চিকিৎসক বা রেডিওলজিস্টের পক্ষে সবসময় নিখুঁতভাবে জটিল রোগের সার্বিক চিত্র পাওয়া কঠিন। আধুনিক বিশ্বে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সি (এআই) কাজে লাগিয়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সেবা সহজ করা হয়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ শতাংশ অধিবাসী। খবর টেকটাইমস।
সম্প্রতি পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপ বলছে, স্বাস্থ্যসেবায় এআই ব্যবহারে অস্বস্তিতে ভুগছেন তারা। ২০২২ সালের ১২-১৮ ডিসেম্বর এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে ১১ হাজার ৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনের কাছে মত নেয়া হয়েছিল। তাতে বেশির ভাগই এআইনির্ভর স্বাস্থ্য খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সমীক্ষা অনুযায়ী, বেশির ভাগ মার্কিনি চান এআই সুবিধা সতর্কতার সঙ্গে নিয়ে পেশাদার চিকিৎসকরা এগিয়ে যাক। তারা পুরোপুরি এআইর বিরুদ্ধে নয়। যেমন ৬৫ শতাংশ মার্কিন মনে করেন ত্বকের ক্যান্সার শনাক্তকরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভুল ফল দেয়।
অন্যদিকে ৪০ শতাংশ মার্কিন বিশ্বাস করেন, স্বাস্থ্য ও ওষুধে এআইয়ের অন্তর্ভুক্তিতে পেশাদারদের কম ভুল হবে। তবে ২৭ শতাংশ এ দাবির সঙ্গে একমত হননি। ২০২২ সালের একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, মেডিকেল ত্রুটির কারণে বছরে ২ হাজার কোটি ডলার গুনতে হয় এবং এক লাখ প্রাণহানি ঘটে।
অনেকের বিশ্বাস, স্বাস্থ্যসেবায় জাতিগত পক্ষপাতের সমস্যা রয়েছে। যদি এ খাতে এআই যুক্ত করে সেবার ব্যবস্থা থাকে তাহলে চিকিৎসা নিয়ে পক্ষপাতের ঘটনা কমবে। তবে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। জরিপে ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, এআই ব্যবহার করে অসুস্থতা নির্ণয় ও চিকিৎসা পরামর্শ দেয়ার জন্য রোগী ও চিকিৎসকের সম্পর্ককে খারাপ করবে। আর ১৩ শতাংশ মনে করেন, এটি তাদের সম্পর্ককে ভালো করবে।
সমীক্ষায় আরো দেখা গেছে, উচ্চশিক্ষিত ও কম বয়সী পুরুষের কাছে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসেবায় এআই বেশি গ্রহণযোগ্য। ৪৬ শতাংশ পুরুষ মনে করে, তারা স্বাস্থ্যসেবায় এআই ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। আর ৫৪ শতাংশ এর বিপরীতে অর্থাৎ না উত্তর দিয়েছেন।
অন্যদিকে ৬৬ শতাংশ নারী চান না তাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষায় এআইনির্ভর চিকিৎসক থাকুক। তবে তরুণদের মাঝে যাদের একটু শিক্ষা ও ভালো উপার্জন আছে স্বাস্থ্যসেবায় এআইয়ের ব্যবহার তাদের কাছে বেশি গ্রহণীয় দেখা গেছে।
জরিপ অনুসারে, প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্তত অর্ধেক রোগী স্বাস্থ্যসেবায় এআই ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এ সমীক্ষায় মার্কিনিদের সূক্ষ্ম ও বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে।
পিউর গবেষণা সহযোগী পরিচালক অ্যালেক টাইসন সিএনএনকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কেউ হয়তো এআই সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছেন। আবার কেউ হয়তো সামান্য বা কিছুই শোনেননি। কিন্তু তারা সবাই একই স্থানে বাস করছেন। স্বাস্থ্য পরিচর্যায় এআই গ্রহণে তাদের সতর্ক মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।’










