যেকোনো জরুরি ও জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে রোবট ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে সানফ্রান্সিসকো। শহরটির পুলিশ বিভাগকে এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। খবর ইউএসএটুডে।

নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এ বিষয়ে ভোটাভুটি সম্পন্ন হয়। ভোটে রোবটের ব্যবহার ৮-৩ এ জয় পেয়েছে। নাগরিক স্বাধীনতা ও অন্যান্য পুলিশ তদারকি গোষ্ঠী এর তীব্র নিন্দাও জানিয়েছে। বিরোধীরা জানায়, দেশটির পুলিশ দরিদ্র ও সংখ্যালঘিষ্ঠদের বিপরীতে খুবই আক্রমণাত্মক। নতুন এ সিদ্ধান্ত পুলিশ প্রশাসনকে আরো বেশি সামরিক শক্তিতে বলীয়ান করবে।

প্রশাসনিক তথ্যানুযায়ী, দৈনন্দিন বা সাধারণ তদন্তে এটি ব্যবহার করা যাবে না। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে বা সমস্যা তৈরি হলে তখনই এটি ব্যবহার করা যাবে। এক সাক্ষাত্কারে সানফ্রান্সিসকোর পুলিশ বিভাগ (এসএফপিডি) জানায়, প্রাণঘাতী বল প্রয়োগে সক্ষম কোনো রোবট এখনো তাদের অস্ত্রাগারে নেই। এমনকি কোনো রোবটের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়ারও কোনো চিন্তাভাবনা নেই।

রোবটের সম্ভাব্য ব্যবহার ব্যাখ্যা করে পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, সহিংস, সশস্ত্র ও বিপজ্জনক অপরাধীরা ঘাঁটি গেড়েছে এমন সুরক্ষিত আস্তানায় প্রবেশের ক্ষেত্রে রোবটের সঙ্গে বিস্ফোরক জুড়ে দেয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কম হবে। অপরাধীদের অজ্ঞান বা বিভ্রান্ত করতেও রোবট ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন তারা।

বিবিসি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হাতে নতুন এ রোবট ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের সক্ষমতা থাকবে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য প্রদেশে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগে সক্ষম রোবট ব্যবহারের চল আছে।

২০১৬ সালে এক স্নাইপারধারীকে দমনে সি-ফোর বিস্ফোরকবাহী রোবট ব্যবহার করেছিল ডালাস, টেক্সাসের পুলিশ। ওই স্নাইপারের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন দুই পুলিশ অফিসার। আহত হয়েছিলেন আরো কয়েকজন।

পুলিশি কাজে রোবট ব্যবহারের বিষয়ে বিরোধীরা বলছে, এ ধরনের নীতিমালার কারণে দায় এড়িয়ে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের সুযোগ বাড়বে। স্টপ কিলার রোবট ক্যাম্পেইন দলের সদস্য ড. ক্যাথেরিন কনেলির মতে, এ অনুমোদনের ফলে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ এর পরিণতির সঙ্গে মানুষের দূরত্ব বাড়বে। বর্তমানে সানফ্রান্সিসকো পুলিশের তত্ত্বাবধানে এক ডজন রোবট রয়েছে, যেগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে বোমা নিষ্ক্রিয়করণের পাশাপাশি অন্ধকারে পর্যবেক্ষণও করা যায়। ২০১০-১৭ সালের মধ্যে পুলিশ প্রশাসনের কাছে রোবটগুলো সরবরাহ করা হয়েছে।