও যেমন গর্ব করি, তেমনি কানাডা নিয়েও গর্ব করি। আমি বলি আমার দুই প্রধানমন্ত্রী, আমার দুই হাতে দুই পতাকা। আমি দ্বৈত নাগরিক।

আমি টরন্টোতে অবস্থান করলেও টরন্টো আর টাঙ্গাইলের মধ্যে কোনো দূরত্ব অনুভব করি না। কুমিল্লায় থাকা আর কানাডায় থাকা একই কথা। একজন লেখক কোথায় আছেন, আধুনিক বিশ্বে কিংবা প্রযুক্তির বিশ্বে সেটা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না।

আমি কী লিখছি, কেমন লিখছি সেটা হচ্ছে বড় ব্যাপার। তবে প্রবাস জীবন তো জীবনকে একটু প্রভাবিত করেই। আমি কানাডায় এসেছি বলেই বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরীকে নিয়ে বই লিখতে পেরেছি, ‘কানাডা যাবেন কেন যাবেন’—এ বই লিখতে পেরেছি। কানাডায় আসার পরিপ্রেক্ষিতে আমি যুদ্ধশিশু উপন্যাস লিখেছি। আমি কানাডায় এসে মুক্তিযুদ্ধে কানাডার কী ভূমিকা ছিল সেটা নিয়ে বই লিখছি। কানাডার হাঁড়ির খবর, নাড়ির খবর নিয়ে বই লিখেছি। কানাডায় যদি না আসতাম তাহলে এ বইগুলো আমার লেখা হতো না। এটা কেবল সাহিত্যচর্চা না, এখানে একটা সামাজিক ব্যাপার আছে, মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপার আছে, ঐতিহাসিক ব্যাপার আছে। বাংলাদেশের বয়স ৫০ পেরিয়েছে। কিন্তু আমরা মুক্তিযুদ্ধে কানাডার ইতিহাস জানি না। আমি সেটা সম্পাদনা করেছি এবং আরেকটি বই লিখছি—কানাডা ১৯৭১।

এছাড়া দেশের বাইরে আসার পর কবিতা নিয়ে চিন্তা-চেতনা, বিষয়-ভাবনা পাল্টে গিয়েছে। আমি নতুন ধরনের কবিতা লিখছি। ফলে প্রবাস জীবনে আমি অবস্থান করলেও আমি আমার লেখার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন।