ড. ফিরদৌসী কাদরী বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী। চিকিৎসা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত তিনি। ড. ফিরদৌসী কাদরী আমাদের বিশিষ্ট বন্ধু সদ্য প্রয়াত ড. সালেহীন কাদরীর সহধর্মিণী।
ড. সালেহীন কাদরী ছিলেন ১৯৬৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ব্যাচে আমাদের সহপাঠী। তিনি প্রাণরসায়ন নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষক রাজনীতিতে সাদা দলের নেতা হিসেবে সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক ও বিশিষ্ট ভদ্রলোক।
ড. ফিরদৌসী কাদরী তার কর্মজীবনের বেশির ভাগ সময় আইসিডিডিআর,বিতে একজন বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেছেন। তার বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা এরই মধ্যে সারা বিশ্বে সমাদৃত হয়েছে এবং চিকিৎসা খাতকে বহুদূর এগিয়ে নিয়েছে। বিশেষ করে মহামারী সৃষ্টিকারী (এপিডেমিক) রোগগুলো নিয়ে তার গবেষণা নিঃসন্দেহে চিকিৎসা ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।

র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার হাতে ড. ফিরদৌসী কাদরী
কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ড. ফিরদৌসী। এর মধ্যে তার সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি হলো র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার লাভ। এ আন্তর্জাতিক সম্মাননা তার উচ্চতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ড. ফিরদৌসী কাদরী অত্যন্ত বিনয়ী, অমায়িক ও মিষ্টভাষী। ব্যক্তিগতভাবে তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকেই নীরবে ও নিভৃতে কাজ করে যেতে বেশি ভালোবাসেন। এ নিভৃত সাধনার মাধ্যমেই তিনি দেশের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে এনেছেন।
বন্ধুপত্নী হিসেবে তিনি আমাদের কাছে একজন প্রিয় মানুষ ছিলেন। বন্ধুবান্ধবদের নিয়মিত যাতায়াতের সময় গৃহকর্ত্রী হিসেবে তার আতিথেয়তায় আমরা মুগ্ধ হতাম।
ড. ফিরদৌসী কাদরীর এ সাফল্য কেবল একজন বৈজ্ঞানিক হিসেবেই নয়, বরং বাংলাদেশের নারীদের জন্য একজন সফল নারী হিসেবেও অনুপ্রেরণার প্রতীক। তার অর্জনে আমরা বন্ধুরা গভীরভাবে আনন্দিত ও গর্বিত। আমরা তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)










