স্বপ্ন ধরার তাগিদে আমেরিকায় পাড়ি দেয়ার ইতিহাস বাঙাল মুলুকে নতুন না। অবশ্য দেশভাগের আগ অবধি বাংলাদেশী অভিবাসী বলে কোনো অভিধা ছিল না। ১৯৪৭ সালের আগে অভিবাসীরা পরিচিত হয়েছে ভারতীয় নামে; পরে পেয়েছে পূর্ব-পাকিস্তানি তকমা। বাংলাদেশী খেতাবটা জোটে কেবল ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পরই।

অভিবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশী জনমনে প্রথম পছন্দ উপসাগরীয় দেশগুলো। দ্বিতীয় পছন্দ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। স্বাভাবিকভাবেই এসব অঞ্চলে বসবাস করা বাঙালির সংখ্যা ব্যাপক। অবশ্য অভিবাসনের অনুপাত নির্ভর করে অভিবাসন কে করছে, কোন সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবেশ থেকে করছে এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কেমন—এসব বিষয়ের ওপর। মধ্যপ্রাচ্যে অধিকাংশ মানুষই যায় শ্রমিক হিসেবে। তাদের কাজও ঝুঁকিপূর্ণ ও স্বল্প বেতনের। যুক্তরাজ্যে যাওয়া অধিকাংশ মানুষ দেশের সিলেট অঞ্চলের। যাওয়া-আসার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে দৃশ্যটা ভিন্ন। গোটা পৃথিবীর কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এখানে আসা মানুষ বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ ও বহুমুখী। অভিবাসীদের যেমন দেশ এক রকম নয়; ঠিক একইভাবে বাংলাদেশীদের ক্ষেত্রে না তাদের জেলা এক, না শিক্ষাগত যোগ্যতা। 

আমেরিকায় প্রথম বাঙালি অভিবাসনের ঘটনা জানা যায় ১৭৬৩ সালের দিকে। এডওয়ার্ড রায়ান এ সময় চট্টগ্রাম ও আসাম থেকে দাস নিয়ে যায় উত্তর আমেরিকায়। বিশেষ করে জর্জিয়া ও পেনসিলভানিয়ায়। পরবর্তী সময়ে এরাই ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য অঞ্চলে। অভিবাসনের দ্বিতীয় ঘটনা ১৭৮০ সালে। আমেরিকা তখন পশম রফতানি করে চীনে। ফিরে যাবার সময় কলকাতা থেকে নিয়ে যায় পাট ও কার্পাস। নিউইয়র্ক ও বোস্টনে জাহাজে শ্রমিক হিসেবে কাজ করত চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও সিলেটের কিছু মানুষ। তাদের কেউ কেউ থেকে গিয়েছে সেখানে। নতুন মাটিতে প্রস্তুত করেছে জীবিকার পথ। দুয়ারে দুয়ারে আইসক্রিম কিংবা অন্যান্য পণ্য ফেরি করে বেড়ানোই ছিল তাদের জীবিকা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরই ১৯৪৭ সালে বিভাজিত হয় বাংলা। বাড়তে থাকা রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক সংকটে, বিশেষ করে জাহাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত শ্রেণী বের হয় নতুন সুযোগের সন্ধানে। বের হয় না বলে বের হতে বাধ্য হয় বলাই বোধ হয় অধিক যৌক্তিক। দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে আর দুচোখে নিরাপদ জীবনের স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমায় যুক্তরাষ্ট্রে। তাদের উদ্দেশ্যই ছিল সেই আনকোরা জায়গায় নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা। বলে রাখা ভালো, আমেরিকার ১৯২১ সালের অভিবাসন আইনে একটা সুযোগ রাখা হয়। কোনো নন-আমেরিকান যদি কোনো আমেরিকানকে বিয়ে করে, তবে তার জন্য আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করা বৈধ। এ সুবিধা লুফে নিয়েছিল বহু নন-আমেরিকান। বাংলাদেশীরাও কাজে লাগিয়েছে নিজেদের মতো করে। ২০১১ সালে লং বিচে জনৈক চাচার কথা নিজের বইয়ে আলোচনা করেছেন লেখক ও গবেষক জহির আহমেদ। সেই ‘চাচা’ ষাট অথবা সত্তরের দশকে আমেরিকায় যান। বিয়ে করেন কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান নারীকে এবং লাভ করেন আমেরিকান নাগরিকত্ব। তারপর দফায় দফায় ১৫০ জনেরও বেশি আত্মীয় ও পরিচিতজনকে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় নিয়েছেন। ২০০৯ সালে নিজ বাড়ি নোয়াখালী যাওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। দেশের সঙ্গে তার সম্পর্কও বেশ অদ্ভুত ধরনের। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ছিলেন এবং সেখানেই কাটিয়েছেন কর্মজীবন। অথচ নিজের দেশ, মাটি, শিকড় ও পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন করেননি। এমনকি গ্রামে প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছেন মাদ্রাসা। বর্তমানের ভাষায় চাচাকে বহুজাতিক হিসেবে গণ্য করা যায়।

