আগামী চার বছরে বা ২০২৬ সাল নাগাদ ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট বাজার বর্তমানের তুলনায় তিন গুণ বেড়ে ১০ ট্রিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে। মূলত ডিজিটাল মার্চেন্ট পেমেন্টের কারণে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হবে। সম্প্রতি ফোনপে পালস ও বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ যৌথ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। খবর ইটিটেলিকম।

ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট: ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি সুযোগ শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, পরবর্তী ধাপের প্রবৃদ্ধি দেশটির ৩ থেকে ৬টি অংশ থেকে আসবে। গত দুই বছরের তথ্যে দেখা যায়, গ্রাহক পর্যায়ে মোবাইল লেনদেনের ৬০-৭০ শতাংশ তিন থেকে ছয়টি শহর থেকেই সম্পন্ন হয়েছে।

মার্চেন্টে বা ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি, ভ্যালু চেইনের ডিজিটালাইজেশন এবং বাজার ব্যবস্থায় আর্থিক পরিষেবার বিস্তার ভারতের ডিজিটাল পেমেন্টের বিকাশ ত্বরান্বিত করবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ফাইভজি ও ইন্টারনেট অব থিংসের (আইওটি) মাধ্যমে এমবেডেড পেমেন্ট পদ্ধতির পাশাপাশি সার্বভৌম ডিজিটাল রুপির সূচনা এ কার্যক্রম আরো গতিশীল করবে।

অভূতপূর্ব এ বৃদ্ধির ফলে ২০২৬ সাল নাগাদ ভারতে প্রতি তিনটি আর্থিক লেনদেনের মধ্যে দুটি ডিজিটাল প্লাটফর্মে সম্পন্ন হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ফলে ভারত ডিজিটাল পেমেন্টের অর্থনীতিতে পরিণত হবে। ২০২১ সালে ডিজিটাল লেনদেন যেখানে ৪০ শতাংশ ছিল, ২০২৬ সাল নাগাদ তা ৬৫ শতাংশে উন্নীত হবে।

ফোনপের ইনভেস্টর রিলেশন ও স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান কার্তিক রঘুপতি বলেন, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি ও ব্যক্তি থেকে ব্যবসায়ীর সঙ্গে ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে ইউনিফাইড পেমেন্ট ইন্টারফেস (ইউপিআই)। গত তিন বছরে এ প্লাটফর্মে লেনদেনের পরিমাণ নয় গুণ বেড়েছে। ২০১৯ অর্থবছরে যেখানে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫০০ কোটি, ২০২২ অর্থবছরে তা ৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। নগদ অর্থবিহীন লেনদেনের ক্ষেত্রে যার পরিমাণ ৬০ শতাংশ।

রঘুপতির মতে, লেনদেনের ক্ষেত্রে এ পরিবর্তন দেশজুড়ে ডিজিটাল পেমেন্ট সর্বজনীনভাবে গৃহীত হওয়ার উদাহরণ। ভারতের উল্লেখযোগ্য ইউপিআই অ্যাপের মধ্যে পে টিএম, গুগল পে, ফোনপেসহ আরো কিছু প্লাটফর্ম রয়েছে।

বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অংশীদার প্রতীক রুংতার বিশ্বাস, ২০২৬ সাল নাগাদ ৬৫ শতাংশ ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে ভারত ভিন্ন অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। বর্তমানে যার পরিমাণ ৪০ শতাংশ। তিনি বলেন, এ প্রবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে মার্চেন্ট বা ব্যবসায়িক লেনদেন। বিশেষ করে অফলাইন সেগমেন্টে কুইক রেসপন্স (কিউআর) কোডের ব্যবহার বাড়ায় এটি সম্ভব হবে।

প্রতীক রুংতা আরো বলেন, ডিজিটাল লেনদেন ধীরে ধীরে সব ধরনের ব্যবসায় যুক্ত হবে এবং আমরা সেগুলো প্রত্যক্ষ করব। পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেন ডিজিটাল অর্থনীতিতে রূপান্তর হবে। বড় ব্যবসায়ীরা যত বেশি ডিজিটাল লেনদেন গ্রহণ করবেন, ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ক্রেডিটে প্রবেশ করা তত সহজ হবে। কেননা এটি ডিজিটাল লেনদেনের একটি পথ তৈরি করবে বলেও জানান তিনি।