চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ডেস্কটপ, নোটবুক ও ওয়ার্কস্টেশনসহ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা পিসি বিক্রি হয়েছে প্রায় দুই কোটি ইউনিট। পিসি বিক্রি থেকে আয় বেড়েছে ৪০ শতাংশ। তবে ইউনিট বিবেচনায় গত বছরের একই প্রান্তিকের চেয়ে পিসি বিক্রি কমেছে ১৪ শতাংশ। প্রযুক্তি বাজারবিশ্লেষক সংস্থা ক্যানালিসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিভিন্ন খাতের কর্মীরা অফিসে ফেরায় ডেস্কটপ বিক্রিতে চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডেস্কটপ পিসি বিক্রি বেড়েছে ৩৩ শতাংশ। শিক্ষা খাতে ক্রোমবুকের চাহিদা হ্রাসে নোটবুক বিক্রি কমেছে ২২ শতাংশ। শিক্ষার্থীদের ক্রোমবুকে সরকারি ভর্তুকির জেরে ২০২১ সালে রেকর্ড সর্বোচ্চ নোটবুক বিক্রি হয়েছিল। ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে স্থিতিশীল অবস্থান ট্যাবলেট পিসি সেগমেন্টের।
জাহাজীকরণ হ্রাস পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের পিসি বিক্রি থেকে আয় বেড়েছে। এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং সাশ্রয়ী শিক্ষা ও বিনোদনমূলক ডিভাইসের চেয়ে উচ্চমূল্যের পিসি ক্রয়। মূলত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে হাই-এন্ডের পিসির চাহিদা বৃদ্ধি এতে ভূমিকা রেখেছে।
ক্যানালিসের বিশ্লেষক ব্রায়ান লিঞ্চ বলেন, সাশ্রয়ী পিসির চাহিদা হ্রাসের ফলে ইউনিটওয়ারি টানা তৃতীয় প্রান্তিকের মতো পিসি বিক্রি কমেছে। শিক্ষা খাতে চাহিদায় শ্লথগতি ও মূল্যস্ফীতি এতে প্রভাব ফেলেছে। গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫ শতাংশ, ১৯৮১ সালের পর যা ছিল সর্বোচ্চ।
লিঞ্চ আরো বলেন, বাণিজ্যিক খাতে পিসি বিক্রি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে হাইব্রিড বা মিশ্র কাজের প্রক্রিয়া। উন্নত অডিও-ভিডিও সক্ষমতা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির মতো বিষয়গুলো ছিল ভোক্তাদের কাঙ্ক্ষিত বিষয়।
টানা তৃতীয় প্রান্তিকের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষ ডেস্কটপ ও নোটবুক বিক্রেতা কোম্পানি ছিল ডেল। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে তাদের পিসি বিক্রি হয়েছে ৫১ লাখ ৪৭ হাজার। গত বছরের একই প্রান্তিকের চেয়ে ডেলের বিক্রি বেড়েছে ৭ শতাংশ। এ নিয়ে টানা চার প্রান্তিকে ৫০ লাখের বেশি পিসি বিক্রি করেছে মার্কিন কোম্পানিটি। আরেক মার্কিন কোম্পানি এইচপির পিসি বিক্রি হয়েছে ৪৩ লাখ ইউনিট। এইচপির ক্রোমবুক বিক্রি হ্রাসের ফলে গত প্রান্তিকে তাদের পিসি বিক্রি আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় কমেছে ৪০ শতাংশ। গত প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৩২ লাখ ৬৩ হাজার ইউনিট পিসি বিক্রি করেছে লেনোভো। বিক্রির দিক থেকে তৃতীয় স্থানে থাকলেও চীনা কোম্পানিটির পিসি বিক্রি কমেছে ২৪ শতাংশ। চতুর্থ স্থানে থাকা মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের পিসি বিক্রি হয়েছে ২৬ লাখ ৭৫ হাজার ইউনিট। এম১ চালিত ম্যাকবুকের ওপর ভর করে তৃতীয় প্রান্তিকে অ্যাপলের পিসি বিক্রি বেড়েছে ১৮ শতাংশ। ১১ লাখ ৪ হাজার ইউনিটের মাধ্যমে বিক্রিতে পঞ্চম স্থানে রয়েছে অ্যাসার। তাইওয়ানভিত্তিক কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে ৩ শতাংশ।
জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ট্যাবলেট পিসি বিক্রি ৫ শতাংশ বেড়েছে। ৪৫ লাখ ইউনিট বিক্রির মাধ্যমে এ সেগমেন্টে শীর্ষ বিক্রেতা ছিল অ্যাপল। ট্যাব বাজারের ৭ শতাংশ হিস্যা ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটির। বিভিন্ন অফারের মাধ্যমে সাশ্রয়ী ট্যাব বিক্রিতে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে অ্যামাজন। ফায়ার ট্যাবলেট সিরিজের বিক্রি বেড়েছে ৭ শতাংশ। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে স্যামসাং, টিসিএল ও মাইক্রোসফট।