পাকিস্তান আমলের প্রথম দিকেই অর্থাৎ পঞ্চাশের দশকেই অভিবাসনের নতুন স্রোত শুরু হয়। স্বাধীনতার আগ দিয়ে ষাটের দশকে রাজনৈতিক উত্তাল মুহূর্তেও বিপুলসংখ্যক পূর্ব পাকিস্তানি নিরাপত্তার আশায় আশ্রয় নেয় যুক্তরাষ্ট্রে। এ অভিবাসীদের মধ্যে সমাজের ওপর দিকের শ্রেণীটাই বেশি ছিল; বিশেষ করে বাঙালি ছাত্র, ডাক্তার ও বিত্তবান ব্যক্তিরা।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। মানচিত্র বদলের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হয় অভিবাসনের ধরন। বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় অভিবাসী গমনের আনুষ্ঠানিক বন্দোবস্ত হয়। শুরু হয় নতুন স্রোতধারা। ১৯৭৩ সালে অভিবাসীদের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৫৪। ১৯৭৪ সালে তা কিছুটা নেমে দাঁড়ায় ১৪৭ জনে; কিন্তু ১৯৭৫ সালেই পরিণত হয় ৪০৪ জনে, অর্থাৎ প্রায় তিন গুণ। মনে রাখা দরকার, স্বাধীনতার পরও দীর্ঘ সময় দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিদ্যমান ছিল। গভীর হচ্ছিল অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও। ফলে তরুণ সমাজ ক্রমে আমেরিকায় নিজের ভবিষ্যৎ গোছাতে উৎসাহী হয়ে ওঠে। চলে যাওয়া সেই শ্রেণী নিজেদের প্রতিষ্ঠা করে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ওয়াশিংটন ও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঞ্চলে। অভিবাসনের এ ধারা এখনো থেমে যায়নি।

আশির দশকেই মোটামুটি নির্ধারণ হয়ে যায় অভিবাসনের গতিপথ। বদল ঘটে চালচিত্রও। এবার অভিবাসীদের অনেকেই পেশাজীবী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, গ্র্যাজুয়েট ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট ছাত্র। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি অশনিসংকেতও বটে। কারণ পেশাজীবীদের জন্য আমেরিকা গমনের আরেকটা অর্থ দাঁড়ায় বাংলাদেশের জন্য মেধাপাচার। কিন্তু সে দায়ভারও বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদেরই নিতে হবে।

আশির দশকের প্রথম দিকে অভিবাসীরা ছিল প্রধানত ১০-৩৯ বছর বয়সী তরুণ শ্রেণী। ক্রমে তারা তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের সেখানে নিতে শুরু করে। ক্যালিফোর্নিয়া, নিউজার্সি, নিউইয়র্ক, আটলান্টা, টেক্সাস ও ওয়াশিংটন মুখর হয়ে ওঠে বাঙালির পদধ্বনিতে। ক্রমে সহজলভ্য হয়ে ওঠে মসজিদ এবং হালাল মাংসের দোকান। আমেরিকার প্রায় প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই এখন কমবেশি বাঙালি বসবাস করে।

