গত সপ্তাহে ২০ কোটি টুইটার ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ই-মেইল তথ্য ফাঁস হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও শুরু হয়। সম্প্রতি এ বিষয়ে নতুন বিবৃতি দিয়েছে মাইক্রোব্লগিং প্লাটফর্মটি। টুইটার জানায়, যে তথ্য চুরি হয়েছে, সেগুলো তাদের সিস্টেম হ্যাক করে নেয়া হয়নি। খবর বিবিসি।
হামলার বিষয়ে দেয়া প্রথম বিবৃতিতে প্লাটফর্মটি বলেছিল, সিস্টেমের নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে যে তথ্য চুরি হয়েছে সে-সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রমাণ নেই। যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো হয়তো আগেই অনলাইনে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছিল। তার পরেও প্লাটফর্মটির পক্ষ থেকে ব্যবহারকারীদের তথা ক্ষতিগ্রস্তদের বিরক্তিকর ও ভুয়া ই-মেইলের বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা জানানো হয়।
যে সংস্থাটি তথ্য ফাঁসের দাবি উত্থাপন করেছিল, তাদের তথ্যের সঙ্গে টুইটারের দাবির কোনো মিল নেই। সাইবার ক্রাইম ইন্টেলিজেন্স কোম্পানির সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যালন গাল বলেন, ‘আমি ফাঁস হওয়া তথ্যগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুনরায় পর্যালোচনার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি এসব তথ্য সার্ভার থেকে চুরি না হওয়ার বিষয়ে টুইটার যে দাবি করছে সেটিও যেন যাচাই করা হয়।’
২০২২ সালের ডিসেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে টুইটারের প্রধান নিয়ন্ত্রক আয়ারল্যান্ড ডাটা প্রটেকশন কমিশন (ডিপিসি) এক ঘোষণায় জানায়, কমিশন ৫৪ লাখ অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত তথ্য ফাঁসের ঘটনা তদন্ত করছে। টুইটার জানায়, ২০২১ সালের জুনে সিস্টেম আপডেটের কারণে যে নিরাপত্তা ত্রুটি তৈরি হয়েছিল সে সময় ফাঁস হওয়া তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে।
ত্রুটির কারণে যদি কেউ কোনো ই-মেইল বা ফোন নাম্বার পেয়ে থাকে, তাহলে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সব টুইটার অ্যাকাউন্ট খুঁজে পাওয়া যাবে। টুইটার জানায়, সমস্যা বা ত্রুটির বিষয়ে জানানোর পর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে বাগ বাউন্টি স্কিমের মাধ্যমে এর সমাধান করা হয়েছে। এ স্কিমের আওতায় যেসব গবেষক নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করেছিলেন তাদের পুরষ্কৃত করা হয়েছে।
ডিসেম্বরে হাডসন রক এক প্রতিবেদনে জানায়, রায়ুশি নামের এক হ্যাকার আরো বড় পরিসরে তথ্য ফাঁসের মাধ্যমে টুইটারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছিল। হ্যাকারের দাবি, তার কাছে ৪০ কোটি ব্যবহারকারীর ই-মেইল ও ফোন নাম্বার রয়েছে এবং সেগুলো টুইটারের কাছে বিক্রির চেষ্টাও চালিয়েছে। এ ঘটনা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন সাপেক্ষে ডিপিসি জানিয়েছিল, নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণে টুইটার কীভাবে তথ্য সুরক্ষা আইন মেনে চলছে সেটি পরীক্ষা করবে। গত সপ্তাহে আরেকটি হ্যাকার দল ২০ কোটি টুইটার ব্যবহারকারীর ই-মেইল ঠিকানা হাতিয়ে নেয়। এরপর নামমাত্র মূল্যে ডাউনলোড করার জন্য অনলাইনে উন্মুক্ত করে দেয়। এক বিবৃতিতে টুইটার জানায়, প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা ও তদন্ত শেষে এটি বলা যায়, অনলাইনে যেসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর টুইটারের নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে চুরি করা হয়নি। বিভিন্ন সূত্র থেকে এসব তথ্য আগেই অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে এবং সেগুলোই সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে যেসব ই-মেইল প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিংবা আসল কিনা এ বিষয়ে টুইটার কিছুই জানায়নি। সংবাদমাধ্যম ব্লিপিং কম্পিউটার আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, তারা বেশকিছু ই-মেইল পরীক্ষা করেছে এবং সেগুলো আসল বলে প্রমাণিত হয়েছে।










