মেটাভার্স তৈরির অংশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্য উন্মোচন করেছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ। ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে ব্যক্তিক যোগাযোগ উন্নয়ন ও ভাষান্তরের বিষয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গবেষণা পরিচালনা করছে মেটা। খবর রয়টার্স।

মেটাভার্স হচ্ছে ভার্চুয়াল পরিবেশের একটি ভবিষ্যৎ ধারণা, যেখানে ব্যবহারকারীরা কাজ করতে পারবেন, একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সামাজিকীকরণ শিক্ষা ও বিনোদন গ্রহণ করবেন। জাকারবার্গের দাবি বর্তমান সময়ের মোবাইল ইন্টারনেটের অন্যতম বিকল্প হবে মেটাভার্স। মেটা আয়োজিত ইনসাইড দ্য ল্যাব ইভেন্টে আলোচনার সময় জাকারবার্গ বলেন, ভবিষ্যৎ প্লাটফর্মটির অগ্রগতির অন্যতম উপায় হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন মডেল তৈরিতে মেটা কাজ করছে। এসব মডেলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের নিজস্ব জগৎ সম্পর্কে জানাতে এবং বিভিন্ন অংশ তৈরি করতে পারবে। আগে রেকর্ডকৃত একটি ডেমোয় জাকারবার্গ বিল্ডার বট নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্লাটফর্মের ধারণা দিয়েছেন। যেখানে মার্ক পা-বিহীন থ্রিডি অ্যাভাটার হিসেবে একটি দ্বীপে অবতরণ করেছেন এবং ভয়েস কমান্ড দেয়ার মাধ্যমে সমুদ্রসৈকত তৈরি, গাছ, মেঘ যুক্তের পাশাপাশি পিকনিকের জন্য ব্যবহূত ম্যাটও তৈরির কথা বলেছেন।

মার্ক জাকারবার্গ বলেন, এ প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে যে কেউ তাদের ভয়েস কমান্ড দ্বারা নিজের জগৎ তৈরির পাশাপাশি অন্যদের সঙ্গে আনন্দ ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে নিতে পারবেন। প্রযুক্তিগত এসব উন্নয়ন কবে সামনে আসবে, সে বিষয়ে এবং বিল্ডার বটের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের সঙ্গে আরো সহজ কথোপকথন পরিচালনায় মেটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গবেষণা পরিচালনা করছে। মেটাভার্সে ব্যবহারকারীরা কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, সেটি নির্ধারণে প্রথম পদক্ষেপ এটি। ডিভাইস অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি কাইরাওকে নামে একটি প্রকল্পও পরিচালনা করেছিল। প্রকল্পটির ডেমো ভার্সনে স্টু রান্নার জন্য অ্যাসিস্ট্যান্ট ভয়েস কমান্ডে এরই মধ্যে লবণ যুক্ত করার বিষয়টি জানানোর চিত্র দেখানো হয়।

মেটা জানায়, প্রতিষ্ঠানটি তাদের ভিডিও কলিং পোর্টাল ডিভাইসের পাশাপাশি অগমেন্টেড রিয়েলিটি ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ডিভাইসে যুক্ত করার জন্য মডেলটি ব্যবহার করেছিল। রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগের প্রেসিডেন্ট জেরোমি পেজেন্টি জানান, প্রতিষ্ঠানটি তাদের কাইরাওকেভিত্তিক অ্যাসিস্ট্যান্টের প্রতিক্রিয়া কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। মূলত অ্যাসিস্ট্যান্ট যেন ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কর্কশ ভাষায় কিংবা আক্রমণাত্মকভাবে যোগাযোগ না করে, সেটি নিশ্চিতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।

পেজেন্টি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রকল্পগুলোর ভাষাগত কাঠামো খুবই শক্তিশালী। তাই এর সঠিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

জাকারবার্গ আরো জানান, মেটা ইউনিভার্সাল স্পিচ ট্রান্সলেটর নিয়েও কাজ করছে। বিশেষ করে সব ভাষার মানুষের স্পিচ টু স্পিচ ট্রান্সলেশনের সুবিধা নিশ্চিতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি সব লিখিত ভাষার রূপান্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। পেজেন্টি আরো জানান, মেটাভার্সের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ও কনটেন্ট পরিবর্তনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের বিষয়েও মেটা কাজ করছে।