বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের গুরুত্ব বেশি হওয়ার কারণ, এটির বেশির ভাগই যায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে। এটি শহরকেন্দ্রিক নয়, বহুলাংশে গ্রামভিত্তিক। ফলে এর প্রভাব ব্যাপক। রেমিট্যান্স দেশের আর্থিক খাতকে শুধু সাহায্য করছে না, সামাজিক রূপান্তরেও বড় ভূমিকা রাখছে। এর ফলে কী হচ্ছে? গ্রামীণ অর্থনীতি ভালো হচ্ছে। গ্রামের শিশুরা ভালো শিক্ষা পাচ্ছে। পারিবারিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, আবাসিক ব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে। ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি ব্যাপক শক্তিশালী। তবে আমরা চাই প্রবাসীরা দেশে কেবল রেমিট্যান্স পাঠানোয় সীমাবদ্ধ থাকবেন না। বরং তারা বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে এগিয়ে আসবেন। আপনাদের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় করার কাজ করছি। আপনারা দেশে ডলার বন্ডে বিনিয়োগ কীভাবে সিঙ্গাপুরে বসেই করতে পারেন, সেটি দেখতে হবে। ওয়েজ আর্নার্স বন্ড কীভাবে বিদেশ থেকে কেনা যায় সেটি আমি দেখব। এখনকার দিনে সবকিছুই ওয়েব বেজড হতে পারে, তাহলে কেন বন্ড কিনতে দেশে যেতে হবে। সেফটি-সিকিউরিটি নিশ্চিত করে বন্ডের কেনাবেচাকে আমরা ওয়েব বেজড করতে পারি। এটি করতে পারলে আপনাদের (প্রবাসী) সঙ্গে দেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে। এ সম্পৃক্ততা যদি আরো গভীর হয়, আরো ব্যাপকতর হয়, তাহলে আমাদের ব্যক্তিগত পর্যায়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণের পাশাপাশি জাতি হিসেবে আমাদের লক্ষ্যও পূরণ করতে পারব। কিন্তু সামগ্রিকভাবে আমরা দেখি, বাংলাদেশীদের মাথাপিছু আয় অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। এখানে আমি সরকারি ব্যর্থতার কথাই বলব। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তনও দরকার। কারিগরি শিক্ষার দিকে না গিয়ে জেনারেল শিক্ষার দিকেই বেশি যাচ্ছি। সেজন্য আমাদের দক্ষতার উন্নয়ন হচ্ছে না। যেটি করলে দ্বিগুণ, তিন গুণ বা ১০ গুণ পর্যন্ত বেতন বাড়তে পারে, সেটি ভাবছি না। আমরা যাচ্ছি অদক্ষ হয়ে। দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশে একজন গাড়িচালক মাসে ৪০ হাজার টাকা আয় করে। কিন্তু একজন বিএসসি বা এমএ পাস ছেলে ২০ হাজার টাকা বেতনের চাকরিও পাচ্ছে না। এটিই বাস্তবতা।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের গুরুত্ব বেশি হওয়ার কারণ, এটির বেশির ভাগই যায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে। এটি শহরকেন্দ্রিক নয়, বহুলাংশে গ্রামভিত্তিক। ফলে এর প্রভাব ব্যাপক।










