বাবার সম্পর্কে কথা বলা যথেষ্ট কঠিন, কারণ তিনি অনেক বড় মাপের মানুষ ছিলেন। সেটা মানুষের কাছ থেকে শুনে এবং তিনি চলে যাওয়ার পর আরো বেশি করে উপলব্ধি করেছি। জীবনে সফল হতে হলে যে ধরনের গুণ ও প্রকৃতি থাকা দরকার, এগুলো সবসময় বাবার ছিল। তিনি ছোট ছোট উদাহরণ দিয়ে কথা বলতেন। বাবা বলতেন, ‘যে গাছে যত বেশি ফল ধরে সে গাছ তত বেশি নুয়ে যায়। তুমি যদি জীবনে সফল হও, তাহলে তোমার ওপর অনেক বেশি চাপ থাকবে। কিন্তু তোমাকে নম্র হতে হবে। সবকিছু পোশাক-আশাক বা গাড়ি-বাড়ির মধ্য দিয়ে প্রমাণ করার দরকার হয় না।’ তার বড় গুণ ছিল বিনয়ী এবং শোভন আচরণ। খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বলতে গেলে, তিনি একদম খাঁটি বাঙালি খাবার, যেমন ভাত ও মাছ পছন্দ করতেন। তিনি সবসময় বলতেন, যখন অল্প বয়স থাকে, তখন ‘ভাতে মাছে বাঙালি’ আর যখন বয়স হয়, তখন ‘মাছে ভাতে বাঙালি’।

তার সময়জ্ঞান খুব নিখুঁত ছিল। কোনো মিটিং থাকলে তিনি ঠিক পনেরো মিনিট আগে গিয়ে হাজির হতেন। বেশি বয়সে যখন ট্রাভেল করতেন, কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তিনি ২ ঘণ্টা আগে গিয়ে এয়ারপোর্টে বসে থাকতেন। তিনি বলতেন, বাড়িতে বসে থাকার চেয়ে ওখানে গিয়ে পেপার পড়া বা অন্য কিছু করাই ভালো। একবার আমি সাঁতার কাটতে গিয়ে ভুলে গিয়েছিলাম যে আমার ফ্লাইট আছে, সেটা মিস করেছিলাম। এই কথাটা তিনি সারা জীবন আমাকে শোনাতেন যে আমার কোনো সময়জ্ঞান নেই।

একবার তেজগাঁওয়ে একটি জমি কেনার ব্যাপারে দরদাম চলছিল। দাম বেশি হওয়ায় আমি আপত্তি জানাচ্ছিলাম। তখন তিনি এতটাই বিরক্ত হলেন যে একদিন আমি ও আমাদের একজন সিএফওকে তার রুম থেকে বের করে দিয়েছিলেন। পরে সিএফওকে ডেকে বলেছিলেন, ‘তুমি তোমার এমডি (তপন চৌধুরী) সাহেবকে গিয়ে বলো জায়গা জমি কিনতে বুকে সাহস লাগে।’ নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, ‘যাও জমি কিনে ফেল।’ তার সেই দূরদর্শিতা ছিল, আজ সেই জমির দাম দশ গুণ বেড়ে গেছে।

ব্যবসার শুরুতে কাজের জন্য তিনি কলকাতায় গিয়ে সবসময় গ্র্যান্ড হোটেলে থাকতেন। সেটি তৎকালীন ব্যয়বহুল হোটেলগুলোর একটি। আমি একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম কেন গ্র্যান্ডে থাকেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ওই হোটেলে বসে আমার সঙ্গে যাদের মিটিং হয়, তারা মনে করবে যে এ কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর যেহেতু এখানে এসে মানসম্পন্ন একটি হোটেলে থাকছেন, তাহলে নিশ্চয়ই এটি একটি ভালো সক্ষমতা রাখে এমন একটি কোম্পানি। সেটি ছিল প্রেস্টিজিয়াস হোটেল, তাই এখানে পয়সার চিন্তা করলে হবে না।’ এ ধরনের খুঁটিনাটি অনেক কিছুই তার কাছ থেকে শিখেছি।

