সিঙ্গাপুর। বিশ্বের ব্যস্ততম এ নগর-রাষ্ট্রের অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন ঘাম ঝরিয়ে যাচ্ছেন লাখো বাংলাদেশী। তাদের কেউ চাকরিজীবী, কেউ ব্যবসায়ী, আবার কেউ কারখানার শ্রমিক। পেশা ভিন্ন হলেও তাদের একটাই পরিচয়—দূর প্রবাসে ঘামঝরা শ্রমে উপার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা নিয়মিত প্রেরণ করে তারা প্রাণ সঞ্চার করে চলেছেন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। আর এ যাত্রায় তাদের নির্ভরতার নাম—ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে অর্থ প্রেরণ। প্রবাসীরা এ কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছেন। গত ২০ জুন সিঙ্গাপুরে আয়োজন হয় ‘বাংলাদেশ রেমিটার্স সম্মাননা ২০২৫’। থাকরাল গ্রুপ সিঙ্গাপুরের সহায়তায় এবং বণিক বার্তার প্রোগ্রাম ডিজাইনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর উপস্থিত থেকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণে অবদান রাখা প্রবাসী বাংলাদেশীদের হাতে স্মারক ও সনদ তুলে দেন। প্রথমবারের মতো এ সম্মাননা পেয়ে কেউ হয়েছেন আবেগতাড়িত, কেউ জানিয়েছেন কৃতজ্ঞতা। সবাই একে প্রেরণাদায়ক স্বীকৃতি হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
বাংলাদেশী চারটি ব্যাংকের এক্সচেঞ্জ হাউজ রয়েছে সিঙ্গাপুরে। এ ব্যাংকগুলো হলো অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আসা রেমিট্যান্সের সিংহভাগই আসছে এসব ব্যাংকের এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে। সম্মাননাপ্রাপ্ত রেমিটারদের গল্প ও অনুভূতি তুলে ধরতে বিশেষ এ আয়োজন...

প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে স্মারক ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ড. এম নজরুল ইসলাম, থাকরাল গ্রুপের চেয়ারম্যান গুরমুখ সিং থাকরাল ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ
সিঙ্গাপুরে গিয়ে সফল উদ্যোক্তা সাহিদুজ্জামান টরিক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে ১৯৯৫ সালে সিঙ্গাপুরে যান মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান টরিক। অক্লান্ত শ্রম ও মেধার সমন্বয় ঘটিয়ে এরই মধ্যে দেশটির প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর খাতায় নাম লিখিয়েছেন। সিঙ্গাপুরে পর্যটন ও হোটেল খাতে ব্যবসা রয়েছে তার। রেমিট্যান্সযোদ্ধা হিসেবে ১৪ প্রবাসীর অন্যতম তিনি। সম্মাননা নিতে এসে সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, ‘৩০ বছর ধরে সিঙ্গাপুরে আছি। ১৯৯৫ সালে ট্রাভেল এক্সিকিউটিভ হিসেবে এখানে এসেছিলাম। এখন নয়টি সিঙ্গাপুরি কোম্পানির কর্ণধার। ট্রাভেল বিজনেসের পাশাপাশি আমার সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট, রেস্টুরেন্ট ও কিছু ট্রেডিং ব্যবসা আছে। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে সব সময় বৈধপথে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছি। অন্য প্রবাসীদের প্রতি আমার আহ্বান হলো দেশকে গড়ার জন্য বৈধপথে টাকা পাঠান। এতে শুধু দেশেরই উপকার হবে না, নিজেরাও গর্বিত হতে পারবেন।’
দেশপ্রেমে অনড় সাগুফতা নাজ