১৯৬৫ সালের ‘দি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট’ এক্ষেত্রে এশিয়া থেকে যাওয়া আমেরিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। এর মধ্য দিয়ে ১৯২৪ সালের কিছু নিষেধাজ্ঞা বাতিল হয়ে পড়ে। সহজ হয়ে ওঠে পারিবারিক পুনর্মিলনের ধারণা। অর্থাৎ আমেরিকার কোনো নাগরিকের কোনো পারিবারিক সদস্য অন্য কোনো দেশে থাকলে তাকে আমেরিকার মূলস্রোতে নেয়ার ধারণা। আশির দশক থেকে এখন অবধি এ পারিবারিক পুনর্মিলন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে অনেক বাংলাদেশী গিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। উদাহরণস্বরূপ, একটা তথ্য তুলে ধরা যেতে পারে। ১৯৯৬ সালে ৭৭১ জন বাংলাদেশী প্রবেশ করেছে পেশানির্ভর সুবিধায়। অন্যদিকে পারিবারিক পুনর্মিলন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে গিয়েছে ৮ হাজার ২২১ জন। ২০০৪ সালে চালানো এক জরিপে দেখা যায়, ১৯৭১ থেকে ২০০২ সাল অবধি ৯৩ হাজার বাংলাদেশী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে; যারা আসলে জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নয়।

১৯৬৫ সালের অ্যাক্টের কারণে অনেক বাংলাদেশী নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্যে নিজেদের আত্মীয়স্বজন নিয়ে গিয়েছে অভিবাসী হিসেবে। জায়গাগুলো এখন যেন অনেকটা বাংলাদেশী ছিটমহল। বিস্তৃত আমেরিকার গর্ভে বিন্দু বিন্দু বাংলাদেশী জনগোষ্ঠী। সত্তর থেকে আশির দশকে এসব অঞ্চল অর্থনৈতিক দিক দিয়ে তেমন অগ্রসর ছিল না। পাঁচ বছর অবস্থান করলেই আমেরিকায় নাগরিকত্ব দাবি করা যায়; এই নীতিটিও অনুপ্রাণিত করেছে বাংলাদেশীদের। গ্রিন কার্ড হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা তোড়জোড় শুরু করে পরিচিত মানুষদের সেখানে নেয়ার জন্য। পিতা-মাতাকে নিতে ১৮ মাস লাগে আর ভাইবোনদের জন্য ১৮-২০ মাস। ধরা যাক, কোনো ব্যক্তি নাগরিকত্ব পেল, সে এবার তার স্ত্রীর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করবে। স্ত্রী পেলে সে তার আবেদন করবে নিজের পরিবারের কারো নাগরিকত্বের জন্য। এভাবেই ক্রমে বেড়ে চলেছে অভিবাসন। ২০১০ সালে চাকরিসূত্রে আমেরিকা যাওয়া ৮২৭ জন অভিবাসীকে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। ঠিক একই বছর ৪ হাজার ৯৩৫ জন আমেরিকান নাগরিকদের আত্মীয় হিসেবে, ৬ হাজার ৬ জন পারিবারিক সূত্রে, ২ হাজার ৮০০ জন ডিভিতে ও ১৭১ জন উদ্বাস্তু কিংবা আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে আমেরিকা যায়। ফলে দেখা যাচ্ছে, পারিবারিক যোগসূত্র আমেরিকায় অভিবাসনে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে কাজ করছে।

নব্বইয়ের দশকে ডাইভারসিটি ভিসার (ডিভি) সুযোগ শুরু হয় বাংলাদেশীদের জন্য। অভিবাসনের নীতি অনুসারে প্রার্থীকে এর আগে আমেরিকায় থাকা কোনো নাগরিকের নাম উল্লেখ করতে হয়। এর ফলে প্রথমত, নিজ দেশের লোক খুঁজে বের করা এক রকম বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায় তাদের জন্য। দ্বিতীয়ত, সেখানে থাকা অভিবাসীদের মধ্যে গড়ে ওঠে নিজস্ব বন্ধন। এখন নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো বাণিজ্যিক এলাকাগুলোয় ছোট্ট ছোট্ট বাংলাদেশী সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে। অধিকাংশই কাজ করে গ্যাস স্টেশনে, মুদি দোকানে কিংবা ছোটখাটো ব্যবসায়।

বর্তমানে বাংলাদেশীরা আমেরিকার সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল এশীয় জনগোষ্ঠী। যেখানে ভারতীয়দের বৃদ্ধি ৮৫ শতাংশ, পাকিস্তানিদের ১০০ শতাংশ; সেখানে বাংলাদেশীদের বৃদ্ধি ১৫৭ শতাংশ। আদমশুমারিতে দেখা যাচ্ছে, ২০০০-১০ সালের মধ্যে আমেরিকায় বাংলাদেশী জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।