as

তিন পুত্রের সঙ্গে স্যামসন এইচ চৌধুরী

আমি যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে (উপদেষ্টা) ছিলাম তখন একজন সচিব আমাকে বললেন, ‘যেকোনো কাজে আঙ্কেল (স্যামসন এইচ চৌধুরী) চলে আসেন। কিন্তু তিনি তো একটা ফোন কল করলেই হয়ে যায়। কষ্ট করে তার আসার প্রয়োজন নেই।’ আমারও কথাটা যুক্তিযুক্ত মনে হলো। আমি সন্ধ্যায় বাড়িতে গিয়ে খুবই বিনয়ের সঙ্গে তাকে বললাম, ‘আপনি যে সচিবালয়ে এভাবে যান, কিন্তু আপনার তো যাওয়ার প্রয়োজন হয় না।’ কথাটাতে তিনি খুবই বিরক্ত (অফেনডেড) হয়েছিলেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি কোথায় আছো সেটা আমার বিবেচনায় না। আমি সারা জীবন যেখানে যে কাজ, সে কাজটা নিজে গিয়েই করি। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলতেন, যে কৃষক নিজের জমিতে যায় না সে ভালো ফসল আশা করতে পারে না।’

তিনি কর ব্যবস্থা নিয়ে যথেষ্ট পড়াশোনা করতেন। এ নিয়ে দারুণভাবে তার যুক্তি স্থাপন করতেন। সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ী সংগঠনের মাধ্যমে কথা বলতেন। অনেক সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের (আমলা) প্রতি খুব কঠিন শব্দও ব্যবহার করতেন। ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই তিনি তাদের বিষয়গুলো বোঝাতে পারতেন। আমি তার অভিজ্ঞতার ধারে-কাছেও যেতে পারিনি। তখনকার সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে বর্তমান সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু নীতি নৈতিকতার অনেক অবক্ষয় হয়েছে।

বাবার সঙ্গে আমি দীর্ঘ সময় কাজ করেছি। পড়ালেখা শেষ করে যখন ব্যবসায় আসি, তখন বয়স কম ছিল। অনেক ব্যাপারেই মনে হতো উনি পুরনো দিনের মানুষ—‘ফ্রম দ্য ওল্ড স্কুল অব থটস’। এজন্য ভ্যালুজ নিয়ে অনেক বেশি কথাবার্তা বলেন, আইনকানুন নিয়েও বলেন। অথচ আমি দেখতাম, ওই সময় যারা আমাদের প্রতিযোগী, তারা অনেক ক্ষেত্রে কম্প্রোমাইজ করছে। আমার মনে আছে, যখন প্রথম এ দেশে ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর চালু হয়, তখন আমাদের প্রতিযোগীরা প্রকৃত টার্নওভার ঘোষণা করত না। এর জন্য হয়তো তাদের অনেক টাকা বেঁচে যেত। একদিন সাহস করে তার কাছে বিষয়টি বলাতে তিনি আমাকে বললেন, ‘ভ্যাট কী জিনিস বোঝ?’ আমি বিব্রত ও অপমান বোধ থেকেই বললাম, ‘ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স’। এরপর তিনি প্রশ্ন করলেন, ‘ভ্যাট কে দেয়?’ বললাম, ‘কনজিউমার (ভোক্তা) দেয়।’ এরপর তিনি জানতে চাইলেন, ‘তোমার ভূমিকা কী?’ বললাম, ‘কালেক্ট করে সরকারের কোষাগারে জমা দেয়া।’ তখন তিনি বললেন, ‘তাহলে এ টাকার দিকে তোমার নজর কেন? এ টাকা কি তোমার?’

