কৃষিতেও বাংলাদেশে বিপ্লব ঘটেছে, যার পেছনের বড় কারণ আইসিটি। কৃষক যেকোনো প্রয়োজনে ইউটিউব, ফেসবুক দেখে কৃষিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। কৃষিতে আইসিটির ব্যবহার করে স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব। বেসিস সফটএক্সপোর গতকাল তৃতীয় দিনের সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ‘ইউজ অব আইসিটি অ্যান্ড ইনক্লুসিভ গ্রোথ’। বেসিস অ্যাডভাইজরি স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এবং সিসটেক ডিজিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম রাশিদুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের।
প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম এ সাত্তার মন্ডল। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক তারিক মাহমুদুল ইসলাম ও বেসিস পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল। অতিথিদের ধন্যবাদ জানান বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ।
ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ ব্যাংক গঠনে আমরা কাজ করেছি, এর সুফল ভোগ করছে রিকশাচালক থেকে শুরু করে দেশের ৪০ শতাংশ কৃষক। এরই মধ্যে ৩২ লাখ স্কুল শিক্ষার্থীর ব্যাংকিং সুবিধা চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এখন স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে।’
মো. ফজলুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশে যত মামলা হয় তার ৭০ শতাংশ জমিবিষয়ক। এ ধরনের মামলা আইসিটি ব্যবহার করে সহজেই সমাধান করা সম্ভব। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে দেশে ৬৫ শতাংশ মানুষের নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করতে হয়। এটাও কমিয়ে আনা সম্ভব। বর্তমানে আধুনিক সব স্মার্টওয়াচ ব্যবহার হচ্ছে। স্বাস্থ্যের সব তথ্য স্মার্টওয়াচের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব। জমিতে কতটুকু পানি, সার প্রয়োজন সবকিছুই আগে থেকে আইসিটির ব্যবহারের ফলে জানা যাচ্ছে। তবে আইসিটির সঠিক ব্যবহারের জন্য দক্ষ জনগোষ্ঠী প্রয়োজন, তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করতে হবে।’
জেবিটা ও বেসিস জাপান ডেস্কের মধ্যে চুক্তি সই: একই দিন বেসিস জাপান ডেস্কের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি সই করেছে জাপান বাংলাদেশ আইটি অ্যাসোসিয়েশন (জেবিটা)। চুক্তির আওতায় জেবিটা জাপানে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসায় সম্প্রসারণ ও বেসিস জাপান ডেস্ক বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জাপানের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রগুলো নিয়ে কাজ করবে।
বেসিস জাপান ডেস্কের পক্ষ থেকে বেসিস পরিচালক ও বেসিস জাপান ডেস্কের সভাপতি একেএম আহমেদুল ইসলাম বাবু ও জেবিটার প্রতিনিধি এ সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এর আগে ‘এ প্রসপেক্টাস অ্যান্ড অপরচুনিটি উইথ জাপান’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইউয়ামা কিমিনরি বলেন, ‘জাইকা বাংলাদেশের সঙ্গে অসাধারণ সব কাজ করছে। এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাতেই হয়। আমরা নারায়ণগঞ্জ ভ্রমণ করেছি। সেখানকার মেয়র নারায়ণগঞ্জকে স্মার্টসিটি হিসেবে গড়ে তুলতে চান। আমরাও আগ্রহ প্রকাশ করেছি কাজ করার জন্য।’
জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি ইচিগুচি তমুহিদে বলেন, ‘বাংলাদেশ আইসিটি খাতে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা আইসিটি ডিভিশনের সঙ্গে স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে অংশীদার হয়েছি।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. শামসুল আরেফিন। এর আগে একই দিনে অনুষ্ঠিত হয় ডেভেলপার কনফারেন্স। তরুণ সফটওয়্যার ডেভেলপারদের অনুপ্রাণিত এবং তাদের কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়।
মেরিটাইমে প্রশিক্ষিত জনবলের অপার সম্ভাবনা: আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশে মেরিটাইমে প্রশিক্ষিত জনবলের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সফটএক্সপোর দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার ‘মেরিটাইম শিক্ষা: লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের ভাবনা আজ বাস্তবে প্রমাণিত। ২০৪১ সাল নাগাদ ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটিরও বাস্তবায়ন হবে।’










