ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা পিসি বিক্রিতে বেহাল দশা কাটছেই না। এ নিয়ে টানা চার প্রান্তিকে বৈশ্বিক পিসি বিক্রি কমল। প্রযুক্তি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ক্যানালিস, আইডিসি ও গার্টনার-এ তিন সংস্থারই প্রতিবেদনে বিক্রি হ্রাসের কথা বলা হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) বরাতে জানা গেছে, অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে বৈশ্বিক পিসি বিক্রি কমেছে ২৮ শতাংশ। গার্টনার বলছে, পিসি বিক্রি কমেছে ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে ক্যানালিসের উপাত্তে ২৯ শতাংশ বিক্রি হ্রাসের দাবি করা হয়।
২০২২ সালে পিসি বিক্রি ২০২১ সালের তুলনায় কমেছে ১৬ শতাংশ। তবে আইডিসির বিশ্লেষকের রায়ান রিথ বলেন, ‘পিসি বাজারের অবস্থা ততটা খারাপ নয়। ২০২১ সাল ছিল রেকর্ড পিসি বিক্রির বছর। চাঙ্গা বছরের সঙ্গে তুলনায় ২০২২ সালে পিসি বিক্রি কমেছে। ২০২২ সালের পিসি বিক্রি করোনা-পূর্ব ২০১৯ সালের চেয়ে বেশি। সামনের দিনগুলোয় পিসি বাজারে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।’
গার্টনার বলছে, গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে বৈশ্বিক পিসি বিক্রি হয়েছে ৬ কোটি ৫৩ লাখ ইউনিট। ক্যানালিসের উপাত্তে বলা হয়, ৬ কোটি ৫৪ লাখ ও আইডিসির উপাত্তে ৬ কোটি ৭২ লাখ ইউনিট।
চতুর্থ প্রান্তিক কোনো পিসি নির্মাতার জন্যই ভালো যায়নি। সব কোম্পানিই লোকসান কমানোর চেষ্টা করলেও শীর্ষ তিন কোম্পানি দুই অংকের লোকসান গুনেছে। গার্টনারের প্রতিবেদনে বলা হয়, চতুর্থ প্রান্তিকে অ্যাপলের বিক্রি কমেছে ১০ দশমিক ১ শতাংশ। ক্যানালিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোভিত্তিক জায়ান্টটির বিক্রি কমেছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। শীর্ষ তিন পিসি নির্মাতা কোম্পানির মধ্যে ডেল সর্বোচ্চ ৩৭ শতাংশ লোকসান গুনেছে। এইচপি ও লেনোভোর বিক্রি কমেছে যথাক্রমে ২৯ ও ২৮ শতাংশ।
ক্যানালিসের উপাত্তে দেখা গেছে, চতুর্থ প্রান্তিকে ১ কোটি ৫৫ লাখ ইউনিট পিসি বিক্রির মাধ্যমে শীর্ষস্থান লেনোভোর। পুরো বছরেও বিক্রির দিক থেকে শীর্ষস্থান চীনভিত্তিক কোম্পানিটির। ২০২২ সালে লেনোভোর পিসি বিক্রি হয়েছে ৬ কোটি ৮১ লাখ ইউনিট। চতুর্থ প্রান্তিকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা এইচপির পিসি বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ ইউনিট। পুরো বছরে মার্কিন কোম্পানিটির পিসি বিক্রি হয়েছে ৫ কোটি ৫২ লাখ ইউনিট। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে তৃতীয় স্থানে থাকা ডেলের পিসি বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ইউনিট। তবে বছরের শুরুতে চাঙ্গা বিক্রির ওপর ভর করে ২০২২ সালে ডেলের মোট পিসি বিক্রি হয়েছে ৪ কোটি ৯৭ লাখ ইউনিট। বছরের শেষ প্রান্তিকসহ ২০২২ সালজুড়ে বৈশ্বিক পিসি বিক্রিতে চতুর্থ স্থান অ্যাপলের। চতুর্থ প্রান্তিকে অ্যাপলের ম্যাক পিসি বিক্রি হয়েছে ৭২ লাখ ২৯ হাজার। ২০২২ সালে অ্যাপলের পিসি বিক্রি হয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ইউনিট।
চতুর্থ প্রান্তিকে পিসি বিক্রি হ্রাসের বিষয়টি প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের জন্য উদ্বেগের। বছরের শেষ অংশে সাধারণত বিক্রি বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে দেখা যায় বিভিন্ন কোম্পানির। ছুটির মৌসুমের কেনাকাটা কিংবা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন অফার সত্ত্বেও চাঙ্গা করা যায়নি পিসি খাত। গার্টনার বলছে, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি উপাত্ত রাখা শুরুর পর চতুর্থ প্রান্তিকে এবার সর্বনিম্ন বিক্রি হয়েছে। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও আসন্ন অর্থনৈতিক সংকটের শঙ্কায় ভোক্তারা অপ্রয়োজনীয় কিংবা কম দরকারি পণ্য ক্রয় কমিয়ে দিয়েছে।
চলতি বছরেও পিসি বাজার চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। আইডিসির আশাবাদ, ২০২৪ সালে পুনরুদ্ধার হবে বৈশ্বিক পিসি বাজার।