এরপর তিনি কড়া কথা শোনালেন। বললেন, ‘তোমার প্রফিট্যাবিলিটি তোমার কস্টিংয়ের মধ্যে যদি বিল্ডআপ না থাকে, যখন দেখছ মুনাফা হচ্ছে না, তখন সে ব্যবসা থেকে বেরিয়ে পড়ো। তুমি সে পণ্য উৎপাদন কোরো না, যদি দেখো ওই ইন্ডাস্ট্রিতে লাভ নেই। যে টাকা সরকারের, আর দিচ্ছে ভোক্তা, সে টাকার দিকে তোমার নজর কেন?’ তখন আমি বিপণন পরিচালক, ভেবেছিলাম পুরনো ধ্যানধারণার মানুষ এমনই। পরে তিনি ডাকলেন। বললেন, ‘দেখো তুমি যাদের কথা বলছ, আমি হয়তো বেঁচে না-ও থাকতে পারি, কিন্তু তুমি দেখবে এরা কেউ ব্যবসায় থাকবে না।’ বাবা যে সঠিক ছিলেন, তিনি জীবিত থাকতেই তা দেখলাম। সাত-আট বছরের মধ্যে কোম্পানিগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

বাবা আমাদের গায়ে কখনো হাত তুলতেন না। ছোটবেলায় তাকে খুব কমই কাছে পেয়েছি, কারণ তাকে রাওয়ালপিন্ডি, ইসলামাবাদসহ বিভিন্ন জায়গায় ব্যবসার কাজে যাতায়াত করতে হতো। তার ব্যক্তিত্ব এমন ছিল যে তিনি জোরে ডাক দিলেই আমাদের অবস্থা কাহিল হতো।

আমার একমাত্র বোন বাবার খুবই আদরের ছিলেন। ওর গায়ে একটু ছোঁয়া লাগলেও তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তেন। সে যদি কান্নাকাটি করত, বাবা সাতদিন পরে বাড়ি ফিরে হলেও সে বিষয়ে খোঁজ নিতেন। মেয়ে বলতে তিনি একদম অজ্ঞান ছিলেন এবং এটা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছিল।

বাবা-মার সম্পর্ক ছিল অসাধারণ এবং ঈর্ষা করার মতো। এটা যেকোনো দম্পতির জন্য শিক্ষণীয়। এমনও হয়েছে যে বাবা বাসায় আছেন, ওই সময়ে মা খাওয়ার টেবিলে আমাদের (ভাইবোনদের) সঙ্গে গল্প করছেন। তাকে সময় না দিয়ে ছেলেমেয়ের সঙ্গে এত আড্ডা দেয়ার জন্য উষ্মা প্রকাশ করতেন। মাকে ছাড়া বাবা কোথাও যেতেন না। বয়স হওয়ার পর মা বলতেন যে তিনি আগের মতো হাঁটতে পারেন না, কিন্তু তাও বাবা মাকে ছেড়ে কোথাও যেতেন না। একবার খাওয়ার সময় আমি মাকে একটু উঁচু গলায় কথা বলায় বাবা খুবই রেগে গিয়েছিলেন এবং ধমক দিয়েছিলেন। হাসপাতালে যখন বাবা ভর্তি ছিলেন, মাকে সামনের চেয়ারে বসে থাকতে হতো, যেন বাবা তাকালেই তাকে দেখতে পান।

