প্রযুক্তি খাত থেকে চীনকে অপসারণে ও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। চিপ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রযুক্তি থেকে শুরু করে উপাদান সরবরাহও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বৈরী এ পরিবেশের মধ্যে নতুন অভিযোগ তুলেছে নেদারল্যান্ডসের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এএসএমএল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সাবেক চীনা কর্মী তাদের প্রযুক্তিবিষয়ক তথ্য চুরি করেছে। খবর বিবিসি।

ডাচ কোম্পানিটি লঙ্ঘনের বিষয়ে নেদারল্যান্ডস এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে অবহিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এএসএমএলের মতে, যে তথ্য চুরি হয়েছে তা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বা ব্যবসায় কোনো ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না।

মাইক্রোচিপ সরবরাহের দিক থেকে এএসএমএলকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত চিপ উৎপাদক যন্ত্রও কোম্পানিটি তৈরি করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তিক্ত বাণিজ্য বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর। সেলফোন থেকে শুরু করে সামরিক হার্ডওয়্যার পর্যন্ত সবকিছু চালানোর মূলে রয়েছে বিশেষ এ যন্ত্রাংশ।

সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এএসএমএল জানায়, আমাদের নিজস্ব প্রযুক্তিবিষয়ক তথ্যের অননুমোদিত অপব্যবহার ঘটেছে এবং এর সঙ্গে চীনের একজন সাবেক কর্মী জড়িত। এ নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কারণে রফতানি নিয়ন্ত্রণ বিধিমালার লঙ্ঘন হয়ে থাকতে পারে। আমরা অতিরিক্ত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এএসএমএল অভিযুক্ত কর্মী বা চুরি হওয়া প্রযুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠান ও ওয়াশিংটনে থাকা চীনা দূতাবাস থেকেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

চীনের বিরুদ্ধে এএসএমএলের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (আইপি) লঙ্ঘনের অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। ২০২১ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনেও কোম্পানিটি জানায়, চীনা সেমিকন্ডাক্টর সরঞ্জাম ও সফটওয়্যার নির্মাতা ডংফাং জিংইউয়ান ইলেকট্রন চীনে সক্রিয়ভাবে এমন পণ্য বাজারজাত করছে, যা সম্ভবত এএসএমএলের আইপি অধিকারের লঙ্ঘন।

ডংফাং জিংইউয়ান ইলেকট্রন সে অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বেইজিংভিত্তিক কোম্পানিটির সে সময়ের দাবি ছিল প্রতিবেদনগুলো তথ্যভিত্তিক নয়। সেই সঙ্গে প্রয়োজনে মিথ্যা অভিযোগের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছিল চীনা কোম্পানিটি।

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিশ্বব্যাপী প্রধান কোম্পানিগুলো চীনে রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মার্কিন প্রযুক্তি বা সফটওয়্যার ব্যবহার করে উৎপাদিত চীনে চিপ রফতানির বেলায় বিশেষ অনুমোদন নেয়ার নিয়ম বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

নেদারল্যান্ডস ও জাপানকেও একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের জন্য চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৯ সাল থেকে ডাচ সরকার এএসএমএলকে চীনের কাছে তার সবচেয়ে উন্নত লিথোগ্রাফি মেশিন বিক্রি থেকে বিরত রেখেছে। সিলিকনে আণুবিক্ষণিক নকশা মুদ্রণ করতে লেজার ব্যবহার করে লিথোগ্রাফি মেশিন, যা মাইক্রোচিপ উৎপাদন প্রক্রিয়ার অংশ।

চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ থাকলেও এশিয়ার প্রযুক্তি খাত পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ২০২২ সালে উদীয়মান অর্থনীতি ও বড় আয়ের এশিয়ান দেশগুলোয় বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে ভারত ও চীন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে প্রযুক্তিকর্মীদের ছাঁটাই স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন কারণে প্রযুক্তি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে ধীরে ধীরে এ অবস্থার উন্নতি হবে।

২০২২ সালের আসিয়ান ইনভেস্টমেন্ট প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০১০ সালের মাঝামাঝি থেকে ভিসি বিনিয়োগ বাড়তে শুরু করে। ২০২২-এর মাঝামাঝি এসে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। ২০১৫-২০ সালের মধ্যে এ অঞ্চলে ভেঞ্চার ক্যাপিটালের বিনিয়োগে ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, যা চীন ও ভারতের তুলনায় বেশি। এটি আসিয়ান অঞ্চলে দুর্দান্ত উদ্ভাবনের সম্ভাবনাকেই চিহ্নিত করে।