আমেরিকায় বাংলাদেশীদের অভিবাসন নিয়ে লেখক জহির আহমেদ তার ‘লিটল বাংলাদেশ: ভয়েসেস ফ্রম আমেরিকা’ বইয়ে জনৈক চাচা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যিনি সত্তরের দশকে আমেরিকায় গিয়ে লং বিচে থিতু হন। তার মাধ্যমেই ধীরে ধীরে সেখানে গড়ে ওঠে বাংলাদেশী সম্প্রদায়। এখন দেড়শর বেশি বাংলাদেশী পরিবার সেখানে। শুক্রবারে একসঙ্গে জুমার নামাজ হয়। প্রধানত নোয়াখালীর হলেও চট্টগ্রাম ও অন্য অঞ্চলের মানুষও আছে। এ বাংলাদেশীরা সেখানকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশীরা এক্ষেত্রে কয়েক কদম এগিয়ে। তারা সেখানে গড়ে তুলেছে লিটল বাংলাদেশ। মূলস্রোতে মিশে না গিয়ে টিকিয়ে রেখেছে স্বাতন্ত্র্য। আমেরিকা তাদের কাছে যখন অভিবাসন ভূমি এবং চাকরি পাওয়ার জায়গা, লিটল বাংলাদেশ তখন স্বদেশের ঘ্রাণ ও মানসিক প্রশান্তি।

লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাস করা বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীর বড় অংশ গিয়েছে ডিভির মাধ্যমে। কেউ চাকরিসূত্রে আবার কেউ পারিবারিক সংযুক্তি নিয়ে। একটা বড় অংশ ভাষাগত দক্ষতা না থাকার কারণে কাজ করে মুদি দোকানে। কেউ আবার দাঁড় করিয়েছে স্বতন্ত্র ব্যবসা। অন্যদিকে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করা অধিকাংশ বাংলাদেশীর শিকড় নোয়াখালীতে। গিয়েছে আত্মীয়তার সূত্রেই। গবেষক জহির আহমেদ ১৫০ ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাদের মধ্যে নোয়াখালী থেকে যাওয়া ৭৬ জন, খুলনা থেকে ১৪ জন; জামালপুরের ১০ জন ও সিলেটের ৩০ জন। বাকিরা চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুমিল্লা ও বরিশাল অঞ্চলের।

লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাস করা অধিকাংশ মানুষই থাকে ভাড়া বাসায়। বিশেষ করে লা ফিয়েট, অক্সিডেন্টাল, হুভার স্ট্রিট, কমনওয়েলথ, ভার্জিল, ওয়েস্টমন্ট, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও ডাউনটাউন অঞ্চলগুলো সাংস্কৃতিক বহুত্বকে ধারণ করে আছে। এই বহুত্ব ভাড়া করা বাসায় বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের মাধ্যমেই। বাংলাদেশীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মুদি দোকানগুলো। যা-ই হোক, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় তাদের শক্ত শিকড় গজিয়ে উঠেছে। পুরুষরা বিভিন্ন পেশায় জড়িত হলেও নারীরা সাধারণত ঘর সামলানোর দায়িত্বেই থাকে।

তার পরও এসব জায়গার সঙ্গে অভিবাসীদের এক প্রকার গভীর আত্মীয়তা গড়ে উঠেছে। সেখানকার সমাজে তারা নিজেদের আরো বেশি প্রতিষ্ঠিত করতে প্রচেষ্টা চালায় অবিরত। উদাহরণস্বরূপ, ন্যাশভিলে পরিবারের সংখ্যাই সাকল্যে ৭০টি। অথচ তাদের অধিকাংশই ডাক্তার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কিংবা উচ্চ পর্যায়ের চাকরিজীবী।

সে হিসেবে সাউথ ক্যালিফোর্নিয়ার চেয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশী অভিবাসীদের ভেতরে বৈচিত্র্য বেশি। আমেরিকায় তারা বহু বছর কাটিয়েছে। এখন নিজেদের তারা সেই সমাজেরই অংশ মনে করে। সেখানেই সম্পর্ক পাতায় এবং নিজেদের যুক্ত করে মাটির সঙ্গে।

 

আহমেদ দীন রুমি: লেখক ও অনুবাদক