তিনি গান খুব ভালোবাসতেন। তার নিজস্ব সংগ্রহশালা ছিল। বিশেষ করে লালনগীতি তার খুব পছন্দ ছিল। ফরিদা পারভীনের গান খুব পছন্দ ছিল। ফরিদা পারভীন তাকে ‘বাবা’ ডাকতেন। শেষদিকে বাবা যখন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, ফরিদা পারভীন একদিন নিজে এসে তাকে গান শুনিয়েছিলেন। বাবা খুব খুশি হয়েছিলেন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমরা দুই পরিবার মিলে (ডক্টর এএমএম খান, যিনি ফার্মাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলেন, তার পরিবারসহ) একবার ভারতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। আগ্রা, জয়পুরসহ বিভিন্ন জায়গায় লম্বা ট্রেন জার্নি খুব মজার ছিল। ছোটবেলায় আমরা পাবনায় থাকতাম, তখন ট্রেনে করে নানা বাড়িতে যেতাম। ট্রেন ঈশ্বরদী থেকে বনগাঁ হয়ে শিয়ালদা যেত। আমরা একটা কম্পার্টমেন্ট বুক করতাম, বাবা ওপরের বার্থে, মা নিচে আর আমরা ভাইবোনরা মেঝেতে ঘুমাতাম। এ পারিবারিক সফরগুলো খুব মনে পড়ে।

তাকে কখনো ওরকম ভেঙে পড়তে দেখিনি। একবার মার্শাল লর সময় কেউ রিপোর্ট করার ফলে গভর্নমেন্ট আমাদের বাড়ি ও ফ্যাক্টরি সিল করে দিয়েছিল। সেটি ক্রাইসিসের সময় ছিল, কিন্তু তখনো তিনি ভেঙে পড়েননি। তিনি ছিলেন ঈশ্বরের ওপর প্রবল বিশ্বাসী। তিনি প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় বাইবেল পড়তেন। তার এ বিশ্বাস জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছিল। তিনি পাবনা শহরে সমাজ পরিবর্তনের জন্য এবং কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টের জন্য বিভিন্ন কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করেছেন।

rr

সন্তানদের সঙ্গে স্যামসন এইচ চৌধুরী ও অনিতা চৌধুরী

স্বাধীনতাযুদ্ধে তার ভূমিকা আমি উপলব্ধি করেছি দেরিতে। তিনি ওই সময় দেশে পাকিস্তান আর্মির হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডগুলোর প্রকৃত চিত্র আন্তর্জাতিক মহলকে অবহিত করতেন। এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বড় ভাই আগেই ভারতে চলে যায়। আমার ছোট ভাই অঞ্জন তখন স্কুলে পড়ত। আমরা থাকতাম পাবনায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় অঞ্জন তার এক বন্ধুসহ ভারতে যাওয়ার সময় কুষ্টিয়া থানায় ধরাও পড়ে। পরে বাবার পরিচয় দিয়ে সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে মুজিব বাহিনীতে যোগ দিয়ে ট্রেনিং নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে এসে (ডিসেম্বরে) আল-বদররা বাবাকে উঠিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে আমাদের আবাসস্থলের দিকে আসতে শুরু করে। আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল এর আগেই। তখন আমরা ফ্যাক্টরিতে থাকতাম। তবে কয়েক মিনিট আগে আমরা খবর পেয়ে যাই। ফলে আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হই। বাবা সবসময় বিশ্বাস করতেন যে দেশ খুব তাড়াতাড়ি স্বাধীন হয়ে যাবে; তিনি সবসময় খুব আশাবাদী ছিলেন। তার কয়েকদিন পরই দেশ স্বাধীন হয়ে যায়।

তিনি মানুষজনকে খুবই ভালোবাসতেন। তিনি প্রতিটি মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক রাখতেন এবং তাদের একদম পরিবারের মানুষ হিসেবে দেখতেন। অনেক কর্মীর অবসরে যাওয়ার বয়স হওয়ার পরও তিনি তাদের বহাল রাখতেন। বলতেন, সারা জীবন এখানে ছিল, এখন বাড়িতে গেলে বেশিদিন বাঁচবে না। কাজের মধ্যে থাকলে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো থাকবে। পুরনো এক ক্যাশিয়ার ছিলেন। আমরা কাদের চাচা বলে ডাকতাম। তার অবসরের বয়স হয়ে গেলে বাবাকে বললাম, তার তো বিদায়ের সময় হয়ে এসেছে। তখন তিনি আমাকে বললেন, তার চিন্তা করতে হবে না, আমি যতদিন আছি কাদের ততদিন থাকবে।