১৯৯৯ সাল থেকে সিঙ্গাপুরে বসবাসকারী সাগুফতা নাজ কর্মরত রয়েছেন মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের পার্কওয়ে ক্যান্সার সেন্টারে। প্রবাস জীবনের শুরু থেকেই বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠান তিনি। শুনেছেন অন্যত্র পাঠালে বিনিময় হার বেশি। কিন্তু দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকেই ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠান। তার ভাষায়, ‘পরিবারের খরচ, সেবামূলক ও দাতব্য কিছু কাজের জন্য নিয়মিত দেশে টাকা পাঠাতে হয়। এক্ষেত্রে বরাবরই আমি বাংলাদেশী এক্সচেঞ্জ হাউজের সেবা নিই। বিশেষ করে অগ্রণী এক্সচেঞ্জ হাউজ আমাকে পরিবারের সদস্যের মতো সেবা দিয়েছে।’
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চান মনিরুজ্জামান
২৫ বছর ধরে সিঙ্গাপুরে বসবাস করেছেন মো. মনিরুজ্জামান। দেশে রেমিট্যান্স পাঠান বৈধপথে। শুরুতে নানা সমস্যায় পড়লেও এখন ব্যাংকিং চ্যানেলের সেবা অনেক উন্নত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। চারটি বাংলাদেশী ব্যাংক এখানে গ্রাহকদের ডোর-টু-ডোর সেবা দিচ্ছে এবং বৈধপথে পাঠানোর সুবিধা সম্পর্কে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে। রেমিট্যান্সযোদ্ধারা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন বা স্বীকৃতি চান মনিরুজ্জামান।
দাউদ হোসেনের দীর্ঘ প্রবাসজীবন
১৯৯৬ সাল থেকে সিঙ্গাপুরে থাকা যশোরের দাউদ হোসেনের প্রবাসজীবন দীর্ঘ। চাকরি করছেন একটি প্রতিষ্ঠানে সুপারভাইজার হিসেবে। তিন দশক ধরে দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন ব্যাংকিং চ্যানেলে। দাউদ হোসেন বলেন, ‘বিদেশ থেকে পাঠানো আমার কষ্টার্জিত টাকা পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সুখী আছে। যে সুখের জন্যই ৩০ বছর প্রবাস জীবন কাটাচ্ছি। তবে কখনো কেউ আমাদের এমনভাবে সম্মান দেয়নি। আজকের এ আয়োজন আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।’
নজরুল মাতব্বরের সতর্কবার্তা
নজরুল মাতব্বর প্রথম সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন ২০০৬ সালে। দুই-তিন বছর থেকে দেশে ফিরে আসেন। কিছুদিন পর আবার সিঙ্গাপুরে পাড়ি দেন। এখন একটি ভালো চাকরি করছেন। পাশাপাশি কার্গো নিয়েও মাঝেমধ্যে কাজ করেন। সব মিলিয়ে মাসে আয় করছেন দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। আর সেই টাকা দেশে পাঠাচ্ছেন বাংলাদেশী এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে। প্রবাসীদের সতর্কবার্তা দিয়ে নজরুল মাতব্বর বলেন, ‘দেশে টাকা পাঠানোর সময় ভুল পথ বেছে নিলে জাতি ও দেশের ক্ষতি হয়। তাই আমি দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক রিজার্ভে অবদান রাখতে বৈধপথেই রেমিট্যান্স পাঠাই।’
রেমিট্যান্স বাড়াতে শাহাদাতের মতামত
সিঙ্গাপুরে দক্ষ কর্মীর চাহিদা অনেক বেশি। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে আসা কর্মীদের বেশির ভাগই সাধারণ শ্রমিক। অন্যদিকে ভারতীয়সহ অনেক দেশ উচ্চশিক্ষিত ও আইটি দক্ষ কর্মী পাঠাচ্ছে, যারা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে উচ্চ বেতনে কাজ করছে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বাংলাদেশের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করেন প্রবাসী মো. শাহাদাত হোসেন ইমন। সেই সঙ্গে বৈধপথে দেশে অর্থ পাঠাতে জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে লেনদেন ট্র্যাক এবং প্রবাসীদে জন্য বন্ড স্কিম বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের মতো বিশেষ সুবিধা চালু করার দাবি তার।
