কভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখতে অনলাইন প্লাটফর্মে ঝুঁকেছিল। এর মাধ্যমে দেশগুলো নিজেদের অজান্তে শিশুদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি বিক্রি করে দেয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত হুমকির মুখে রয়েছে। খবর এনগ্যাজেট।
সম্প্রতি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২১ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ রিমোট লার্নিংয়ের জন্য বিভিন্ন অ্যাপ ও পরিষেবা গ্রহণে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছে। শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি মূলত এ সময় শিশুদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাদের কার্যক্রমে নজরদারি করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
৪৯টি দেশে রিমোট লার্নিং বা শিক্ষা গ্রহণ কার্যক্রমের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ শেষে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এসব স্থানে ব্যবহূত ১৬৪টি এডটেক পণ্যের মধ্যে ১৪৬টি শিশু-কিশোরের ব্যক্তিনিরাপত্তা অধিকার নষ্ট করেছে বা এর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অভিভাবকদের অগোচরে তাদের সন্তান তথা প্লাটফর্মের তরুণ ব্যবহারকারীদের পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহে হয়তো প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে অনুসরণ প্রযুক্তি ছিল বা কাউকে নিয়োগ দিয়েছিল।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ১৪৬টি অ্যাপ পর্যালোচনা করেছে। যেগুলো আরো ১৯৬টি থার্ড পার্টি প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের তরুণ ব্যবহারকারীদের তথ্য হস্তান্তর করেছে। এসব তথ্যের অধিকাংশই এডটেক ফার্মের কাছে যাচ্ছে। অন্য কথায়, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান শিশুদের তথ্য কিনে নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, কভিড-১৯ মহামারীর সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য জুম, মাইক্রোসফট টিমসসহ সিসকোর ওয়েবেক্স ব্যবহারের পরামর্শ দিলেও শিশুদের সর্বাত্মক ব্যবহারের জন্য এটি তৈরি করা হয়নি। এদের মধ্যে এসটি ম্যাথ অন্যতম। প্লাটফর্মটি লোক নিযুক্তের মাধ্যমে মেটা ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যবহারকারীদের তথ্য বিক্রি করেছে। যেগুলো ভবিষ্যতে আচরণগত বিজ্ঞাপন তৈরিতে ব্যবহূত হতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নজরদারি পুঁজিবাদ যে কত বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, এ প্রতিবেদন তারই একটি উদাহরণ। চলতি মাসে এ রকম আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এজেন্সি একটি অভ্যন্তরীণ নজরদারি সংস্থা হিসেবে কাজ করে। সেই সঙ্গে এজেন্সি ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ডাটাবেজ কিনে নেয়ার মাধ্যমে তাদের পরিচালনায় ব্যবহূত আইন এড়িয়ে যেতে পেরেছিল।