তিনি যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন তাকে আমরা অফিস করতে দিতে চাইতাম না। কিন্তু তিনি অফিস করতে চাইতেন। পরে বললাম আপনি এক বেলা অফিস করেন। সে সময় আমরা অনেক জিনিস তার সঙ্গে শেয়ার করতাম না, তিনি চাপ বোধ করবেন বলে। পরে দেখলাম এটা আরো উল্টো। যেসব বিষয় তার সঙ্গে শেয়ার করব কিনা ভাবতাম, সেসব সমস্যা তাকে শেয়ার করলে তিনি সমাধান দিতেন এবং খুশি হতেন। অসুস্থ হয়েও এভাবে বরং তিনি চাঙ্গা বোধ করতেন। বাবার মৃত্যুর পর অনেকেই ভেবেছিল যে কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাবে। যেমন একজন দোকানদার আমাদের একটি পণ্যের সরবরাহ ঘাটতি দেখে বলেছিল যে চেয়ারম্যান সাহেব নেই, কোম্পানি আর বেশিদিন চলবে না। এখনই বাজারে পণ্যের সাপ্লাই ঠিক নেই। কিন্তু বাবার দোয়ায় মানুষের সমর্থন পেয়েছি। এমন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠেছি আমরা।

বাবার সবচেয়ে বড় সম্পদ এবং গুণ ছিল, তিনি মানুষকে সম্মান করতে জানতেন, ভালোবাসতে জানতেন। তার সঙ্গে যাদেরই পারস্পরিক যোগাযোগ হয়েছে, তারা সবসময় তার সম্পর্কে ভালো কথা বলেছেন। এখন পর্যন্ত এমন কারো সঙ্গে দেখা হয়নি যিনি তার সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলেছেন।

তিনি ছিলেন প্রচণ্ড বন্ধুবৎসল মানুষ। তিনি এবং তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা সবাই পরিবার নিয়ে সারা পৃথিবীতে ট্রাভেল করতেন। বাবার ফিউনারেলের পর যখন পাবনায় দেহাবশেষ নিয়ে যাওয়া হয়, ভোর বেলা আমরা দেহাবশেষ নিয়ে যাই। আগের দিন রাতে আমার ছোট ভাই বাবার বন্ধু মাহবুবুর রহমান (ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের বর্তমান সভাপতি) চাচাকে বললেন, ‘চাচা আপনি এত রাত পর্যন্ত এখানে আছেন, কালকে সকালবেলা গাড়ির সঙ্গে না গিয়ে আপনি হেলিকপ্টারে যান।’ তখন মাহবুবুর রহমান চাচা প্রচণ্ড রেগে গিয়ে ধমক দিয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি কী বলছ আমাকে? আমার ভাই যাবে গাড়িতে আর আমি যাব হেলিকপ্টারে?’ পরে চাচা আমাদের সঙ্গে পাবনা গিয়েছেন। এ ঘটনা প্রমাণ করে, বাবার প্রতি তার বন্ধুদের কতটা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছিল।

বাবার স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য আমরা তিন ভাই এবং বোন মিলে ‘স্যামসন অনিতা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি ট্রাস্ট তৈরির কাজ হাতে নিয়েছি। এর মাধ্যমে আমরা ঢাকার কাছে আমিনবাজারে নদীর ধারে একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল, নার্সিং কলেজ, মেডিকেল কলেজ, স্কুল এবং বৃদ্ধাশ্রম তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছি। আমরা চাই যেন নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্তসহ সব ধরনের মানুষ এ হাসপাতাল ব্যবহার করতে পারে। চিকিৎসাসেবা যেন মানুষের আয়ত্তের মধ্যে থাকে। আশা করছি শিগগিরই এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।