আরিফুর রহমানের মতো অনেকে এখন গর্বিত
সিঙ্গাপুরে ব্যবসা করছেন আরিফুর রহমান। প্রবাসের উদ্দেশে তিনি দেশ ছেড়েছিলেন ২০০১ সালে। অগ্রণী এক্সচেঞ্জ হাউজের এ গ্রাহক বলেন, ‘রেমিট্যান্স বৈধ চ্যানেলে পাঠালে স্বজনদের হাতে নিরাপদে পৌঁছায়। আর দেশের উন্নয়নেও তা ভূমিকা রাখে।’ কখনই তিনি অবৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠান না জানিয়ে বলেন, ‘দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে বৈধপথে টাকা পাঠাই। তাই আমি সব প্রবাসী ভাইকে অনুরোধ করব, আপনারা বৈধ পথে টাকা পাঠান। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে অবদান রাখুন। এ দেশ আমার ও আপনার। আমাদের দায়িত্ব নিজ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা।’
দক্ষতায় জোর মাইন উদ্দিনের
সাধারণ কর্মী হিসেবে ২০০৭ সালে সিঙ্গাপুরে গিয়ে এখন কোম্পানির পরিচালক মাইন উদ্দিন। সেখানে গিয়ে কাজের পাশাপাশি লেখাপড়াও চালিয়ে যান। এরপর চালু করেন একটি কোম্পানি, যেখানে কাজ করছেন ১৫ বাংলাদেশী কর্মী। দক্ষতা ও শিক্ষা থাকলে প্রবাসে উন্নতি করা যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের জন্য সিঙ্গাপুর নিরাপদ গন্তব্য। অনেকের কাছে স্বপ্নের দেশও। এখানে কাজের মূল্যায়ন আছে। দক্ষতা থাকলে চাকরি ও বেতন নিয়ে সমস্যা হয় না।’ বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে মাইন উদ্দিন দেশে টাকা পাঠালেও এখন তিনি এনবিএল এক্সচেঞ্জ হাউজের গ্রাহক। তার ভাষ্য, ‘শুনেছি ন্যাশনাল ব্যাংক এ মুহূর্তে বিপদে আছে। ব্যাংকটির প্রতি ক্ষুদ্র সহায়তা হিসেবে আমি তাদের মাধ্যমেই রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছি।’
হোসাইন মোহাম্মদ এমদাদের আর্থিক সচেতনতা
প্রায় তিন দশক ধরে সিঙ্গাপুরে থাকা হোসাইন মোহাম্মদ এমদাদ বললেন, ‘রিজার্ভ বাড়াতে হলে বৈধপথে টাকা পাঠাতে হবে। এ বিষয়টিতে সবার মনোযোগ দেয়া উচিত।’ ১৯৯৬ সাল থেকে সিঙ্গাপুরে থাকা এ প্রবাসী বলেন, ‘যারা প্রবাসে আসবেন বা আছেন তাদের প্রতি আমার অনুরোধ আপনারা বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠান। প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের অর্থে দেশের রিজার্ভ সমৃদ্ধ হবে। আমরা আমাদের অর্থনীতির ভিত মজবুত করব। সবাই মিলে দেশের জন্য কাজ করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি আধুনিক ও উন্নত জীবনমান পাবে।’
আবুল কালামের দায়িত্ববোধ
প্রায় তিন দশক ধরে সিঙ্গাপুরে চাকরি করছেন আবুল কালাম আজাদ। ১৯৯৭ সাল থেকে দেশটিতে বসবাসকারী এ প্রবাসী বলেন, ‘রেমিট্যান্সযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় পাওয়া আমাদের ওপর একটি দায়িত্ব চাপিয়েছে—দেশপ্রেমের দায়িত্ব।’ দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠিয়ে আসা আবুল কালাম বলেন, ‘এখানে অনেকগুলো মানি এক্সচেঞ্জ হাউজ আছে। এগুলোর মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাই। তবে ইসলামী ব্যাংকের মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বেশি পাঠিয়ে থাকি। আমরা প্রবাসীরা দেশের অর্জনের অংশীদার। সেটি প্রমাণ করতে সব প্রবাসীকে বৈধপথে টাকা পাঠাতে অনুরোধ করব।’
বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠান ফারুক
মো. ফারুক। প্রায় ১৮ বছর ধরে সিঙ্গাপুরে পেশাদার ল্যান্ড সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত। নিজের ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি সবসময় চেয়েছেন দেশের জন্য কিছু করতে। তার ভাষ্য, যারা বিদেশে আছেন তারা শুধু নিজেদের জন্য নয়, বরং দেশের উন্নয়নের স্বপ্ন নিয়েই প্রবাসে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। তবে সেই শ্রমের অর্থ যদি ভুল পথে যায়, তাহলে তাদের পরিশ্রমের অর্থটাই ম্লান হয়ে যায়। সে কারণে শুরু থেকেই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠিয়ে আসছেন ওমর ফারুক। সিঙ্গাপুরের এ ল্যান্ড সার্ভেয়ার বলেন, ‘বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর উপকারিতা নিয়ে প্রচারণা বাড়ানো প্রয়োজন। এতে আরো অনেকে উদ্বুদ্ধ হবেন।’
নজরুল মজুমদারের পরামর্শ
সিঙ্গাপুর প্রবাসী মোহাম্মদ নজরুল মজুমদার ২০১৩ সাল থেকে সেখানকার ভবন রক্ষণাবেক্ষণ খাতে টেকনিক্যাল এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করছেন। নতুন প্রবাসীদের উদ্দেশে তার পরামর্শ—সিঙ্গাপুরে পা রাখার আগে অবশ্যই কিছু প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জন করে আসুন। ইংরেজি, আইটি কিংবা টেকনিক্যাল ট্রেনিং—যেটা সম্ভব, তা নিয়ে আসা উচিত। কারণ এখানে চাকরি পেতে এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দক্ষতা অপরিহার্য। কম দক্ষতা নিয়ে এলে ভালো চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
বিদেশে থাকার এই এক যুগে পরিবারের প্রতি দায়িত্ব যেমন পালন করেছেন, তেমনি দেশের প্রতি কর্তব্যবোধ থেকেও কাজ করছেন নজরুল মজুমদার। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠালে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নির্ভরতা। যেদিন টাকা পাঠাই, সেদিনই পরিবারের সদস্যরা তা হাতে পান। বৈধ পথে অর্থ পাঠানো মানে দেশের বৈদেশিক রিজার্ভে সরাসরি অবদান রাখা। এটা আমার আত্মতৃপ্তির জায়গা।’
দুর্ঘটনার শিকার বাংলাদেশী শ্রমিকদের পাশে এন বাসাবে
বাংলাদেশীসহ সিঙ্গাপুরে বসবাসকারী বিভিন্ন দেশের অভিবাসী শ্রমিকদের একটি অংশ বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। কেউ কেউ মারাও যাচ্ছেন। আইনি সহায়তা দিয়ে বিপদগ্রস্ত এসব শ্রমিকের পাশে দাঁড়াচ্ছে এইচওএইচ ল করপোরেশন। বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোয় সহায়তার জন্য এ প্রতিষ্ঠানটিও সংবর্ধিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এন বাসাবে বলেন, ‘প্রবাসী শ্রমিক বিশেষ করে বাংলাদেশী শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেয়ার ক্ষেত্রে আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। এখানে বাংলাদেশী যেসব এক্সচেঞ্জ হাউজ আছে, তাদের সেবায় আমি খুবই সন্তুষ্ট।’
ব্যাংকের প্রযুক্তি উন্নয়নের দাবি শাখাওয়াতের
প্রাইম এক্সচেঞ্জের গ্রাহক শাখাওয়াত হোসেন। কখনোই তিনি হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠাননি। তবে ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এ জটিলতার কারণেই প্রায় ৫০ শতাংশ প্রবাসী এখনো হুন্ডির দিকে ঝুঁকছে। ব্যাংকের সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি আপডেট হলে পরিস্থিতি বদলাবে।’










