বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চলমান মন্দার কারণে ২০২২ সালে কম্পিউটার বিক্রিতে অবনমন হবে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি ৮ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৩২ কোটি ১২ লাখ ইউনিটে নেমে আসবে। খবর আইএএনএস ও আইডিসি।
আইডিসি প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০২১ সালের তুলনায় চলতি বছর ট্যাবলেট পিসি বিক্রিও ৬ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১৫ কোটি ৮০ লাখ ইউনিটে পৌঁছবে বলে উল্লেখ করা হয়। কভিড-১৯ মহামারী সংক্রমণের কারণে জারীকৃত লকডাউন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মুদ্রাস্ফীতিসহ বিভিন্ন কারণে কম্পিউটার ও ট্যাবলেট পিসির বৈশ্বিক চাহিদায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
আইডিসির মবিলিটি অ্যান্ড কনজিউমার ডিভাইস ট্র্যাকারস বিভাগের রিসার্চ ম্যানেজার জিতেশ উবরানি বলেন, সরবরাহ সংকটের কারণে কম্পিউটার উৎপাদন খাতের উৎপাদন দীর্ঘ সময় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কভিড-১৯-এর সংক্রমণের কারণে চীনে আরোপিত লকডাউন ও বিধিনিষেধের কারণে কারখানাগুলো প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ হাতে পাচ্ছে না। সেই সঙ্গে জাহাজভাড়া বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন করা পণ্য বাজারজাতে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, কভিড-১৯-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ দ্রুত প্রত্যাহার করা হলেও সরবরাহ চেইনে যারা কাজ করছেন, তাদের অবস্থান বা চাহিদার বিষয়টি এখনো সেভাবে প্রকাশ্যে আসেনি। পাশাপাশি সরবরাহ চেইনের যে সংকট চলমান, সেটি বছরের বাকি সময়েও থাকবে।
২০২২ সালে কম্পিউটার বিক্রিতে অবনমনের পূর্বাভাস দেয়া হলেও করোনা-পূর্ববর্তী অবস্থানে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষক ও গবেষকরা। বিশেষ করে বাণিজ্যিক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে নির্মিত নতুন ডিভাইস উদীয়মান প্রযুক্তি বাজারে চালকের অবস্থানে থাকবে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০২৩ সাল ও তার পরবর্তী সময়ে কম্পিউটার বিক্রিতে স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যদিও চলতি বছর বিক্রি কমে যাওয়ার ফলে গত পাঁচ বছরের চক্রবৃদ্ধি বার্ষিক বৃদ্ধির হার দশমিক ৬ শতাংশে থাকবে।
আইডিসির ওয়ার্ল্ডওয়াইড মোবাইল ডিভাইস ট্র্যাকার বিভাগের গ্রুপ ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ান রেইথ বলেন, কভিড-১৯ মহামারী-সংক্রান্ত সমস্যার পাশাপাশি বর্তমানে কম্পিউটার বিক্রির এ সমীকরণে যুদ্ধ, মুদ্রাস্ফীতি ও চীনের লকডাউনের বিষয়ও যুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডেস্কটপ, নোটবুক, ওয়ার্কস্টেশনসহ ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা পিসি বিক্রি হয়েছে প্রায় দুই কোটি ইউনিট। পিসি বিক্রি থেকে আয় বেড়েছে ৪০ শতাংশ। তবে ইউনিট বিবেচনায় গত বছরের একই প্রান্তিকের চেয়ে পিসি বিক্রি কমেছে ১৪ শতাংশ। প্রযুক্তি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ক্যানালিসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিভিন্ন খাতের কর্মীরা অফিসে ফেরায় ডেস্কটপ বিক্রিতে চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডেস্কটপ পিসি বিক্রি বেড়েছে ৩৩ শতাংশ। শিক্ষার্থীদের ক্রোমবুকে সরকারি ভর্তুকির জেরে ২০২১ সালে রেকর্ড সর্বোচ্চ নোটবুক বিক্রি হয়েছিল। ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে স্থিতিশীল অবস্থান ট্যাবলেট পিসি সেগমেন্টের। ক্যানালিসের বিশ্লেষক ব্রায়ান লিঞ্চ বলেন, সাশ্রয়ী পিসির চাহিদা কমে যাওয়ায় ইউনিটওয়ারি টানা তৃতীয় প্রান্তিকের মতো পিসি বিক্রি কমেছে। শিক্ষা খাতের চাহিদায় শ্লথগতি ও মূল্যস্ফীতি প্রভাব ফেলেছে। গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫ শতাংশ, ১৯৮১ সালের পর যা সর্বোচ্চ।
লিঞ্চ আরো বলেন, বাণিজ্যিক খাতে পিসি বিক্রি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে হাইব্রিড বা মিশ্র কাজের প্রক্রিয়া। উন্নত অডিও-ভিডিও সক্ষমতা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির মতো বিষয়গুলো ছিল ভোক্তাদের কাঙ্ক্ষিত বিষয়।










