আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য যেসব প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, তাতে ডিজিটাল বাংলাদেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন দেশের তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠনের নেতারা। পাশাপাশি ইন্টারনেটের প্রসারও ব্যাহত হবে।
গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনগুলোর নেতারা এ কথা জানান। এ সময় সেখানে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), বাংলাদেশ
অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), ইন্টারনেট
সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি), বাংলাদেশ
অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো) ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে ল্যাপটপের মূল্য ৩১ দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়বে। এছাড়া প্রিন্টার, টোনার ও কার্ট্রিজের মূল্য ১৫ শতাংশ এবং ইন্টারনেটের মূল্য ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের অন্যতম অন্তরায়।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সহসভাপতি আবু দাউদ খান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে অপ্রত্যাশিতভাবে ইন্টারনেট, ল্যাপটপ ও প্রিন্টারের ওপর ভ্যাট ও ট্যাক্স বসানো হয়েছে, যা প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন ক্ষমতা ও চাহিদা পূরণে সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত ল্যাপটপ আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক সাধারণ ব্যবহারকারীদের ল্যাপটপ চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হবে। প্রযুক্তি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ট্যাক্স অব্যাহতি সুবিধা দিতে হবে।
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি মো. ইমদাদুল হক বলেন, আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্রডব্যান্ড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ১০ শতাংশ অগ্রিম ট্যাক্স আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি অপটিক্যাল ফাইবার কেবল আমদানিতে আরো ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এতে ইন্টারনেট সংযোগের পাশাপাশি গ্রাহকদের খরচও বাড়বে।
তিনি বলেন, দেশে যে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল তৈরি হয়, তা মানসম্পন্ন নয়। প্রয়োজনের তুলনায় এর পরিমাণ খুবই কম। আমাদের দাবি আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইটিএস খাতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ১০ শতাংশ অগ্রিম ট্যাক্স ও অপটিক্যাল ফাইবার কেবল আমদানির ট্যাক্সও প্রত্যাহার করতে হবে।
সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বাক্কো) সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ বলেন, ল্যাপটপ ও প্রিন্টারের ওপর প্রস্তাবিত ট্যাক্স ও শুল্ক বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) খাতকেও প্রভাবিত করবে। ভ্যাট আরোপের ফলে খরচ বাড়বে। এতে অনেক প্রতিষ্ঠান আউটসোর্সিংয়ের কাজ করতে চাইবে না। সমস্যা সমাধানে ল্যাপটপ ও প্রিন্টারের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করতে হবে।
ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতি শমী কায়সার বলেন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের মূল্য বাড়ানো হলে উদ্যোক্তাদের ব্যয়ও বেড়ে যাবে।
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত সরকার বলেন, বাংলাদেশে ল্যাপটপ উৎপাদনের প্রযুক্তি কারখানা এখনো স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। এক-দুটি প্রতিষ্ঠান স্বল্প পরিসরে উৎপাদন শুরু করলেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল।










