২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বেসিসের প্রস্তাবের আশানুরূপ প্রতিফলন ঘটেনি। সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বেসিস অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেসিস নেতারা এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বাজেটে বেসিসের প্রস্তাবের আশানুরূপ প্রতিফলন ঘটেনি। তারা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিদেশী বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে আমরা কর অব্যাহতির সময়সীমা ২০২৪ সাল থেকে বাড়িয়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত করার প্রস্তাব করেছিলাম, এ বিষয়টি বাজেটে গুরুত্ব পায়নি। অন্যদিকে স্থানীয় সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার ওপর এখন ব্যবসায় পর্যায়ে ৫ শতাংশ হারে উৎসেমূল্য সংযোজন কর কর্তন করা হয়, দেশের সফটওয়্যার শিল্পের অনুকূলে স্থানীয় বাজার সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে তা প্রত্যাহারের প্রস্তাব রেখেছিলাম। পাশাপাশি, সব মন্ত্রণালয় ও তাদের অধিভুক্ত সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের জন্য যে বাজেট রয়েছে তার অন্তত ১০ শতাংশ সফটওয়্যার এবং আইটিইএস ক্রয়ের জন্য বরাদ্দেরও প্রস্তাব করেছিল বেসিস। কিন্তু এগুলোর বিষয়ে এবারের বাজেটে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আমরা দেখতে পাইনি।
বেসিসের বাজেট প্রতিক্রিয়া শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বেসিস সহসভাপতি (প্রশাসন) আবু দাউদ খান, বেসিস সহসভাপতি (অর্থ) ফাহিম আহমেদ ও বেসিস পরিচালক একেএম আহমদুেল ইসলাম বাবু।
জাতীয় সংসদে ৯ জুন ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করায় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বেসিস সহসভাপতি (প্রশাসন) আবু দাউদ খান বলেন, বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য বরাদ্দ গত বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ১৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ২৭৪ কোটি টাকা বেড়েছে। তবে এ অর্থ কোন কোন প্রকল্প বা খাতে ব্যয় হবে, তার মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প এবং এ খাতের ব্যবসায়ীরা কীভাবে উপকৃত হবেন সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ধারণা বা ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
সরকার যদিও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে ২০৪১ সাল নাগাদ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, ২০২২ সালকে তথ্যপ্রযুক্তি বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে, কিন্তু তার সঙ্গে সংগতি রেখে বাজেটে বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব বৃদ্ধি পায়, সে বিষয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আমাদের চোখে পড়েনি বলে দাবি বেসিসের।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, বিশেষত ল্যাপটপ, প্রিন্টার, টোনার ইত্যাদির ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে করে এ খাতের ব্যবসায়ী এবং ভোক্তা উভয়েরই ব্যয় বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা বেসিসের।










