গত বছর সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রেকর্ড র্যানসমওয়্যার হামলা হয়েছে। হামলাকারী দলের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল আরইভিল র্যানসমওয়্যার গ্যাং। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের চাপের মুখে গত সপ্তাহে গ্যাংটির ১৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছিল রাশিয়া। এবার গ্যাংটির আরো ছয় সদস্যকে গ্রেফতারের দাবি করেছে রুশ গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি। খবর বিবিসি।
অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্তে গ্রেফতারকৃতদের দুই মাসের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন মস্কোর আদালত। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে আরইভিল ভেঙে দেয়ার দাবি করেছে রাশিয়া কর্তৃপক্ষ। ওই ঘোষণার একদিন পরেই গ্রেফতারকৃত ছয়জনকে রিমান্ডে পাঠালেন মস্কোর আদালত। আরইভিল গ্যাংটি গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কলোনিয়াল পাইপলাইন হামলায় জড়িত ছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মস্কোর আদালতে নতুন যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের নাম হচ্ছে মিখাইল গোলোভাচুক, রুসলান খানসিভায়রভ, দিমিত্রি কোরোকায়েভ, অ্যালেক্সেই মালোজেমভ, আর্তিওম জায়েটস ও ডানিল পুজিরেভস্কি।
সমালোচকরা এ ঘটনাকে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার পারস্পরিক সহযোগিতার বিরল নিদর্শন হিসেবে। ইউক্রেন প্রশ্নে দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব যখন ইউরোপজুড়ে উত্তাপ ছড়াচ্ছে, ঠিক সে সময়েই আরইভিল হ্যাকার দলের সদস্যদের গ্রেফতার করে আদালতে তুলল রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ।
গত শুক্রবার রাতে মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গসহ রাশিয়ার বেশ কয়েকটি অঞ্চলের ২৫টি ঠিকানায় অভিযান পরিচালনা করেছে এফএসবি।
গ্রেফতারের ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছে ওয়াশিংটন। আরইভিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের পরিচয় ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র সরকার। তবে গ্রেফতারকৃতরা আরইভিল সদস্য হলেও রাশিয়ার নাগরিকদের মার্কিন কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়া হবে না।
গত বছর জেনেভায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে র্যানসমওয়্যার হামলা মোকাবেলার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কিন্তু সবচেয়ে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরাও ওই আলোচনা থেকে ইতিবাচক কোনো অগ্রগতির প্রত্যাশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সাইবার অপরাধ দমনে একাট্টা হলো দুই পরাশক্তি। এ সহযোগিতামূলক সম্পর্কের মাধ্যমে পশ্চিমা বিশ্বে মস্কো এ বার্তা দিতে চেয়েছে, এই মধুর সহযোগিতা শেষ হয়ে যাবে যদি তারা কোনো অবরোধ দেয়। থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠান সিলভারেদো পলিসি অ্যাক্সিলারেটরের চেয়ারম্যান দিমিত্রি আলপেরুভিচ জানান, গ্রেফতারের যে ঘটনা ঘটেছে সেটি কাকতালীয় নয়। ইউক্রেনে মস্কোর ভূমিকা নিয়ে বাইডেন প্রশাসন যদি বড় কোনো অবরোধ দেয় তাহলে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করবে ক্রেমলিন।
এ গ্রেফতারের মাধ্যমে মস্কো এটিও স্বীকার করে নিল যে রাশিয়ায় বড় কোনো র্যানসমওয়্যার গ্যাংয়ের উপস্থিতি রয়েছে।










